1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
রংপুরে ফের বিপুল পরিমানে জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার | রংপুর সংবাদ
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

রংপুরে ফের বিপুল পরিমানে জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৮ মে, ২০২১
  • ২৬

রংপুরে থামছেই না নকল বিড়ি উৎপাদন। ফের বিপুল পরিমান জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করেছে কাস্টমস্ এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। উদ্ধারকৃত এসব ব্যান্ডরোলের মূল্য দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা। এসময় মাইক্রোবাসসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বুধবার (০৫ মে) রাতে নগরীর মাহিগঞ্জ সাতমাথা এলাকার চায়না মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন বগুড়ার গোকুল সরকার পাড়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মনতাজুর রহমান (৩৫) ও একই জেলার সদর সুলতানগঞ্জ পাড়ার মৃত মনতাজ উদ্দিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫)। রংপুর ভ্যাট কমিশনার শওকত আলী সাদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, করোনার মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন বিড়ি কারখানায় জাল ব্যান্ডরোল সরবরাহ করে আসছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও চক্রকে চিহ্নিত করতে কমিশনারেটের নিবারক দল কাজ করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিবারক দল বুধবার রাতে রংপুরের চায়না মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় বগুড়া থেকে একটি মাইক্রোবাস ওই এলাকায় আসলে নিবারক দলের সদস্যরা তা তল্লাশি করে প্রায় ৪০ প্যাকেট জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করে। যার মূল্য দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা। এসময় মাইক্রোবাস জব্দসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানায় মামলার পর পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস্ এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিড়ি উৎপাদনে কর বৃদ্ধি করার পর থেকে অবৈধভাবে বিড়ি উৎপাদন বেড়েছে। এ কারণে বিড়িশিল্প এলাকা বলে পরিচিত রংপুরের হারাগাছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির পাশাপাশি সরকারকে কর দিয়ে আসা বিড়ি ফ্যাক্টরিগুলো তাদের বাজার হারাচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

গত বছর সবচেয়ে বেশি জাল ব্যান্ডরোলসহ সকল বিড়ি উদ্ধার হয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, ১৯ নভেম্বর রংপুরের বেসরকারি বিনোদন স্পট ভিন্নজগত কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন নকল সরকারি ব্যান্ডরোল তৈরির ছাপাখানা এসকে প্রেস এন্ড প্যাকেজিংয়ের সন্ধান পায় পুলিশ। নগরীর সিও বাজার এলাকায় অবস্থিত ওই ছাপাখানায় ছাপানো প্রায় ৫৮ লাখ টাকার নকল ব্যান্ডরোলও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভিন্নজগতের মালিক কামাল হোসেনের ছেলে তৌফিক হাসান তপুসহ তিনজনকে। এ ব্যাপারে এসআই জৌতিষ চন্দ্র বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন।

গত বছর ২৭ জুলাই সাত লাখ টাকা মুল্যের জাল ব্যান্ডরোলসহ নকল বিড়ি উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১৬ জুলাই হারাগাছ পোদ্দারপাড়ায় মৃত সাহেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬০২ টাকার নকল বিড়ি উদ্ধারসহ হারাগাছের দুটি গোডাউন থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পরিবহনের সময় কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন নামের ২৯ লাখ ১২ হাজার শলাকা বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য ছিল ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪০ টাকা। এসব বিড়ি থেকে সরকারের নয় লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৮ টাকা রাজস্ব আদায় হত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

এছাড়া গত বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হারাগাছ এলাকা থেকে ৭০ হাজার নকল ব্যান্ডরোল সংযুক্ত ‘বড়ঘড়ি’ ব্র্যান্ডের বিড়িসহ দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা নগরীর হারাগাছ নতুন বাজার কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার কমাতে গত অর্থ বছরে প্রথম বিড়ি উৎপাদনে প্রায় দ্বিগুন কর আরোপ করে সরকার। এতে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে সরকারকে ৬.৭২ টাকা কর দেওয়া শুরু করে বিড়ি ফ্যাক্টরিগুলো। সরকার ভালো উদ্দেশ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বিড়ির উপর করারোপ করলেও তা বর্তমানে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বিড়ি উৎপাদন না কমে বরং বেড়েছে। আর নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের ফলে সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাতে হচ্ছে।

বৈধ ফ্যাক্টরগিুলোকে প্রতিমাসে কাস্টমস্ অফিসে তাদের উৎপাদন ও ব্যবসার রিটার্ণ দিতে হয়। কিন্তু অবৈধ ফ্যাক্টরিগুলো কোন হিসেব না দিয়েই বিড়ি উৎপাদন করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিড়ি ফ্যাক্টরির এক মালিক জানান, সরকারকে নিয়মিত কর দিয়েও তাদেরকে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ফ্যাক্টরিগুলো কর না দিয়েও দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদাকাত হোসেন ঝন্টু বলেন, অবৈধ ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ না হলে বিড়িশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিড়ি ফ্যাক্টরি করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, অবকাঠামো, অগ্নি নিবারক যন্ত্র, ট্রেজারী বই, বৈধ ডিলার, শ্রম অধিদপ্তরের সার্টিফিকেটসহ আরো বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। রংপুরের হারাগাছের ২৫ থেকে ৩০টি বিড়ি ফ্যক্টরি শর্ত পূরণ করে বৈধভাবে বিড়ি উৎপাদন করে সরকারের দেওয়া নির্ধারিত ব্যান্ডরোল প্যাকেটের গায়ে লাগিয়ে বিড়ি বাজারজাত করে আসছিল। তবে কর বৃদ্ধির পর নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে বৈধ ফ্যাক্টরিগুলোর নাম ও বিড়ির ডিজাইনের সাথে মিল রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বিড়ি উৎপাদন করে বাজারজাত করছে।

সূত্র আরো জানায়, এই অল্প সময়ের মধ্যে কর ফাঁকি দিয়ে শুধু রংপুরেই নামে-বেনামে ছোট ছোট প্রায় ৩০০ বিড়ি ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। যার কোন প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নেই। নিজেদের বাড়িতে গোপনে বিড়ি উৎপাদন করে প্যাকেটের গায়ে নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিড়ি ফ্যাক্টরির মডেলের সাথে মিল রেখে তুলনামূলক কম দামে বিড়ি বাজারজাত করছে তারা। এতে ডিলাররাও অধিক লাভের আশায় বৈধ ফ্যাক্টরিগুলো থেকে নামমাত্র বিড়ি কিনে সেগুলোর সাথে কর ফাঁকি দিয়ে উৎপাদিত বিড়ি বাজারজাত করছে। ফলে বৈধ ফ্যাক্টরিগুলো তাদের বাজার হারাচ্ছে।

তবে রংপুর কাস্টম্স অফিসের দাবি মাত্র ১৮৭টি বিড়ি ফ্যাক্টরি ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করেছে। বিড়ি ফ্যাক্টরির সংখ্যা কোনভাবেই অত বেশি নয়। বৈধ ফ্যাক্টরিগুলো বিগত ২০১৯ সালের তুলনায় বিড়ি উৎপাদন অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে কাস্টম্স কর্তৃপক্ষ জানায়,বিগত সময় বৈধ ফ্যাক্টরিগুলো বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি বিড়ি উৎপাদন করতো। বর্তমানে তারা এক হাজার ৭০০ কোটি বিড়ি উৎপাদন করছে। উৎপাদিত এই বিড়ি বাজারজাত করতে ফ্যাক্টরিগুলো প্রায় ৬৮ কোটি ব্যান্ডরোল কিনছে। যা থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। আর অবৈধ ফ্যাক্টরিগুলো কোন ব্যান্ডরোল না কিনেই বছরে প্রায় ৬০০ কোটি বিড়ি উৎপাদন করছে। এতে প্রতিবছর সরকার প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রংপুরের কমিশনার শওকত আলী সাদী জানান, যারা কর ফাঁকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কাস্টমস্। ইতোমধ্যে ৪৫টি বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কর ফাঁকির মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun