রংপুর সংবাদ » আ. লীগ নেতা হতে বসতভিটা বিক্রি, আম-ছালা দুটোই গেল

আ. লীগ নেতা হতে বসতভিটা বিক্রি, আম-ছালা দুটোই গেল


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ৫, ২০১৯, ২:৫৩ অপরাহ্ন
আ. লীগ নেতা হতে বসতভিটা বিক্রি, আম-ছালা দুটোই গেল

ঠাকুরগাঁওয়ের মতো নিম্ন আয়ের অঞ্চলে আওয়ামী লীগের সামান্য একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হতে বসতবাড়ি বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই প্রার্থী আম-ছালা দুটোই হারিয়েছেন। এখন তার মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই।

জানা গেছে, বসতবাড়ি বিক্রি করে আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলেন জিয়াউল হক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আরও পাঁচজন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন মাত্র ২৮টি ভোটে।

প্রার্থী হওয়া আ. লীগ নেতা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৫ নম্বর দুওসুও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়াখোর গ্রামের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার দুওসুও উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয় ওয়ার্ড আ. লীগের নেতারা এ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে সভাপতি পদে আব্বাস আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে বাবুল হোসেন নির্বাচিত হয়।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই প্রার্থীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্যও করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে এ ছবি পোস্ট করেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘ভিটেবাড়ির ৪ শতক জমি বিক্রি করে ৫ নম্বর দুওসুও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলে, জিয়ারুল হক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছেন এবং ভোট চলছে…’

পোস্ট করার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন তাকেই নির্বাচিত করা উচিত। অনেকেই মন্তব্য করেছেন টাকা দিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। আরেকজন মন্তব্য করেছেন আগে বিষয়টি জানলে আমি বাধা দিতাম। জমি বিক্রি করে কাউন্সিলে প্রার্থী হতে হবে, এটা কেমন বিষয়।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। দলের প্রতি অগাধ ভালবাসা এবং নেতৃত্ব দেবার সদিচ্ছার জন্যই তিনি এমন কাজ করেছেন। আবার অনেকেই বলেছেন, টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চলমান ওয়ার্ড কাউন্সিলে দলীয় পদ পাবার আশায় মরিয়া হয়ে উঠেছে দলটির নেতাকর্মীসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে আ. লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন থেকে পদত্যাগ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলের প্রার্থী হয়েছেন প্রায় ৫০ জনের ওপর নেতাকর্মী। সিনিয়র রাজনীতিবিদরা বিষয়টি খারাপভাবেই নিচ্ছেন। তারা বলছেন, অঙ্গ সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি করে মূল দলে আসছে। এতে ওই জায়গাটি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মী সংকট দেখার আশঙ্কা করছেন তারা।

জানতে চাইলে জিয়াউল হক জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। সে জন্য ভিটেবাড়ির জমি বিক্রি করে ওয়ার্ড কাউন্সিলে ৫ নম্বর দুওসুও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী হয়েছিলাম।

দুওসুও ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মুঠোফোনে  বলেন, জমি বিক্রি করে প্রার্থী হয়েছেন বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে উৎসবমুখর পরিবেশে কাউন্সিল হচ্ছে। একই মন্তব্য করেছেন উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার রায়।

ভোটের দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউন্সিলের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন, উপজেলা আ. লীগের সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার রায়, ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি প্রভাত রায়, সাধারণ সম্পাদক আকতার আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছে আ. লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিল। স্থানীয় আ. লীগ নেতাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে সভাপতি ও সম্পাদক। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলকে ঘিরে চলছে প্রচার, প্রচারণা ও মাইকিং। আ. লীগ কাউন্সিল ভোটের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশের রূপ নিয়েছে।