1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
গঙ্গাচড়ায় ৩ মাদকব্যবসায়ী ও অপহরণকারী গ্রেফতার | রংপুর সংবাদ
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

গঙ্গাচড়ায় ৩ মাদকব্যবসায়ী ও অপহরণকারী গ্রেফতার

আব্দুর রহিম পায়েল,গংগাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার (৩ জুন) রাতে চক্রান্তকারী ৩ মাদকব্যাবসায়ী ও অপহরনকারীকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন মতিয়ার রহমান ওরফে মতি, আরিফুল ওরফে আরিফ (৩৫) ও আব্দুল খালেক (৩৬)। এদের বিরূদ্ধে পৃথকভাবে মাদক ও অপহরণ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ী উপজেলার চর ইশ্বরকোল ও পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার রুদ্রেশ্বর গ্রামে। এরা এক তরুনকে অপহরণ করে মাদক মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করছিল।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রুদ্রেশ্বর গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে মতিয়ার রহমান ওরফে মতি (৩৪) ও আব্দুল আজিজের ছেলে আরিফুল ওরফে আরিফ (৩৫) এবং গঙ্গাচড়া থানার চর ইশ্বরকোল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে হুরার ছেলে আব্দুল খালেক (৩৬) দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও দালালী ব্যবসা করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) মাত্র ১২ হাজার পাওনা টাকার জন্য নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ বালাটারী গ্রামের শাহীন ও আরিফুল নামের ২ যুবককে কৌশলে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় শাহীন পালিয়ে গেলেও আরিফুলকে তারা অপহরণ করে চর ইচলী গ্রামের এসকেএস বাজারে আরিফের দোকানের পিছনে একটি ঘরে আটকে রেখে ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মাদক মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করে।

সূত্র আরো জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ওই মাদক ব্যবসায়ী চক্রের মূল হোতা আব্দুল খালেক ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে আরিফুলের পকেটে রেখে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। সংবাদের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক আরিফুলকে (১৯) উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। উদ্ধারকৃত আরিফুলের কাছে বিস্তারিত জানার পর ওই রাতেই গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ দীর্ঘ ৮ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে রহস্য উদঘাটন করে ওই ৩ আসামীকে গ্রেফতার করে। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকরের নির্দেশে অভিযানে নেতৃত্ব দেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নুর আলম সিদ্দিক। এ সময় তার সাথে ছিলে এসআই ফারুক আহম্মেদ, এসআই সত্যেন্দ্র নাথ রায় ও সঙ্গীয় ফোর্স।

উদ্ধারকৃত আরিফুল জানায়, সে মাদক ব্যবসায়ী নয়। সে অপরের ট্রলি ও ট্রাক্টর চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আরিফুল আরো জানায় যে, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রুদ্রেশ্বর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আরিফের (৩৫) একটি ট্রাক্টর নিজ এলাকায় চালাত। ওই ট্রাক্টরটি পরিচালনা করত তার প্রতিবেশী শাহিন। ট্রাক্টর মালিক আরিফ ট্রাক্টর ভাড়া বাবদ শাহিনের কাছে ১২ হাজার টাকা পাওনা ছিল। যা শাহীন দীর্ঘ দিনেও পরিশোধ করে নাই। ওই টাকা উদ্ধারের জন্য আরিফ, খালেক, মতিয়ার ও তার লোকেরা কৌশলে তাকে অপহরণ করে মাদক ব্যবসায় জড়াতে চেয়েছিল।

সে আরো জানায় যে, বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর থেকে একটি ট্রাক্টর আনার কথা বলে প্রতিবেশী শাহীন তাকে সাথে নিয়ে আসে। তারা গঙ্গাচড়ার ভিন্ন জগতের কাছে আসলে ট্রাক্টর মালিক আরিফ আরো ২ জনসহ ২টি মোটরসাইকেলযোগে সেখানে উপস্থিত হয় এবং তাদের মোটরসাইকেলে শাহিন ও আরিফুলকে তুলে নিয়ে এসকেএস বাজারের দিকে যেতে থাকে। ঘটনা বেগতিক বুঝতে পেয়ে গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় এলাকায় পৌঁছা মাত্র শাহিন মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এর পর ট্রাক্টর মালিক আরিফ সঙ্গীগণসহ তাকে জোরপূর্বক নিয়ে এসকেএস বাজারে তার দোকানের পিছনের একটি ঘরে আটকে রেখে শাহীনের পাওনা ১২ হাজার টাকাসহ মোট ৪৫ হাজার টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ট্রাক্টর মালিক আরিফের সঙ্গী আব্দুল খালেক ২৫ পিস ইয়াবা সংগ্রহ করে জোর পূর্বক তার পকেটে দেয় এবং থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সরজমিন শুক্রবার (৪ জুন) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ঘটনার সত্যতা মিলে। এসময় উপস্থিত চর ইচলী গ্রামের আমির আলী (৩৫), হেলাল মিয়া (৩০), নয়া মিয়া (৫০), গ্রামপুলিশ মমিনুল (৪৫)সহ অনেকে জানান ট্রাক্টর মালিক আরিফ ও তার সঙ্গী আব্দুল খালেক, মতিয়ার রহমান ওরফে মতির বিভিন্ন অপকর্মের কথা। আব্দুল খালেকের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। সে নিজে মাদক ব্যবসায় জড়িত। এলাকায় এ গ্রুপটি সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও দালালী পেশায়ও জড়িত।
মামলার বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, মামলা দু’টির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপরাধে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে লহ্মিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী জানান, গঙ্গাচড়া থানার ন্যায়পরায়ন ও দক্ষ অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকারের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হওয়ায় তাকে সাধুবাদ জানান। সে সাথে এমন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যা ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun