রংপুর সংবাদ » হাতীবান্ধায় স্ত্রীর তিন জমজ সন্তান প্রসব করায় হতাশ দিনমজুর স্বামী

হাতীবান্ধায় স্ত্রীর তিন জমজ সন্তান প্রসব করায় হতাশ দিনমজুর স্বামী


রংপুর সংবাদ মার্চ ৩, ২০২০, ৭:৫১ অপরাহ্ন
হাতীবান্ধায় স্ত্রীর তিন জমজ সন্তান প্রসব করায় হতাশ দিনমজুর স্বামী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় শাপলা খাতুন (২৩) নামের এক নারী একসঙ্গে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তিন সন্তানের দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে। অর্থ সংকটে তিন জমজ শিশু ও মা চিকিৎসার অভাবে পড়ে আছেন নিজ বাড়িতে।

মঙ্গলবার দুপুরে এমন খবরে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল আমিন ও ভুমি সহকারী (এসি ল্যান্ড) গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেন। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী অসুস্থ্য অবস্থায় রংপুরের একটি বে-সরকারী ক্লিনিকে জন্ম হয় তিন শিশুর। টাকা পয়সা না থানায় দুই দিন পর ফিরতে হয় নিজ বাড়িতে।

শাপলা খাতুন উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের মধ্য গড্ডিমারি গ্রামের সাফিউল ইসলামের স্ত্রী। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম দেয়ার ঘটনায় উৎসুক মানুষ তাদের একনজর দেখার জন্য তাদের গ্রামের বাড়িতে ভিড় করছেন। তিন শিশুন নাম রাখা হয়েছে মেয়ে ছেরাতুল জান্নাত, ছেলে আব্দুল্লাহ ও রব্বানী।

জানা গেছে, উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের আবেদ আলীর ছেলে সাফিউল ইসলামের স্ত্রী শাপলা খাতুন এক সংঙ্গে তিনটি শিশুর প্রসব করান। সাফিউল ইসলাম পেশায় দিনমজুর ও রাজমিস্ত্রী। অভাবের সংসার। ধার দেনা করে তার স্ত্রী শাপলা খাতুনকে রংপুরের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে তিনটি সন্তান প্রসব করেন। তিন সন্তান সুস্থ থাকলেও মা প্রচন্ড অসুস্থ। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। তাদের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল আমিন ও ভুমি সহকারী (এসি ল্যান্ড) শামীমা সুলতানা তাদের গ্রামের বাড়ি মধ্য গড্ডিমারীতে দেখতে যান। তিনি চালসহ নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক আসাদুজ্জামান রুবেল বলেন, তিন সন্তানের শারীরিক অবস্থা ভালো হলেও মায়ের অবস্থা ভালো না পরিবারটি খুবই গরিব। তিন সন্তানকে নিয়মিত খাবারসহ বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। না হলে সন্তান তিনটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

শাপলার স্বামী সাফিউল ইসলাম জানান, হাতে টাকা না থাকায় মানুষের কাছে লাভের উপর ২০ হাজার টাকা নিয়ে স্ত্রীর হঠাৎ প্রসব বেদনা উঠলে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। আমি গরিব মানুষ। দিনমুজরি কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই। এই বিপদে কেউ যদি আমাকে সাহায্য করত তাহলে তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকতাম।

গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান রংপুর সংবাদকে বলেন, খবরটি আমি পেয়েছি ওই অসহায় পরিবারটিকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, তিন জমজ শিশু সুস্থ আছে। মায়ের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।