1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
বিএনপিতে বহিষ্কার বাণিজ্য তৃণমূলে হতাশা-ক্ষোভ - রংপুর সংবাদ
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

বিএনপিতে বহিষ্কার বাণিজ্য তৃণমূলে হতাশা-ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১ মে, ২০২৪
  • ২৫ জন নিউজটি পড়েছেন

নিউজ ডেস্ক:
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপিতে চলছে বহিষ্কারের হিড়িক। গত কয়েক দিনে দল ও অঙ্গসংগঠনের ৮০ জনের মতো নেতাকে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে প্রাথমিক সদস্যপদ। তবে সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হামলা-মামলা-গ্রেপ্তারে বিপর্যস্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের এমন গণবহিষ্কার নিয়ে দলের ভেতরে মতভেদ দেখা দিয়েছে। ভিন্নমত পোষণ করছেন খোদ স্থায়ী কমিটির অনেক নেতা। সাংগঠনিক হিসাবনিকাশ, জাতীয় নির্বাচনের পর নেতাকর্মীদের মানসিক অবস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে এলাকাভিত্তিক নানা ইস্যুসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয় থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন তারা। অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বহিষ্কার হওয়ায় তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দলীয় ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিএনপি আরও দুর্বল হবে বলে অনেকের আশঙ্কা। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে আনা হলেও তৃণমূল নেতাদের গণহারে বহিষ্কারের এই প্রবণতার পেছনে কারও কারও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মনে করেন তৃণমূলের অনেক নেতা।

তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঠুনকো অভিযোগে দল থেকে এভাবে গণহারে বহিষ্কার করা সমীচীন নয়। জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত হলেও বিপর্যস্ত তৃণমূলকে উজ্জীবিত করার স্বার্থে নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণকারী নেতাদের ব্যাপারে এতটা কঠোর হওয়া ঠিক হয়নি। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় দলের অনেক নেতা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ করতে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের তৎপরতাকে উৎসাহিত করেন। বহিষ্কারের পর পদ ফিরে পেতে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাছে ধরনা দেন। অনেক ক্ষেত্রে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আর্থিক লেনদেনও হয়ে থাকে। উপজেলা নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক বহিষ্কারের পেছনেও কারও কারও সে ধরনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ একটি বড় অংশ মনে করে, আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের এভাবে বহিষ্কার করায় দল উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেল-জুলুম উপেক্ষা করে আন্দোলনে থাকায় তাদের যেখানে পুরস্কৃত করার কথা, সেখানে উল্টো শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত সংগঠনের জন্য বুমেরাং হতে পারে।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিংবা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় গত কয়েক বছরে দল ও অঙ্গসংগঠনের পদধারী প্রায় পাঁচশ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরেই বহিষ্কার হন শতাধিক নেতা। বাকিরা সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বহিষ্কৃত। এ ছাড়া সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময় দলটির আরও কিছু নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে দলে ফিরতে ভুল স্বীকার করে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০-২৫ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকের আবেদন দপ্তরে জমা রয়েছে। তবে বহিষ্কৃত নেতাদের জন্য বিএনপির দরজা সহজে খুলছে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তৃণমূলের নেতারা বলছেন, অনেক সময় ঠুনকো অভিযোগেও বহিষ্কার করা হয়। এলাকায় দলীয় বিভক্তির জেরে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে তদবির করেন। অনেক সময় কেন্দ্রে প্রভাবশালী কিংবা ভালো যোগাযোগ আছে—এমন নেতাদের পরামর্শে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। আবার যে প্রক্রিয়ায়ই বহিষ্কার হোক না কেন, সেটি প্রত্যাহার করানোর জন্য নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অনেকেই বহিষ্কার হওয়ার পরও দলের জন্য নিবেদিত থাকেন। কিন্তু কেন্দ্রে জোরালো তদবির ছাড়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় সদস্যপদ কিংবা পদবি ফিরে পেতে আর্থিক লেনদেন করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে আছে বিএনপি। বিশেষ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক বছরেরও বেশি আন্দোলনে সোচ্চার ছিল দলটি। সেক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই আন্দোলনে চূড়ান্ত সাফল্য না এলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঠের নেতাকর্মীরা। মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন কয়েক লাখ নেতাকর্মী। অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরও কেউ দল ছেড়ে চলে যাননি।

বিএনপির দাবি ছিল, দলীয় ঐক্যের কারণেই জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের দিক থেকে নানা প্রলোভন ও চাপের মুখেও বিএনপি ভাঙেনি। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কেউই দল ছাড়েননি। এ অবস্থায় আগামী দিনের আন্দোলনেও দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিচ্ছে হাইকমান্ড। এমন পরিস্থিতি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে দলের মধ্যে দুই ধরনের মত ছিল। বিপর্যস্ত তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তাদের পরামর্শ ছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, সে কারণে বিএনপির কেউ স্বেচ্ছায় ভোটে গেলে তাদের বিষয়টি ‘ওভারলুক’ করার কৌশল নেওয়া যায়। সিনিয়র অনেক নেতার যুক্তি ছিল, তৃণমূলের সামনে কিছু কর্মকাণ্ড থাকতে হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেটা হতে পারে। দলের কোনো কর্মসূচিও নেই। তাছাড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরো বর্জন করলে স্থানীয় সরকারে ভবিষ্যতে তাদের কোনো প্রতিনিধিই থাকবে না।

তবে সার্বিক বিবেচনায় উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। কেউ ভোটে অংশ নিলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক ধারা, আঞ্চলিকতার হিসাব-নিকাশ, এলাকায় অবস্থান, দীর্ঘদিনের জনবিচ্ছিন্নতা কাটানোসহ নানা যুক্তিতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাচনে প্রার্খী হন।

অনেকের মতে, তৃণমূলের এই ভোটমুখী প্রবণতা এই বার্তা দেয় যে, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। এমন বার্তার পরও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার দিকেই অগ্রসর হয় বিএনপি। সারা দেশের ৮০ জনের মতো নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান তুষার। নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও সম্মান আছে। তিনি ২০ বছর হরিরামপুর সদর বয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই ব্যক্তি ইমেজ এবং সাধারণ মানুষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, একটা নির্বাচন করতে গেলে অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সেজন্য অনেক আগে থেকে মাঠে নামতে হয়। রোজার ঈদের সময় থেকে তিনি মাঠে নেমেছেন। তিনি ভেবেছিলেন, ক্ষমতাসীনরা দলীয় প্রতীকে ভোট না করা এবং বিগত আন্দোলন ঘিরে বিপর্যস্ত তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতে উপজেলা নির্বাচনে হয়তো বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। সেজন্য বেশ আগে থেকেই তিনি মাঠে নামেন।

জাহিদুর রহমান তুষারের দাবি, তৃণমূলে বিএনপিকে তারাই বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারাই সব সময় দলীয় নেতাকর্মী ও মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হন। এই বিষয়টি দলের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

গাজীপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোট করছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা শাখার সদস্য এজাদুর রহমান মিলন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে মিলনের দাবি, তিনি বিএনপির কোনো পদে ছিলেন না, দলের একজন কঠিন ভক্ত। বহিষ্কারের কোনো চিঠি তিনি পাননি।

তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৫ বছর ভাওয়াল-মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। জনগণের ভালোবাসা এবং নেতাকর্মীদের ধরে রাখার জন্য নির্বাচনে যেতে হয়েছে।’

এসব বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলাকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থীদের একই অবস্থা হবে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা ভোটে রয়েছেন, তারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বাচন করছেন, তারা সুবিধাবাদী লোক।’

নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোভাব সম্পর্কে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির তৃণমূল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। সেখানে কোনো হতাশা নেই। তৃণমূলে এখন ভোট বর্জনের ক্যাম্পেইন চলছে। জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ করছেন। আমাদের প্রত্যাশা, জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলার ভোটও জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।সুত্র:কালবেলা

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun