রংপুর সংবাদ » করোনায় ভয়াবহ পরিস্থিতি ইতালি দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানে

করোনায় ভয়াবহ পরিস্থিতি ইতালি দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানে


রংপুর সংবাদ মার্চ ৫, ২০২০, ২:০৩ অপরাহ্ন
করোনায় ভয়াবহ পরিস্থিতি ইতালি দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
করোনা ভাইরাস ভয়াবহভাবে আঘাত হেনেছে ইতালিতে। ইতোমধ্যেই মোট ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) থেকে ১০ দিনের জন্য দেশটি সব স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশটি প্রধান ফুটবল লিগ সিরি এ-এর সব ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। ইতালিতে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। দেশটির ২০টি অঞ্চলের ১৯টিতেই এই রোগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। চীনের পর ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানে। চার মাসে আগে চীনের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব টের পাওয়া গিয়েছিল। বাকি ইতিহাস ভয়াবহ। গত ১২৫ দিন ধরে করোনার প্রকোপে মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ২০২ জন মানুষের। আক্রান্ত হয়েছে ৯৩ হাজার। গোটা বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করেছে, এক অজানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বিশ্ব। এর থেকে মুক্তির উপায় কারো জানা নেই। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্সের।

চীনে শুরু হলেও আপাতত করোনার দাপট সেই দেশে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার উহানে নতুন করে ১১৯ জনের শরীরে সংক্রমণ হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। গত চার মাস ধরে চীনে যেভাবে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল, তার তুলনায় এই সংখ্যা নেহাতই কম; কিন্তু স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।

গোটা পৃথিবীজুড়ে করোনার প্রকোপ ভয়াবহ চেহারা নিতে শুরু করেছে। ইরানে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৯২ জন। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। ইতালিতে মারা গেছে ৭৯ জন। আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ২৬৩ জন। পশ্চিম ইতালিতে আরো ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অবস্থা সামাল দিতে ইরানে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব রকম সহায়তা করবে সেনারা। ইরানের ২৩ জন পার্লামেন্ট মেম্বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতি দক্ষিণ কোরিয়ারও। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার আরব এবং মিসর সফর বাতিল করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে ৫১৬ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে আক্রান্ত পাঁচ হাজার ৩২৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের।

ইতালির নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেলি জানান, দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৬০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সে নতুন করে ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৪ জন। সেখানে অন্তত চারজন মারা গেছে। করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে জার্মানিতেও। দেশটিতে মোট ১৯৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে ৫৫ জন ও স্পেনে ৪৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।

করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে। দেশটির মূল ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৯৮১ জন মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৮০ হাজার ২৭০ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে করোনাভাইরাসে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়াল নয়জনে। সেখানকার সিয়াটলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭। মালয়েশিয়ায় নতুন করে আরো সাতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।

ইরাকে প্রথমবারের মতো একজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৩১ জন। মৃত ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী একজন ধর্মীয় নেতা। তাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুলাইমানিয়াতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সেখানেই তিনি মারা গেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য, এই মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইতালি এবং জাপান সব চেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় আছে। এর মধ্যে জাপানে কয়েক মাসের মধ্যে অলিম্পিক শুরু হওয়ার কথা। জাপান জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অলিম্পিক পেছানোর বা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। সবাই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

এ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রথম করোনার সংক্রমণ ঘটল। সিডনির একটি হাসপাতালে এক সেবিকার শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই সেবিকা বেশ কিছু বয়স্ক রোগীর তত্ত্বাবধান করতেন। জার্মানিতেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮।

কুয়েত ঘোষণা করেছে, ভারত, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের পর্যটকদের কুয়েতে ঢোকার ক্ষেত্রে একটি সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। ওই সব দেশের কুয়েত হাইকমিশনে গিয়ে তাদের করোনার পরীক্ষা করাতে হবে। তার ভিত্তিতে হাইকমিশন একটি সার্টিফিকেট দেবে। সার্টিফিকেট ছাড়া কাউকে সে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে কুয়েত জানিয়ে দিয়েছে।

ভারতেও করোনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার রাজস্থানে এক ইতালীয় পর্যটকের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। বুধবার আরো ১৫ জনের শরীরে ওই ভাইরাস পাওয়া গেছে। যার জেরে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। রাজস্থানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়েছে।

এ দিকে দিল্লির এক আক্রান্ত ইতালি থেকে ফিরে রাজধানীর একটি ফাইভ স্টার হোটেলে পার্টি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। হোটেলের বেশ কিছু কর্মীকে ১৪ দিনের জন্য আইসোলেশনে পাঠিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের বেশ কিছু কর্মীকে আইসোলেশনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সুরক্ষা উপকরণ উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান : করোনাভাইরাসের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে ফেস মাস্ক, গ্লাভস আর প্রোটেকটিভ গাউনের মতো সুরক্ষা উপকরণের সঙ্কটের বিষয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন দেশে এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ও কোম্পানিগুলোকে উৎপাদনের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে প্রতি মাসে আট কোটি ৯০ লাখ মাস্ক, সাত কোটি ৬০ লাখ গ্লাভস এবং ১৬ লাখ জোড়া গগলস প্রয়োজন। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকায় গত ৩১ জানুয়ারি বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা।

এ দিকে নোংরা ব্যাংক নোট থেকে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে সংস্থাটি। এ জন্য লোকদেরকে কাগজের নোটের বিকল্প হিসেবে ‘কন্টাক্টলেস পেমেন্ট’-এর কথা বলা হয়েছে।

ইরানে ৫৪ হাজার বন্দীর জামিন : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তৃতি ঠেকাতে বিভিন্ন কারাগারে বন্দী ৫৪ হাজারেরও বেশি কয়েদিকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেইন ইসমাইলি বলেছেন, যে কয়েদিদের দেহে কভিড-১৯-এর উপস্থিতি পাওয়া যাবে না, কেবল তাদেরই জামিন দেয়া হবে। তবে যেসব বন্দীর সাজার মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি, তাদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে না বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। বিবিসি জানিয়েছে, জামিনে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় ব্রিটিশ-ইরানি সমাজকর্মী নাজানিন জাঘারি-র্যাটক্লিফও আছেন।

আমিরাতে ৪ সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা : করোনা আতঙ্কে পূর্বসতর্কতা হিসেবে আগামী রোববার থেকে চার সপ্তাহের জন্য সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বুধবার দিনের শেষে এ ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, আগেভাগেই এবার বসন্তকালীন ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। তা শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে।