রংপুর সংবাদ » দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা

দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা


রংপুর সংবাদ মার্চ ২, ২০২০, ৭:১০ অপরাহ্ন
দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন ঘিরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা রাজধানী দিল্লিতে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

গণহত্যার পর দিল্লিকাণ্ডকে দাঙ্গার চেহারা দেয়া হয়েছে, সাম্প্রদায়িক রঙ দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ নামে এক নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেন মমতা।

কর্মসূচির সূচনামঞ্চেই বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বলেন, দিল্লিতে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছে। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।

তিনি বলেন, দিল্লিতে যা হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। দিল্লিতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণহত্যা হয়েছে। পরে দিল্লির কাণ্ডকে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক রঙ দেয়া হয়েছে।

‘তাই গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির মাটিতে যেভাবে মানুষ হত্যা হয়েছে, এটি পরিকল্পিত গণহত্যা– এটি কোনো দাঙ্গা নয়। গণহত্যার পর তাকে দাঙ্গার চেহারা দেয়া হয়েছে।

মমতা বলেন, আমরা ধিক্কার জানাই দিল্লিতে যা ঘটেছে। দেশ থেকে স্বৈরাচারী সরকার বিদায় না নেয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, বিজেপি প্ররোচনা দেবে, তবে সংঘাতে জড়ানো যাবে না। আইন হাতে তুলে না নিয়ে বিরোধিতা করতে হবে। দিল্লির সরকারের ঔদ্ধত্য যেন না শিখি।

প্রসঙ্গত দিল্লিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডবে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান।

নিহতদের মধ্যে ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আহতদের মধ্যে অনেকে এখনও ঝুঁকিমুক্ত নন। দৃষ্টিশক্তিও পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে।

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের সংখ্যালঘুদের কানপড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রোববার কলকাতার শহীদ মিনারে ভারতের নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) ঢাল করে মমতাকে তুলাধোনা করেন তিনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনার মদদেই বাংলায় হিংসার আগুন জ্বলেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি মমতা দিদিকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনি কেন উদ্বাস্তুদের আবেগে আঘাত হানছেন?’ এদিকে দিল্লিতে হিংসা ছড়ানো স্লোগান ‘গোলি মারো’ শোনা গেল কলকাতায়ও।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন শহীদ মিনারের সভায়, তখন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থককে বলতে শোনা গেল- ‘দেশ কে গদ্দারোঁ কো/গোলি মারো সালোঁ কো’ (দেশদ্রোহী এসব শালাদের গুলি কর)। খবর এনডিটিভির।

এদিন মঞ্চ থেকে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্লোগান তোলেন, ‘আর নয় সিন্ডিকেট, আর নয় তোলাবাজি। আর নয় স্বজন-পোষণ, আর নয় অনুপ্রবেশ। আর নয় হিংসা। এই স্লোগানগুলো ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সরকার পরিবর্তন করবে।’ এই পরিবর্তনের স্লোগান তুলেই ২০১১ সালে বাম সরকারকে সরিয়ে মসনদ দখল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এবার তৃণমূল সরকারকে সরাতে সেই স্লোগানকেই হাতিয়ার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন মমতাকে আক্রমণ করতে সিএএকে ঢাল করেন তিনি। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে বাংলায় ট্রেন, বাস পুড়েছিল। হিংসা ছড়িয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দিদির মদতেই এই হিংসা ছড়িয়েছিল।

আমি মমতা দিদিকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনি কেন উদ্বাস্তুদের আবেগে আঘাত হানছেন? আপনি শুধু অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থ দেখেন। উদ্বাস্তুরা ভীত ও অবাঞ্ছিত। আমাদের দেশ থেকে যেসব হিন্দুরা ধর্ষিত হয়ে সব হারিয়েছেন, তারা কি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য না?’

এদিকে এদিন কলকাতায়ও শোনা গেল ‘গোলি মারো’ স্লোগান। দুপুর ২টা ২০ মিনিট নাগাদ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন সাত থেকে আটজন বিজেপি কর্মী।

তাদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা। সেই সময় গ্র্যান্ড হোটেলের পাশের গলিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কিছু মানুষ। তাদের হাতে সিএএ ও এনআরসি-বিরোধী পোস্টার। অমিত-বিরোধী পোস্টারও ছিল।

সেই সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে আচমকাই ‘গোলি মারো’ স্লোগান দিতে থাকেন ওই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুহূর্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা দু’পক্ষের মাঝে চলে আসেন। তারা দ্রুত দু’পক্ষকে আলাদা করে দেন। আটক করা হয় তিনজনকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মুরলিধর শর্মা, অতিরিক্ত কমিশনার ডিপি সিংসহ কয়েকজন পুলিশ কর্তা।

দিল্লি বিধানসভা ভোটের প্রচারে শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের উদ্দেশে প্রথমবার এই স্লোগান তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। ভোটের মুখে ওই স্লোগান নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়।

দিল্লি সংঘর্ষের মধ্যে বিজেপির কপিল মিশ্র, প্রবেশ বর্মার মতো বিজেপি নেতারা অবাধে উসকানিমূলক স্লোগান চালিয়ে গেছেন। গত মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়ক অভয় বর্মার মিছিলেও ওঠে ‘গোলি মারো’ স্লোগান।