রংপুর সংবাদ » বেরোবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২১দফা স্মারকলিপি দরজায় টাঙিয়েছে শিক্ষকরা

বেরোবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২১দফা স্মারকলিপি দরজায় টাঙিয়েছে শিক্ষকরা


রংপুর সংবাদ ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২০, ৭:২৫ অপরাহ্ন
বেরোবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২১দফা স্মারকলিপি দরজায় টাঙিয়েছে শিক্ষকরা

রংপুর প্রতিনিধিঃরংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি , দূুনীর্তি, ক্ষমতার অপব্যহার নিয়োগ বানিজ্য সহ বিভিন্ন দাবিতে স্মারক লিপি দেবার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে অপেক্ষা করে উপাচার্যকে না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার চেম্বারের সামনের দরজায় ২১ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপির ব্যানার বানিয়ে টাঙিয়ে দিয়ে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষকদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ মতিউর রহমান, সদস্য-সচিব খায়রুল কবির সুমন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, ড. নিত্য ঘোষ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কমেশল চন্দ্র রায়, সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচ. এম তরিকুল ইসলাম , ড. বিজন মোহন চাকী, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম নীরব, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনীম হুমাইদা সহ অন্যান্য শিক্ষক বৃন্দ।

এ ব্যাপারে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড, মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ,উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রায় দিনই অনুপস্থিত থাকেন। তারা ২১ দফা দাবি সম্বলিত স্মারক লিপি উপাচার্যের কাছে দেবার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে তার কার্যালয়ে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

উপাচার্যের পিএস এর মাধ্যমে উপাচার্য কবে আসবেন জানতে চাইলে তিনি জানাননি। কয়েকদফা ফোন করার পর উপাচার্যের পিএস জানিয়েছেন উপাচার্য কবে ক্যাম্পাসে আসবেন তিনি জানেন না।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের সদস্যদের সময় দেবেন কিনা সে বিষয়ে পরে জানাবেন বলে তার পিএস জানিয়েছেন। ফলে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ এর সদস্যরা উপাচার্যের প্রবেশ দরজা বরাবর ২১ দফা দাবি টাঙিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষকদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ২১ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির দেওয়া নিয়োগ শর্ত অনুযায়ী কাম্পাসে উপস্থিত থাকা, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি জালিয়াতির তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, ঢাকার লিয়াজো অফিসে সমস্ত সভা বন্ধ করা, অবৈধভাবে ডিন, বিভাগীয় প্রধান প্ল্যানিং কমিটির সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষকের পদোন্নতি, স্থায়ীকরণ, পে-প্রোটেকশন দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। শিক্ষকদের ছুটি নিয়ে জটিলাতা দূর করার দাবি জানানো হয়।

সেই সাথে রেজিস্ট্রারকে উপস্থিত রাখতে বাধ্য করা নয়তো তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থেকে লক্ষাধিক টাকা প্রতি মাসে প্রদান বন্ধ করা, ভিসির পিএস আমিনুর রহমান এবং পিএ আবুল কালাম আজাদদের তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য হলের কাজ দ্রæত সম্পন্ন করার দাবি জাননো হয়। এ ছাড়াও অননুমোদিত বুনিয়াদী কোর্স বন্ধ করা, জার্নাল কিনতে বাধ্য না করা।

স্মারকলিপিতে আরো অভিযোগ করা হয়েছে উপাচার্য বিশবিদ্যালয়ের একাডেমিকও প্রশাসনিক সব ধরনের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে ফেলেছেন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগে সীমাহিন দূর্নিতী সেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ করা হয়।