রংপুর সংবাদ রংপুর সিটি নির্বাচনে জাপার একক প্রার্থী, আ.লীগে ‘বিদ্রোহী’ দুজন - রংপুর সংবাদ

রংপুর সিটি নির্বাচনে জাপার একক প্রার্থী, আ.লীগে ‘বিদ্রোহী’ দুজন


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ৫, ২০২২, ১:৩৮ PM
রংপুর সিটি নির্বাচনে জাপার একক প্রার্থী, আ.লীগে ‘বিদ্রোহী’ দুজন

#রংপুরের মানুষ অতীতে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি, এবারও ভুল করবেন না- মোস্তফা
#রংপুরের মানুষ এবার জেগে উঠেছেন। নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন-ডালিয়া

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থী। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন হোসনে আরা লুৎফা ওরফে ডালিয়া। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আরও দুজন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ১০ জন মেয়র প্রার্থী, ১১টি সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন ও ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৯৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া দুজন প্রার্থী হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান ও কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লতিফুর রহমান। এ ছাড়া জাসদের (ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেহেদী হাসান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। দল থেকে বহিষ্কৃত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফকে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা ছিল। তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র কেনাও হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা জমা দেননি।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মোস্তাফিজার রহমান লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়া আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রংপুরের মানুষ অতীতে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি, এবারও ভুল করবেন না। ইভিএম নিয়ে যেন কেউ কারসাজি করতে না পারে, এ জন্য দলের সব নেতা-কর্মীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যা যা করণীয়, নির্বাচন কমিশন তার সবটাই করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হোসনে আরা লুৎফা মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, ‘রংপুরের মানুষ এবার জেগে উঠেছেন। নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন। আগামী ২৭ ডিসেম্বর জনগণের ভোটবিপ্লবের মধ্য দিয়ে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনব।’

এদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও মহানগর বিএনপির সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি কাওসার জামান সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একটি বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় এবং এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, এমন আশঙ্কায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবদুল বাতেন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু আছে। নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে তাঁর আশা। এ জন্য তিনি প্রতিটি দলসহ ভোটার এবং নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। এরপর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মেয়র নির্বাচিত হন। এ সময় ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। এবার ভোটার বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৯ জন। তৃতীয়বারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৮ ডিসেম্বর তা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ৯ ডিসেম্বর। ২৭ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ ছাড়া সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসির যুগ্ম সচিব নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক আবদুল বাতেনকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।