
রেজাউল করিম মানিক।
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজও করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে, এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ডও চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য গুরুজনদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি উৎসবের সময়। এ উৎসবকে সামনে রেখে তিনি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। একইভাবে এখন দেশের উন্নয়ন ও গঠনের কাজেও সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ সবার, তাই দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক সবার অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দুর্গোৎসব দেখতে রংপুর রাধা গোবিন্দ মন্দিরে তিনি প্রবেশ করে কুশলাদি বিনিময়ের পরে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে দুই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো জনতা স্বাগত জানান।
এর আগে, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফারহাদ হোসেন আজাদসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তিনি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের যাত্রাপথে তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরের পথসভায় বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রংপুর নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
রংপুরের ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটি ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। একই দিনে তার রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনেরও কর্মসূচি রয়েছে।
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দেখে বাস থামান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাটসহ বিভিন্ন খেলা সামগ্রী উপহার দেন।
তিনি আরও বলেন, এসময়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে কলেজের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের অনুরোধ জানাই। এখানে দুটি ছাত্রাবাস এবং একটি হল রুম চেয়েছি। আমাদের চাওয়াগুলো লিখিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।
Leave a Reply