১৭০ দখলদারের তালিকায় রংপুর সিটি করপোরেশনও | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
১৭০ দখলদারের তালিকায় রংপুর সিটি করপোরেশনও | রংপুর সংবাদ
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ন



১৭০ দখলদারের তালিকায় রংপুর সিটি করপোরেশনও

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০

রংপুর প্রতিনিধিঃ

দখল-দূষণে জরাজীর্ণ রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল। দখলে জীর্ণ এ খালটির বিষাক্ত পানি দূষণ ছড়িয়ে নগরীর জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও সংস্কারের নামে চলেছে হরিলুট। এ অবস্থায় সম্প্রতি খালটির হাল জরিপে ১৭০ জন অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খোদ সিটি করপোরেশনসহ খালটির পারের বাসিন্দা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

শ্যামাসুন্দরী খালটির রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তবে ঐতিহ্যবাহী এই খালের সংস্কার ও পুনঃখননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজটি করবে। খালটি দখলমুক্ত করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে দখলদারদের নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিংও করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৮৯০ সালে খনন করা শ্যামাসুন্দরী খালটি আবারও নাব্যতা ফিরে পাবে।

এই প্রকল্পের আওতায় রংপুরের ঘাঘট নদীর শ্যামাসুন্দরী খালের উৎস মুখ থেকে মাহিগঞ্জ পাটবাড়ী পর্যন্ত খালের দুই পাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার সংস্কারকাজ করা হবে। এর জন্য রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে হালনাগাদ জরিপকাজ শেষ করেছে। জরিপে কেল্লাবন্দ, রাধাবল্লভ, আলমনগর, রঘুনাথগঞ্জ ও ভগি এলাকার ১৭০ জন অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের মধ্যে রয়েছে কেল্লাবন্দ এলাকার জবেদুল, শাহাবুল, আব্দার রহমান, মান্নান, মিন্টু, জব্বার, মোকলেছার, রাধাবল্লভ এলাকার আতাউর রহমান, শহীদ, সিটি করপোরেশন (পাবলিক টয়লেট), প্রফেসর ইসতিয়াক, সেলিম, রিংকু, শরিফুল, আনোয়ার, মাসুদ, নুরুজ্জামান, আজমল হোসেন, আব্দুস সাত্তার, কামনা বেওয়া, খন্দকার মজিদ হিরু, রেজাউল হক, সালেহা পারভিন, সাঈদ আহমেদ, আনোয়ারুল, লিয়াকত আলী, রেজাউল করিম, মজিদ আহমেদ, শোধু চৌধুরী, সুলতান, ইব্রাহীম, সিদ্দিক, আলমনগর এলাকার মজনু মিয়া, আলতাব, আফজালুর রহমান, মানিক মিয়া, সুফিয়া বেগম, বাবলা মিয়া, মুলাটোল উলুম ফাজিল ডিগ্রি কলেজ, শামিম মিয়া, রুহুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, আজিজুল, লিচু মিয়া, শহিদুল গং, নুরি বেগম, জলিলুর রহমান, সাইফুর রহমান, ছাইদুর রহমান, মাহাবুব, আতাউর হক, মঞ্জুর মোর্শেদ, রঘুনাথগঞ্জ এলাকার সাদেকুল ইসলাম, সাগর, মনসুর মণ্ডল, আলহাজ আকবর আলী, জাহাঙ্গির আলম বাদশা, টিঅ্যান্ডটি অফিস, হাফিজুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, শাহীন, কাওছার, শরীফ ইবনে ফয়সাল, ডা. আজাহারুল, পিটিআই ব্রিজসংলগ্ন নাসিমা সুলতানা অলি, মাজেদা বেগম, পিটিআই অফিস, শোয়েব, রোজি, সাইফুর রহমান সাইফ, আসাদুজ্জামান, সেলিম, পাশারীপাড়া ব্রিজসংলগ্ন মতলেবুর রহমান, মশিয়ার রহমান, মুসফিকুর রহমান, আনিছুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, আনোয়ার পারভেজ, কামরুজ্জামান, মানিক মিয়া, ডা. নাদিমুল হাসান, নুর সোলায়মান, সেইকুল আরেফিন, সাদেকুল, আজিজার রহমান খান, আশরিফা গং, এম কে জামান মিলন, জুলফিকার নাগিব, লাবলী বিউটি পার্লার, সাজেদুল হক, ডা. আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, কেরানীপাড়া ব্রিজসংলগ্ন মোস্তাফিজার রহমান বসুনিয়া, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, মিথুন, আব্দুল মান্নান, আফরোজা, বিঞ্চুপদ দেব, চঞ্চল, মোজাফ্ফর, আকবর আলী, বানু, নুরপুর এলাকার দক্ষিণ কামালকাছনা ঈদগাহ মাঠ, ইউসুফ গং, কালু মিয়া, উজ্জ্বল, তাঁতীপাড়া ব্রিজ এলাকার কালীমন্দির, আরশাদ, মুকুল, গোলাম আব্দুল কাদের, কার্তিক মোহন্ত, নারায়ণ, সাব্বির, চিত্তরঞ্জন সরকার, ওয়াহেদুর রহমান, রশিদ, রেজা, মোশারফ, আজিজুল, মিজান মনু, মশিয়ার, আসাদুজ্জামান হাসু, রহমান, সালাম, শাহজাহান, আজম, সাদেক, ফরহাদ, ইব্রাহীম, মেরাজুল, আনোয়ার, আ. সাত্তার, বাদশা মিয়া, শহীদুল ইসলাম, জলিল, জমশেদ, হারুন অর রশিদ গং, মামুন ও মণ্ডলপাড়া ব্রিজসংলগ্ন শাকিল, রুমি, খবির, স্বপন।

অবৈধ দখলদাররা শ্যামাসুন্দরী খালের দুই পার দখল করে টিনের ঘর, আধাপাকা বাড়ি, বাউন্ডারি দেয়াল, দোকান, বহুতল আবাসিক ভবন গড়ে তুলেছে। এতে খালটি সংকুচিত হয়ে কোনো কোনো স্থানে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষের উপকারে খনন করা খালটি এখন নগরবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রংপুর নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, আগামী প্রজন্মকে সুন্দর নগরী উপহার দিতে হলে শ্যামাসুন্দরী খালটিকে বাঁচাতে হবে। খালটি সচল হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় গতি আসবে। বন্যায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। শ্যামাসুন্দরী খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘শাম্যাসুন্দরী রংপুর শহরের প্রাণপ্রবাহ। দীর্ঘদিন দখলে-দূষণে এর প্রাণ ওষ্ঠাগত। খালটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে। শ্যামাসন্দুরী দূষিত হওয়ায় খোকসা ঘাঘট এবং ঘাঘট নদীও দূষিত হচ্ছে। ফলে শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, দূষণমুক্তও করতে হবে।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জানান, সরকারের চারটি সংস্থার সহযোগিতায় নগরীর শোভাবর্ধনের জন্য ১৬ কিলোমিটার খালের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত সার্ভে কাজ শেষ হয়েছে। এই ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৭০ জন খাল দখলকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। খালটি খনন ও প্রটেক্টিভ ওয়াল নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হবে ৭০ কোটি টাকা। আর খালের দুই ধারে পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে ব্যয় হবে আরো ৩০ কোটি টাকা।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, শ্যামাসুন্দরী খাল দৃশ্যমান করতে ঘাঘট থেকে মাহিগঞ্জ পাটবাড়ী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের দুই পাশে সার্ভে কাজ শেষ হয়েছে। শ্যামাসুন্দরী পুনরুদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে। কোনো দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ