চা উৎপাদনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
চা উৎপাদনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ | রংপুর সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৫ অপরাহ্ন



চা উৎপাদনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২০

নিউজ ডেস্ক- অতীতের সকল রেকর্ড টপকিয়ে এবার চা উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ। চা শিল্পের ১৬৫ বছরের ইতিহাসে এটি নতুন রেকর্ড।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চা উৎপাদিত হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি। গত বছরের চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ কেজি। এক বছরে চা উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে, চা শিল্পের উন্নতি হলেও উন্নতি হচ্ছে না চা শ্রমিকদের জীবনে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া চা উৎপাদন মৌসুমে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৮২ দশমিক ১৩ মিলিয়ন কেজি। যা দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। ২০১৮ সালের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭২ দশমিক ৩ মিলিয়ন কেজি। এর আগে ২০১৬ সালে সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হয়েছিলো ৮৫ দশমিক শূণ্য পাঁচ মিলিয়ন কেজি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমদ বলেন, চা চাষের আওতা ও উৎপাদন বাড়াতে চা বোর্ডের ধারাবাহিক তদারকি এখন আগের চেয়ে বেশি। গত বছর সঠিক সময়ে বাগানে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ শুরু হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এখন নিয়মিতই মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছেন। মন্ত্রণালয়েরও নজরদারি বেড়েছে। এসব সম্মিলিত কার্যক্রমের সুফল এই রেকর্ড উৎপাদন।

চা বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৪ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত বছরে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ কেজি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কোটি ১০ লাখ কেজি চা বেশি উৎপাদিত হয়েছে। এই উৎপাদন হয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য এলাকার ১৬৭টি চা–বাগান ও দেড় হাজার ক্ষুদ্র চা–চাষিদের হাত ধরে।

চা–বাগানমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি শাহ আলম বলেন, চা–বাগানে কয়েক বছর ধরে কার্যত সংস্কার কার্যক্রম চলছে। পুরোনো চারা উঠিয়ে নতুন চারা লাগানো হয়েছে। বাগানমালিকেরা নতুন নতুন বিনিয়োগ করে চা চাষের আওতা বাড়িয়েছেন। গত বছর চা চাষের উপযোগী আবহাওয়া ছিল। এবারের মতো যদি উৎপাদন বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে আর বড় আকারে আমদানি করতে হবে না।

ট্রেড ইউনিয়ন মৌলভীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস পাল বলেছেন, “অথচ সারাদিন কাজের পর একজন চা শ্রমিকের আয় হয় ১০২ টাকা। তাদের নেই নিজস্ব নৃতাত্ত্বিক জাতিগত পরিচয়, নেই লেখাপড়ার সুযোগ, নেই স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন, নেই যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ। কিছুটা শিক্ষিত যারা আছেন তাদেরও ১০২ টাকা রোজে নির্দিষ্ট কাজ করতে হয়, নতুবা হারাতে হয় মাথা গোঁজার জায়গাটুকু। কাজ করতে গিয়ে অঙ্গহানি ঘটলেও কোনো সাহায্য পান না তারা। নিজের অধিকার নিয়ে যেন সোচ্চার না হতে পারে সেজন্য মালিকপক্ষের সহযোগিতায় নেশার ঘোরে রাখা হয় শ্রমিকদের। পরিকল্পিত ভাবে প্রতিটি চা বাগানে আছে মদের দোকান।”

এমনি এক হতভাগ্য জনগোষ্ঠী চা শ্রমিকরা। ব্রিটিশ শাসনামলে সুন্দর জীবনযাত্রার লোভ দেখিয়ে বঙ্গভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে আনা হলেও শুরু থেকেই তাদের কপালে জুটেছে শুধু অবহেলা-নির্যাতন। এরা যেন আজকের যুগে আধুনিক ক্রীতদাস।

জুলেখা চা বাগানের চা শ্রমিক মেনকা সাঁওতাল জানান, স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও চা বাগানের শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসেনি। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তাদের জীবনযাত্রায়। এমনকি মৌলিক অধিকারও তারা ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। চা বাগানের এই জনগোষ্ঠী এখনও ব্রিটিশ সামন্তবাদ আর স্থানীয় বাবু-সাহেবদের বেড়াজাল ছিন্ন করতে পারেনি।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্রমতে, দেশে চা জনগোষ্ঠী প্রায় ৭ লাখ। তার মধ্যে নিবন্ধিত শ্রমিক প্রায় ৯৮ হাজার, অনিয়মিত শ্রমিক প্রায় আরও ৩০ হাজার। একজন চা শ্রমিকের সাপ্তাহিক বেতন ৭১৪ টাকা। সপ্তাহে দেয়া হয় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম চাল বা আটা (বাজার দর হিসেবে যে পণ্যের দাম কম)।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ