1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
হুমকির মুখে সিরাজগঞ্জের নদী তীরবর্তী মানুষ | রংপুর সংবাদ
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

হুমকির মুখে সিরাজগঞ্জের নদী তীরবর্তী মানুষ

রাব্বি হাসান হৃদয়,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ২৪

বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যমুনার তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের নদী তীরবর্তী মানুষ। অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ১৩টি গ্রামের শত শত বাড়ি-ঘর, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার তান্ডব শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের শতাধিক বাড়িঘর কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি ও অর্ধশত গাছপালা যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার পথে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, ঘাটাবাড়ি ও পাকুরতলা, কৈজুরি ইউনিয়নের হাটপাচিল, সোনাতনী ইউনিয়নের পশ্চিম বানতিয়ার, ছোট চানতারা, বড় চানতারা, ধীতপুর, দইকান্দি ও বানিয়া সিঙ্গুলী, গালা ইউনিয়নের আগবাঙ্গলা ও ধলাই গ্রামের হাজার হাজার নদী তীরবর্তী মানুষ।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন ভাঙ্গনে বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কেউ দেখার নেই। এমপি-মন্ত্রী সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই চলে যায়। কিন্তু কোন কাজ হয় না। সর্বশেষ যখন আশ্বাস দিয়ে কাজ হলো না তখন এ বছর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৫শ-২ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে নদীর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাঁশের বেড়া বা সোটকা নির্মাণ করেছি। কিন্তু নদীর ¯্রােত বেশী হওয়ায় তা কোন কাজেই আসছে না। তিনি বলেন, এ বছর যদি সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহন না করা হয় তবে ৬ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৮-১০টি গ্রামের বসতভিটা-ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, হাট-বাজার তাঁতকারখানাসহ আরো বহু স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাবে। প্রায় ১২ হাজার পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

ঘাটাবাড়ী এলাকার মোন্নাফ হোসেন জানান, তিনবার ভাঙ্গনে বাপ-দাদার যা সহায়-সম্পত্তি ছিল সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যের একটু জমি ভাড়া করে বাড়ী করেছিলাম। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নদী সেখানেও চলে এসেছি। আর মাত্র দেড়শ ফুট বাকী। এবার ভেঙ্গে গেলে কোথাও যাব সে দুশচিন্তায় ভুগছি।

আড়কান্দি গ্রামের আবুল হোসেন জানান, হাজার হাজার বাড়ীঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। এবার বর্ষার শুরুতেই তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে আর আমাদের আর শেষ রক্ষা হবে না। এবার ভাঙ্গলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।
একই গ্রামের আরশাদ আলী জানান, জমিজমা হারিয়ে এখন রাস্তার ধারে ঝুপড়ি তুলে আছি। আগে ১০-১২ বিঘা জমি ছিল। বর্তমানে ঘর তোলার এক ছটাক জায়গাও নেই। খুবই মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছি।

বৃদ্ধ রাশিদা খাতুন জানান, সবকিছু বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদীর কিনারে টিনের একটি ছাপড়া তুলে বসবাস করছি। রাতে ঘুম হয় না। কখন ঝড়-বৃষ্টিতে টিন উড়ে যাবে বা আবারো নদীগর্ভে চলে যাবে-এমন আতঙ্কে থাকতে হয়।

ঘাটাবাড়ী এলাকার সানোয়ার হোসেন জানান, সরকারের লোকজন শুধু আশ^াস দেয়। কিন্তু কাজ করে না। আমরা আশ্বাস না, সরকার দ্রুত স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষন বাঁধ নির্মান করবে-এমনটাই প্রত্যাশ করি।

স্কুল ছাত্র মিম ও আরিফ জানান, স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের সাথে যারা পড়ত তাদের অনেকের সাথে আর দেখা হয় না। স্কুল না থাকায় অনেকে লেখাপড়া বাদ দিয়ে এখন মাছ ধরে ও জমিতে কামলা খাটে। আমরা বহুকস্টে দুইতিন কিলোমিটার দুরে গিয়ে লেখা পড়ছি। রোদ-ঝড় বৃষ্টিতে যাতায়াত খুব কস্ট হয়। আগে স্কুল মাঠে খেলাধুলা করতাম। কিন্তু এখন আর খেলাধুলাও করা হয় না। নদী আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছর ভাঙ্গনরোধে অস্থায়ীভাবে হলেও যেখানে বেশী ভাঙ্গন রয়েছে সেখানে জরুরীভাবে জিওব্যাগ ফেলানো হবে। আর ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বাঁধের জন্য ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে চলতি সপ্তাহে পাস হলেই দরপত্র আহবান করা হবে যাতে বর্ষা মৌসুম শেষ হবার পরই স্থায়ী সংরক্ষন বাঁধ নির্মাণ করা যায়।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun