1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চৌহালী উপজেলা | রংপুর সংবাদ
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চৌহালী উপজেলা

রাব্বি হাসান হৃদয় সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ২৩

উপজেলা পরিষদ ভবন, থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যাংক-বীমা অফিস নয় বছর আছে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ধীরে ধীর বিলীন হয়েছে কয়েক শতাধিক গ্রাম। পাকা রাস্তা, ব্রীজ কালভার্টসহ নানা স্থাপনা। বর্তমানেও ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে হচ্ছে বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমি। করালগ্রাসী যমুনা নদীর ভাঙ্গনে চৌহালী উপজেলা সিরাজগঞ্জের মানচিত্র থেকে ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে।

এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এক সময় চৌহালী উপজেলা শুধু কাগজে কলমে থাকবে কিন্তু বাস্তবে তা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

জানা যায়, যমুনা নদীর দুপাড়ে সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে চৌহালী উপজেলা গঠিত। এর মধ্যে পশ্চিমপাড় একটি ইউনিয়ন সদিয়াচাঁদপুর ও মধ্য যমুনায় স্থল ও উমারপুর ইউনিয়ন এবং পুর্বপাড়ে চারটি ইউনিয়ন। আয়তন ৮০ বর্গমাইল। মধ্য যমুনায় স্থল ও উমারপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবন ভাঙ্গাগড়ার খেলায় চলছে। বিগত ১২ বছরের মধ্যে পুর্বপাড়ের চারটি ইউনিয়নের অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। খাসকাউলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত উপজেলা পরিষদ ভবন, আবাসিক কোয়ার্টার, থানা ভবন, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, সোনালী ব্যাংক, কৃষি অফিসসহ সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাড়াটিয়া রুম ভাড়া নিয়ে এসব অফিসের কার্যক্রম চলছে।

বর্তমানে পুর্বপাড়ের চারটি ইউনিয়নেই ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ভাঙ্গনে একটু একটু করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ীর জায়গা না থাকায় হাজার হাজার পরিবার পাশ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় বসতবাড়ী গড়ে তুলেছে। ভোটাধিকার চৌহালী থাকলেও বসতবাড়ী অন্য উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে। নামে চৌহালী উপজেলার সংখ্যা ২লক্ষাধিক থাকলেও বাস্তবে এর অর্ধেকেরও চৌহালী উপজেলায় বসবাস নেই। নদীভাঙ্গনের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম চরম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় অঙ্কুরেই অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন নস্ট হয়ে গেছে। শিশুরা এখন চরের ক্ষেত-খামার ও মাছ ধরার কাজ করছে। নদীভাঙ্গনের কারনে পরিবেশের ভারসাম্য নস্ট হয়ে গেছে। গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। মানুষ ওয়াপদাবাঁধে ঝুপড়ি তুলে রোগ-শোক মাথায় নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো দিনমজুরের কাজ করে জীবন চালাচ্ছে। দুঃখ কস্ট তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য-শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। রাস্তাঘাট না থাকায় চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতো কস্টের মাঝেও যেটুকু জায়গা এখনো রয়েছে সে জায়গা আকড়ে ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তারা। কিন্তু প্রতিনিয়ত যমুনা ভাঙ্গার কারনে তাও ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

গতকয়েকদিন যাবত জেলার চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া, খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুখুরিয়া, চরনাকালিয়া, চরবিনানই, চরসলিমাবাদ, মিটুয়ানি, খাষপুখুরিয়া গ্রামে তীব্র নদী ভাঙ্গন চলছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ফসলী জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে আসবাপত্র অন্যত্র সরিয়ে সরিয়ে নিচ্ছে। জায়গা না থাকায় ভাঙ্গন কবলিত মানুষ অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সহায় সম্বল হারিয়ে নিশ্ব এসব মানুষ ছেলে মেয়ে নিয়ে এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আর ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে মিটুয়ানি হাইস্কুল, প্রাইমারি, বাজার, মসজিদ ও হাজার হাজার বসতভিটা।

স্থানীয় বাসিন্দা সালমা মাষ্টার জানান, নদীভানে ইতোমধ্যে চৌহালীর প্রায় একতৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেটুকু বাকী রয়েছে তা যদি ভেঙ্গে যায় তবে চৌহালী উপজেলা শুধু মানচিত্রেই থাকবে। বাস্তবে তা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। চৌহালীর বাসিন্দার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন অন্য উপজেলায় বসবাস করছে।

বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, দ্রুত যদি ভাঙ্গন রোধে কাজ না করা হয় তাহলে বর্ষা মৌসুমেই বাঘুটিয়া ইউনিয়নের যে টুকু অংশ রয়েছে তার সবটুকুই নদীগর্ভে বিরীন হয়ে যাবে। তখন কাগজে কলমে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন থাকবে-বাস্তবে নয়।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা ইয়াসমিন আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, প্রতি বছর ১২-১২টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বসতভিটা ফসলী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে ভবিষ্যতে কি হবে তা বলা যাচ্ছে না। ভাঙ্গনরোধের জন্য প্রতি বছর সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।

চৌহালীর নদীভাঙ্গনে দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য প্রকল্প জমা দেয়া আছে। যদি পাস হয় তবে স্থায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে, তবে এটা লংপ্রসেস। বর্তমানে যেসব এলাকায় বেশী ভাঙ্গন শুরু হয় তা পরিদর্শনের পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গরোধের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে বেশ কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ী কাজ চলমান রয়েছে।

 

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun