রংপুর সংবাদ » শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার উদ্বোধন

শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার উদ্বোধন


রংপুর সংবাদ ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২০, ৮:১৩ অপরাহ্ন
শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার উদ্বোধন

রংপুর প্রতিনিধিঃরংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজ ব্যক্তি উদ্যোগে ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাষা শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন শামীম।

৫২’র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস যেন নিভৃত পল্লীতে পৌছে এবং মায়ের ভাষায় কথা বলার যে অধিকার তা যেন অটুট থাকে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য এই উদ্যোগ।

নিভৃত পল্লীতে প্রতিষ্ঠিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আনন্দে উদ্দেলিত আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে জোতবাজ নামক নিভৃত পল্লীতে শুক্রবার (২১শে ফেব্রুয়ারি)সকালে এই শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভেন্ডাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, ভীম শহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল্লাহ আল গালিব, জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র, রংপুর সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিলন আল মামুন, বাংলা টিভির উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি বাঁধন, কেটিভি রংপুর প্রতিনিধি রুবেল ইসলামসহ অন্যান্যরা ।

এদেশের স্বাধীনতা ও ভাষা শহীদদের ৬৮ বছর পর নিজ গ্রামে ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে পেরে শিক্ষার্থীদের মনে উল্লাষের ঢেউ বইছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলেন এই আনন্দ আমরা মুখের ভাষায় প্রকাশ করতে পাবো না। আজকে আমরাও শহরের মতো আগামী বছর প্রভাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবো বলে আশা ব্যক্ত করেন।

ভীম শহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল্লাহ হেল গালেব বলেন-অত্র এলাকায় মানুষদের ভাষার প্রতি সম্মান ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে সাড়া জাগানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ আমরা এগিয়ে এসেছি। কারণ এই প্রথম জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলো । আমার নিজের প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় এই এলাকার শিক্ষার্থীরা জানেন না-শহীদ মিনার দেখতে কেমন! শুধুমাত্র ছবিতে তারা শহীদ মিনার দেখেছে!

কিন্তু বাস্তবে তাদের দেখার সুযোগ হয় নি! আজকে এই এলাকার মধ্যে দৃশ্যমান শহীদ মিনার হওয়ায় তাদের মধ্যে আনন্দের উৎচ্ছাস বইছে।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম মন্ডল বলেন- আমরা আশা করি যদি শামীম ভাইয়ের মতো অনেকে স্বেচ্ছায় উদ্যোগ নেয় তাহলে আমাদের এই এলাকা কিংবা ইউনিয়নের নানামূখী উন্নয়ন করা সম্ভব। আগামীতে আমাদের ইউনিয়নের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে আমাদের ভাষার জন্য যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের সর্ম্পকে জানতে পারবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভেন্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম প্রধান বলেন-অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার ফলে নিজ জন্মভূমিতে শামীম আহাম্মেদ ভাই শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন এতে যারা সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাদের আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।আপানাদের কাজের সার্থকতা কতটুকু তা আপনারা এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে চেয়ে বুঝতে পারছেন। আজ তাদের মনে কত আনন্দ,তাদের মাতৃভাষা তাদের কাছে কত প্রিয় তা তারা অনুধাবন করতে পেরেছেন।

এ সময় তিনি আগামী ডিসেম্বর মাসের পূর্বেই ভিমশহর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।

জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক শামীম আহাম্মেদ বলেন- শহীদ মিনার যে শুধু ভাষা শহীদদের স্মরণ করিয়ে দেয় তা নয় বরং একটি স্কুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অভাবনীয় ভূমিকা রাখে। যার দৃশ্যমান শুধু সৌন্দর্য নয় যা প্রতিটি শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে দেবে এ ভাষার গুরুত্ব কেমন? এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণের আহব্বান জানান। কারণ এই শহীদ মিনার দেখেই যেন শিক্ষার্থীরা মনে করেন তাদের অতীত প্রজন্ম ভাষার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেশপ্রেমের মহত্ব ও গুরুত্ব কত দিয়েছেন।

একুশ মানে চেতনা,একুশ মানে প্রেরণা,একুশ মানে বাক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বের মধ্যে প্রথম বাক স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহীদের প্রতিবছর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাঙ্গালী জাতি।