1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
টয়লেটের ভিতরে পড়ার বই! অনিয়ম তদন্তে কর্মকর্তা আসায় প্রতিষ্ঠান প্রধান উধাও - রংপুর সংবাদ
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

টয়লেটের ভিতরে পড়ার বই! অনিয়ম তদন্তে কর্মকর্তা আসায় প্রতিষ্ঠান প্রধান উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৮৯ জন নিউজটি পড়েছেন
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেটের ভিতর শিক্ষার্থীদের পড়ার বই পাওয়া গেছে। উপজেলার যাদবপুর সিনিয়র দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় এমন উদাসীন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আসার খবর পেয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
অভিযোগ উঠেছে, যাদবপুর সিনিয়র দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার শাহ আলম মিয়া গোপনে মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন। সুপার একক আধিপত্য খাটিয়ে কমিটিতে আপন মামাকে সভাপতি এবং কথিত দাতা এবং অভিভাবক সদস্য করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যে, উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, অনিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক পদে কর্মরত নাশকতা মামলার আসামি এবং বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন দপ্তরিকে স্বপদে বহাল রাখাসহ নানান অভিযোগ রয়েছে।
সুপারের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগে
প্রতিষ্ঠানটিতে অবৈধভাবে কমিটি গঠনসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী ফাইজুর রহমান জানান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বরাবর পূনরায় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন করাসহ প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে তদন্তে আসেন। কিন্তু তদন্ত চলাকালে অনুপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সুপার শাহ আলম মিয়া।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা আসার খবর শুনে মাদরাসাটির সাবেক সভাপতিঃ আব্দুল আজিজ, সাবেক অভিভাবক সদস্য আফছার আলী, রাজা মিয়া ও অভিভাবকসহ স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানের মাঠে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে একজন টয়লেট করতে গিয়ে দেখতে পান সেখানে টিন দিয়ে ২০২১/২০২২ শিক্ষাবর্ষ ছাড়াও বিভিন্ন বই ঢেকে রাখা হয়েছে। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তড়িঘড়ি করে মাদরাসা ছুটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলে সটকে পড়েন।
এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে সেখানে থাকা অভিযোগকারী ফাইজুর রহমান, অভিভাবকবৃন্দ, দাতা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে টয়লেটের ভিতরে বইয়ের স্তুপ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন অব্যবস্হাপনা দেখে তদন্তকারী কর্মকর্তাও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
টয়লেটে বই ও অনিয়মের বিষয়ে মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার শাহআলম মিয়ার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বোর্ড কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল আবেদীন বলেন, মাদরাসার অব্যবস্থাপনার বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবগত করা হয়েছে। সুপার উপস্থিত না থাকায় অভিযোগের বিষয়গুলো সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবারও মাদরাসায় এসে তদন্ত করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলামের নিকট টয়লেটের ভিতরে বই রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে নিজেই যাবো। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun