রংপুর সংবাদ » রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত শুরু

রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত শুরু


রংপুর সংবাদ মার্চ ৫, ২০২০, ৬:২০ অপরাহ্ন
রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত শুরু

মাহির খান,রংপুরঃ
১৩০ বছর পর অবশেষে দখলমুক্ত হলো ঐতিহ্যবাহী রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে সিটি কর্পোেেরশন, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

১৭০ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে এই অভিযান শুরু হয়েছে। দখল আর দূষণে খালটি এখন ময়লার ভাগাড়। মা শ্যামা সুন্দরী ম্যালেরিয়ায় মারাা গেলে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে রাজা জানুকি বল্লব সেন ক্যানেলটি খনন করলেও সেটি এখন মশার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। খালটি দখলমুক্ত করে হাতিরঝিলের মতো নান্দনিকভাবে সংস্কারের জন্য একটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাবণা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র।

দখল দূষণমুক্ত করতে রংপুরবাসির ১৩০ বছর ধরে অপেক্ষা। দাবি, আন্দোলন, চিঠি চালাচালি নিয়ে মাঠে ছিল নগরবাসি। অবশেষে নগরবাসির দাবির প্রেক্ষিতে শুরু হল খালের দখল উচ্ছেদ অভিযান। খালটির দুই পাড়ে ১৭০ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন আপিল করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় নগরীর চেকপোস্ট এলাকায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।

সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও ডিসি আসিব আহসানের নেতৃত্বে সিটি ও ডিসি অফিসের ১ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ৭ জন নতুন করে মাপার জন্য আপিল করেছেন। ১৬৩ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হলো।

কারো সাথে কোন কম্প্রোমাইজ করা হবে না। শক্তহাতে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। ইতোমধ্যেই অনেক ব্যাক্তি নিজেরাই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন। উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলেই সকল ধরণের আবর্জনা পরিস্কার করে প্রথমে পানির স্রোতধারা নিশ্চিত করার চেস্টা করা হবে। এরপর একটি মেগা প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সাবমিট করা হবে। ঢাকার হাতির ঝিলের আদলে এবং শহরের যানজট মুক্ত করতে এফিলিয়েটিং সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা করে শ্যামাসুন্দরীর প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য নান্দনিকভাবে বাস্তবায়িত করা হবে।

রংপুরের ডিসি আসিব আহসান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। একটানা এই কাজ চলবে। উচ্ছেদের পর খালটিকে প্রবাহমান করার কাজ করা হবে।

এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে নগরবাসী ও নাগরিক নেতারা বলছেন, উদ্যোগ যেন থেমে না যায়, দখলমুক্ত হওয়ার পর যেন নেয়া হয় পরিকল্পিত সংস্কারের উদ্যোগ।