রংপুর সংবাদ » বেরোবি ভিসির ক্যাম্পাসে থাকার দাবিতে এবার আন্দোলনে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি

বেরোবি ভিসির ক্যাম্পাসে থাকার দাবিতে এবার আন্দোলনে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ২২, ২০১৯, ৬:২১ অপরাহ্ন
বেরোবি ভিসির ক্যাম্পাসে থাকার দাবিতে  এবার আন্দোলনে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি

রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে সার্বক্ষনিক ক্যাম্পাসে উপস্থিতি, নিয়োগ ও বাছাই বোর্ড, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির সভা সহ সকল গুরুত্বপুর্ন সভা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে শিক্ষক সমিতি তাদের দাবি দাওয়া সম্বলিত স্মারক লিপি উপাচার্যের কাছে প্রদান করেছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গাজি মাযহারুল আনোয়ার স্মারকলিপি দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করেছে উপাচার্য পদে যোগদানের পর থেকে গত প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন এবং রেজিষ্টর ও প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা হয়েও আবু হেনা মোস্তফা কামাল তিনি দীর্ঘ ধরে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন।

তার ফলাফল স্বরুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন গনমাধ্যমে অনেকবার শিরনাম হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগ জনক অবস্থায় পৌছানোর ফলে শিক্ষক সমিতি গত ৬ অক্টোবর সমিতির সভায় উপস্থিত সদস্যরা উপাচার্য ও রেজিষ্টারের দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি তাদের জানানোর জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে উপাচার্য শিক্ষক সমিতির সাথে সাক্ষাৎ করতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে আবারো শিক্ষক সমিতি গত ৪ নভেম্বর তারিখে আবারো সভা করে দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যকে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই আলোকে বৃহসপতিবার বিকেলে শিক্ষক সমিতি দাবি দাওয়া সম্বলিত চিঠি উপাচার্য অনুপস্থিত থাকার কারনে তার পিএস আমিনুর রহমানের কাছে প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্য এ প্রতিনিধিকে জানান উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ প্রায় তিন বছর হতে চললো উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন তিনি বেশির ভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন সেখানে তার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পর্যবেক্ষন সংস্থা জানপপের কাজ করেন।

তার ইচ্ছা মতো মাসে কয়েকদিন ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন। গত বছর ২০১৮ সালে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১শ দিনের মতো তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন আর ২৬৫দিন অনুপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাসে তার উপস্থিতিটা হলো হয় সকালে না দুপুরের বিমানে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন আবার বিকেলের বিমানে ঢাকায় চলে যান। গত বছর তিনি সর্ব্বচ্য ১৫দিন রাত কাটিয়েছেন ক্যাম্পাসে তার নিজস্ব বাস ভবনে।

অথচ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কর্তৃক তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দান করেছিলেন তার প্রধান শর্ত ছিলো যে তাকে সার্বক্ষনিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু তিনি নিয়োগের প্রধান শর্ত পালন করছেননা।

এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজো অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা সহ গুরুত্বপুর্ন সকল সভা সেখানে অনুষ্ঠান করেন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঢাকায় যেতে হয়। অথচ ক্যাম্পাসেই সিন্ডিকেট সভা সহ সকল সভা করার জন্য সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত অবকাঠামো রয়েছে। একই ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত সকল সভা চাকুরী প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ঢাকায় নেন।

ফলে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে নিয়োগের সচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলেন উপাচার্যের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে চরম স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সর্বচ্য কর্মকর্তা হিসেবে রেজিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামালও ধারাবাহিক ভাবে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভা না করে ঢাকায় করার কারনে সিন্ডিকেটের দুই সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক অদ্যাপক গাজি মাযহারুল আনোয়ার ও অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিগত বেশ কয়েকটি সভা বয়কট করেছেন।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অচিরেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি বিষয়টি একাধিক শিক্ষক নেতা নিচ্ছিত করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গাজি মাযহারুল আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমরা দাবি দাওয়া সম্বলিত স্মারক লিপি উপাচার্যের কাছে বৃহসপতিবার দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু উনি ক্যাম্পাসে না থাকায় তার পিএসকে দিয়ে এসেছি। পরবর্তী করনীয় নিয়ে শিক্ষক সমিতির সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সিন্ডিকেট সভা বয়কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমরা উপাচার্যকে বলেছি সভা ক্যাম্পাসে করতে উনি না না করায় আমরা সভায় যাচ্ছি না।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি