রংপুর সংবাদ » দিল্লিতে নিহত বেড়ে ৩৮, আহত দুই শতাধিক

দিল্লিতে নিহত বেড়ে ৩৮, আহত দুই শতাধিক


রংপুর সংবাদ ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২০, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
দিল্লিতে নিহত বেড়ে ৩৮, আহত দুই শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃউগ্র হিন্দুত্ববাদী বিদ্বেষের আগুনে জ্বলছে দিল্লি। সেই আগুনে পুড়ে গেছে বহু মুসলিমের ঘর। নীরবতার পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের আগুন দেওয়ায় উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেও। হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক, যার মধ্যে অন্তত ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট জানায়, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছে দিল্লি জিটিবি হাসপাতালে, তিনজন এলএনজিপি হাসপাতাল এবং একজন জাগ পারবেশ চান্দর হাসপাতালে।

নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আহতদের চিকিৎসা খরচও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ১৪৪ ধারা জারি ১০ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে গত ৩৬ ঘণ্টায় বড় কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

বিবৃতিতে জানানো হয়,  এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত ৪৮টি এফআইআর নিবন্ধিত হয়েছে এবং পরবর্তী আরও এফআইআর যথাযথভাবে নিবন্ধ করা হবে। এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫১৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে সহিংসতায় উসকানিদাতা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার মতো ‘সহায়ক পরিবেশ’ এই মুহূর্তে নেই বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ‘যথাযথ সময়ে’ এ এফআইআর দায়ের করা হবে।

উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে বুধবার ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর। বুধবার রাতেই তাকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশ জারি হয়।

কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

টানা চারদিনের হামলায় ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানায়, রোববার পরপর ছয়বার গোয়েন্দা সতর্কবার্তা দেয়ার পরও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি দিল্লির পুলিশ।