রংপুর সংবাদ » দিল্লিতে সংঘর্ষে মৃত্যু বেড়ে ১৩

দিল্লিতে সংঘর্ষে মৃত্যু বেড়ে ১৩


রংপুর সংবাদ ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২০, ৭:১৩ পূর্বাহ্ন
দিল্লিতে সংঘর্ষে মৃত্যু বেড়ে ১৩

নিউজ ডেস্ক:ভারতের দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ২০০ এর বেশি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈঠক করে দিল্লি পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আহতদের মধ্যে ৫৬ জন পুলিশকর্মী রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে উত্তর-পূর্ব দিল্লি। গুলি, কাঁদানে গ্যাস, ইট-পাটকেল ছোড়া থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এদিন হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এক পুলিশ কর্মীসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০। সন্ধ্যার দিকে উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এদিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুরে হামলাকারীদের গুলিতে আহত সাংবাদিক আকাশ এখন হাসপাতালে। এ ছাড়া জ্বলন্ত মসজিদের ছবি তুলতে গেলে প্রচণ্ড মারধর করা হয় এনডিটিভির দুই সাংবাদিক অরবিন্দ গুণশেখর ও সৌরভ শুক্লাকে। গতকাল সেখানেই হামলার শিকার হন টাইমস অব ইন্ডিয়ার চিত্র সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিত্র সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় তার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা পড়লে শিউরে উঠতে হয়। তিনি জানিয়েছেন, উত্তেজনাপূর্ণ জাফরাবাদ অঞ্চলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলাসহ ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি ও তার সহকর্মী সাংবাদিক।

সিএএ-কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে গত তিনদিন ধরে উত্তাল দিল্লি। সোমবার এক পুলিশ কর্মীসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল হতেই ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায়। লাঠি, রড, ইট-পাটকেল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তে দেখা গিয়েছে অনেককে। বেলা বাড়তেই উত্তেজনা আরও বাড়ে।

দিল্লির উত্তেজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের ডাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজাল, মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজাল বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ও আমি দু’জনেই চাই দিল্লিতে শান্তি ফিরে আসুক। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যা করার তাই করা উচিত’।