1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
কলকাতায় যেভাবে গেলেন রোকেয়া, দেহাবশেষ পায়রাবন্দে আনার উদ্যোগ কতদূর? - রংপুর সংবাদ
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

কলকাতায় যেভাবে গেলেন রোকেয়া, দেহাবশেষ পায়রাবন্দে আনার উদ্যোগ কতদূর?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৭৫ জন নিউজটি পড়েছেন

বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নে। এখানেই তাকে ধারণ ও চর্চা করা। নারী মুক্তির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের নামে এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ তার মরদেহ পড়ে আছে সীমান্তের ওপারে সোদপুরের পানিহাটি নামে এক অখ্যাত গ্রামে।

এক যুগ আগে ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর পায়রাবন্দ কলেজ মাঠে ‘রোকেয়া মেলা’-র আলোচনা সভায় রোকেয়ার ভাইয়ের মেয়ে রনজিনা সাবের বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ কলকাতা থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছিলেন। ওই দিন মঞ্চে থাকা রংপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক বিএম এনামুল হক সেই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে উদ্যোগও নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সংগঠনও সেই দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন করে। এরপর বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ আনার বিষয়ে তার পরিবার ও স্থানীয়দের বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি লিখিত আবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠান জেলা প্রশাসক বিএম এনামুল হক। তবে রোকেয়ার স্বজনদের অভিযোগ, ২০১০ সালে ডিসির আবেদনের পর প্রতি বছর আলোচনা হলেও দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনতে কাগজে-কলমে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি এখন গল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে জমিদার জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার এবং রাহেতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরাণীর কোল আলোকিত করেছিলেন এই মহীয়সী নারী।

জানা গেছে, ১৬ বছর পর্যন্ত বেগম রোকেয়ার কেটেছে রংপুরের পায়রাবন্দে। বিয়ের পর কলকাতা ও ভাগলপুরে তার কর্মজীবন কেটেছে। মৃত্যুর পর বেগম রোকেয়াকে কলকাতা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী পানিহাটি গ্রামে দাফন করা হয়। তখন তাকে কলকাতায় দাফনে বাধা দিয়েছিল সেখানকার রক্ষণশীল মুসলিম সমাজ। কারণ তিনি মেয়েদের পর্দা প্রথার বিরোধিতা করেছিলেন। নারী শিক্ষার পক্ষে কথা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত বেগম রোকেয়াকে স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের বন্ধু ব্যারিস্টার আব্দুর রহমানের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে সহযোগিতা করেছিলেন পানিহাটির তৎকালীন পৌরপ্রধান সুনিল পাল। বেগম রোকেয়া আক্ষেপ করে লিখেছেন, আমি কারসিয়ং ও মধুপুর বেড়াইতে গিয়া সুন্দর সুদর্শন পাথর কুড়াইয়াছি। ওড়িশা ও মাদ্রাজে সাগরতীরে বেড়াইতে গিয়া বিচিত্র বর্ণের বিবিধ আকারের ঝিনুক কুড়াইয়া আনিয়াছি। আর জীবনে ২৫ বছর ধরিয়া সমাজসেবা করিয়া কাঠ মোল্লাদের অভিসম্পাত কুড়াইয়াছি।

রোকেয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, বেগম রোকেয়ার শৈশবে মুসলিম সমাজ কঠোর পর্দাপ্রথার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। তখনকার সময়ে বাড়িতে ছেলেদের লেখাপড়াকে গুরুত্ব দেয়া হতো। ছেলেরা পাঠশালায় যাওয়ার সুযোগ পেলেও মেয়েরা তা থেকে বঞ্চিত হতো। কিন্তু বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের রোকেয়াকে পড়াতেন চুপিসারে। দিনের আলোয় যখন জ্ঞানচর্চা নিষিদ্ধ, তখন তিনি রাতের আঁধারেই বোনকে পড়িয়েছেন।

রংপুর জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে যতটুকু করার ছিল আমরা করেছি। চিঠিও দেয়া হয়েছে। এখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun