রংপুর সংবাদ » করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় তেমন প্রস্তুতি নেই বুড়িমারী স্থলবন্দরে

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় তেমন প্রস্তুতি নেই বুড়িমারী স্থলবন্দরে


রংপুর সংবাদ মার্চ ১২, ২০২০, ৭:০২ অপরাহ্ন
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়  তেমন প্রস্তুতি নেই বুড়িমারী স্থলবন্দরে

মাহির খান,লালমনিরহাটঃশুধুমাত্র ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নামমাত্র পরীক্ষা করা হলেও ভারতীয় ট্রাক চালকদের পরীক্ষা করার নেই কোনো তৎপরতা।

ডিজিটাল থার্মোমিটার, কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে চলছে করোনাভাইরাস শনাক্তের কাজ। ফলে এই স্থলবন্দরে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে এমন অভিমত সচেতন মহলের।

জানা গেছে, প্রতিদিন বাংলাদেশ, ভারত, ভূটান ও নেপাল থেকে ৬ থেকে ৭ শতাধিক পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন দেশের অন্যতম এই স্থলবন্দর দিয়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি বুড়িমারী স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তের কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা এবং দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শিফট অনুযায়ী কাজ করছেন এখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা।

প্রতিদিন ইমিগ্রেশন অফিসের কাজ শেষ করে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় স্বাস্থ্য ইউনিটে। সেখানে একজন স্বাস্থ্য কর্মী ডিজিটাল থার্মোমিটার কপালে ঠেকিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা দেখেন। এর মধ্যে আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মী সচেতনতামূলক কথা বলে পাসপোর্ট থেকে যাত্রীদের নাম ঠিকানা লিখে রাখছেন। কিন্তু ভারতীয় ট্রাক চালকদের তেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এদিকে অভিযোগ আছে, থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হলেও ট্রাকচালক, সহকারী ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মীরা অবাধেই সীমান্ত অতিক্রম করছেন ও ফিরছেন। যার ফলে করোনাভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশংকা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত মেডিক্যাল টিমের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভারতসহ ভিনদেশি গাড়ি চালকদেরও যেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ভারত থেকে আসা একাধিক যাত্রী জানান, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে চলে এলেও তেমন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

বন্দরে দায়িত্বরত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তাদের সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা আছে কি না তা দেখা হচ্ছে। হাত-মুখ ধুয়ে ও পোশাক পরিবর্তন করে তারপর অন্যদের সংস্পর্শে যেতে বলা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে তাদের পৃথকভাবে রাখার জন্য পাটগ্রাম হাসপাতালে দুই শয্যা বিশিষ্ট একটি ইউনিট খোলা হয়েছে। আরেকটি ডিজিটাল থার্মোমিটারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে বলা হয়েছে। সেটি এলেই ট্রাক চালকসহ ব্যবসায়ীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হবে।

তবে লালমনিরহাট সির্ভিল সার্জন ডা: নির্মলেন্দু রায় বলেন,আমি সদ্য যোগদান করেছি, তারপরও বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাসপোর্টধারী যাত্রী ও গাড়ির চালক হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি লেখা হয়েছে। আশা করছি দু’এক দিনের মধ্যেই সমাধা হবে।