রংপুর সংবাদ » বিয়ের অভিনয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

বিয়ের অভিনয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ২, ২০১৯, ২:৪৫ অপরাহ্ন
বিয়ের অভিনয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মিথ্যা বিয়ের অভিনয়ে অপহরণ করে পাঁচদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে লালমনিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের অভিযুক্তরা হলেন- গোকুন্ডা ইউনিয়নের মৃত আব্দুল খালেতের ছেলে আজিজুল ইসলাম (২২), কুড়িগ্রাম জেলার মো. আলমের ছেলে আতিকুর রহমান (২৩), গোকুন্ডা ইউনিয়নের জাহেদুলের ছেলে আরিফুল (২৪), একই ইউনিয়নের মোল্লাটারী এলাকার ছামাদ মিয়ার ছেলে রানা (২০) ও নেছার উদ্দিনের ছেলে জেখারুল ইসলামসহ (২১) অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আজিজুল ইসলাম ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে মওলানা দ্বারা বিয়ে পড়িয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে বন্ধুরা মিলে ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে। পরে তাকে আবার নিজ এলাকা তিস্তায় নিয়ে তার বাড়িতে না উঠিয়ে ওই ইউনিয়নের বড় মসজিদের পাশে বাংলালিংক টাওয়ারের একটি ঘরে নিয়ে যায়। টাওয়ারের ভেতর টিনের চালার ছোট্ট ঘরে সুকৌশলে ছাত্রীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়ে অচেতন করে আজিজুল।

পরে ওই ছাত্রীকে আজিজুলের বন্ধুরা অচেতন অবস্থায় পাঁচদিনে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ২১ অক্টোবর রাতে ওই স্কুল ছাত্রীকে ঢাকায় পাচারের উদ্দেশে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গেলে অজ্ঞান হয়ে পড়লে সেখানে রেখে পালিয়ে যায় আজিজুল।

ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী জানায়, নিজ এলাকার কলেজ ছাত্র আপেলের কাছে প্রাইভেট পড়ত সে। তার মাধ্যমেই মুন্সিটারীর এলাকার আজিজুলের সঙ্গে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে আজিজুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৫ অক্টোবর বিয়ে করবে বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে মৌলভী দ্বারা বিয়েও করে সে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা তহিদুল ইসলাম জানান, আসামিরা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পরই মামলা এজাহারভুক্ত করে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।