1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
প্লাস্টিক বোতল দিলে পাওয়া যাবে কম্বল - রংপুর সংবাদ
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

প্লাস্টিক বোতল দিলে পাওয়া যাবে কম্বল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৭৩ জন নিউজটি পড়েছেন

রংপুর অফিস:
শীতার্ত মানুষদের কাছ থেকে ১০ টি করে প্লাস্টিক বোতল নিয়ে একটি করে উপহার স্বরুপ কম্বল দিয়ে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ‘’চলো স্বপ্ন ছুই” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
শনিবার সকাল থেকেই রংপুরের কামারপাড়ায় এই আয়োজন করে সংগঠনটি।

গত ৫০ বছরে পৃথিবীতে মাথাপিছু এক টনের বেশি প্লাস্টিক পণ্য উৎপন্ন করা হয়েছে। এসব অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ১০ শতাংশ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলেও অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ পরিবেশকে নানাভাবে বিপন্ন করে তুলছে প্রতিনিয়ত।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮৭ হাজার টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য রিসাইকেল হয় না বলে বছরের পর বছর নালা, খাল, বিল তথা প্রকৃতিতে বিরজমান থেকে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমন ক্ষতির বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে রংপুর নগরীর কামারপাড়ায় আয়োজন করা হয়েছে ‘’চলো স্বপ্ন ছুই” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে SDG12 এর আলোকে PLASTIC WRAP COMFORT EXCHANGE শিরনামে এক ভিন্নধর্মী সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন।

উত্তরবঙ্গের তীব্র শীতে গরম কাপড় না থাকায় আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন প্রতিবছর কয়েক শতাধিক মানুষ। এই কণকণে শীতে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং একটু উষ্ণতার পরশ ছড়িয়ে দেওয়াই হলো তাদের এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।

এই ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপে প্রায় ২০০ পরিবার কে কম্বল উপহার দিয়েছেন ১০টি করে প্লাস্টিক বোতল এর বিনিময়ে।

প্রত্যেকজন শীতার্ত মানুষের কাছ থেকে তারা ১০ টি করে প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ করেছেন,তারা ১০টি করে প্লাস্টিকের বোতল ট্রাস বক্সে জমা দিয়ে তাদের প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর থেকে একটি করে উপহার স্বরুপ কম্বল নিয়েছেন।

তারা কিছু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পৌছে দিতে পেরেছেন প্লাস্টিকের দূষণের সচেতনতার বার্তাটি এবং এরই সাথে তাদের মাঝে এই শীতে উপহার স্বরুপ একটি করে কম্বল দিয়েছেন।

সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই এই উদ্যোগের মূল কারন বলে জানিয়েছে ‘চলো স্বপ্ন ছুই’ সংগঠনের সদস্যরা।

রংপুরে প্রথমবারের মত তারাই এই উদ্যোগ নিয়েছেন,তাদের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

 

এই উদ্যোগের মাধ্যমে চলো স্বপ্ন ছুঁই মানবসমাজকে একটি ম্যাসেজ দিতে চায়- প্লাস্টিকের ফলে পরিবেশ যে হারে দূষিত হচ্ছে তা ধীরে ধীরে হুমকি স্বরূপ হচ্ছে। এই প্লাস্টিকেই পরবর্তীতে মানবসমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

 

সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বোতল গুলো তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন রি- সাইকেলের জন্য ।

প্লাস্টিক বর্জ্যকে ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি বেশি রিসাইকেলের আওতায় আনলে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমে আসবে তেমনি উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।প্লাস্টিক রিসাইকেলিং শুধুমাত্র প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে না বরং পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করে, এটিকে আরও পরিষ্কার এবং সবুজ করে তোলে।

মোঃ আউয়াল মিয়া (৬৮) বলেন, “হামরা তো গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। এই কম্বল খান প্যায়া খুব উপকার হইল। শীতের দিনোত এরাগুলো হামার পাশত আসি দাড়াইছে হামাক অনেক আনন্দ নাগছে।দোয়া করি আল্লাহ ছাওয়াগুলার ভাল করুক”।

 

মোঃ শহিদার রহমান (৫৬) বলেন, ” ছাওয়া গুলাক হামরা ১০টা করি নষ্ট বোতল দিছি, দিইয়া এখান করি কম্বল পাছি। তাতে করি পরিবেশ সুরক্ষা পাবে হামরাও কম্বল পেয়া খুশি। হামরা তো এইল্লা পাই না। এমরা দিলো, হামরা খুবে সন্তষ্ট”।

 

মোছাঃ মোছলেমা বেগম (৩৪) বলেন, “এখানে একটা সচেতনতা মূলক আয়োজন করছে তারা। এখানে প্লাস্টিকের পুনরায় ব্যবহার সম্পর্কে জানাইলো তারা। আমরা চেষ্টা করছি এই বিষয় গুলার সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য। আজকে এই ১০টা করে প্লাস্টিক বোতল দিয়া আমরা কম্বল পাইলাম। আমরা এখন থেকে চেষ্টা করবো পরিবেশটা সুরক্ষা করার প্লাস্টিক দূষণ রোধ করার”।

চলো স্বপ্ন ছুঁই এর সহ প্রতিষ্ঠাতা মো: তানজিম আলম তাসিন বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সুরক্ষিত প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পৃথিবী উপহার দেয়ার জন্য আমাদের আজকের এই উদ্যোগ। আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছি, এই ধারা আমাদের অব্যাহত থাকবে”।

চলো স্বপ্ন ছুঁই এর প্রতিষ্ঠাতা মো: মুহতাসিম আবশাদ জিসান বলেন, ” জাপানের ছোট্ট একটি শহর কামিকাতসু, এ বছর তারা “জিরো প্লাস্টিক ওয়েস্ট” লক্ষ্য স্থির করে এবং তাদের বাসিন্দারা সেই অনুযায়ী রিসাইক্লিং সেন্টারে নির্ধারিত প্লাস্টিক বর্জ্য গুলো ফেলছেন। নিয়মিত তা তদারকি করা হচ্ছে। যদি জাপানের ছোট্ট একটা শহরের যেখানে মাত্র দুইহাজার বাসিন্দা তারা পারেন তাহলে রংপুরের মানুষ কেনো পারবেন না? আসলে এখানে বিষয়টা অভ্যাস এবং যথাযথ তদারকির, আমাদের আজকে এই প্রোগ্রামটা করার মূলত উদ্দেশ্যটাই ছিলো একটা পরিবর্তন নিয়ে আসা নীতিনির্ধারকদের এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে একটা মেসেজ পৌঁছে দেয়া যে আমরা চাইলেই কি না পারি, আমরা আজকে জিরো প্লাস্টিক ওয়েস্ট এর একটা সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করে প্লাস্টিকের বিনিময়ে শীতার্ত মানুষদের উপহার হিসেবে কম্বল দিয়েছে। জিরো প্লাস্টিক ওয়েস্ট সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এই ধরণের ছোট ছোট উদ্যোগ নিলে একটা সময় এই প্লাস্টিক নিয়ে আমাদের আর হুমকির মুখে পড়তে হবে না। সমাজের বিত্তবানরা সেই সাথে কোন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের এই ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখবো”।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun