রংপুর সংবাদ » রংপুর অঞ্চলে তীব্র শীতের পদধ্বনি

রংপুর অঞ্চলে তীব্র শীতের পদধ্বনি


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ৮, ২০১৯, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
রংপুর অঞ্চলে তীব্র শীতের পদধ্বনি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব পড়েছে রংপুর অঞ্চলে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ক্রমাগত কমতে থাকা, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কাছাকাছি আসায় রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় এবার স্বাভাবিক সময়ের দুই মাস আগেই শুরু হয়েছে শীত। দেখা দিয়েছে তীব্র শীতের পদধ্বনি। সন্ধ্যার পরপরই কুয়াশার চাদরে বন্দি হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। শুরু হয়েছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব।

এই অবস্থাকে ‘ডেঞ্জার’ উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদরা বলেন, চলমান আবহাওয়া পরিবর্তন না ঘটলে এবার শীতের তীব্রতা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতে এই অঞ্চলের অর্ধ-কোটি হতদরিদ্র মানুষের চরম দুর্ভোগের দ্বারপ্রান্তে আছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র জানায়, কার্তিক মাসের শুরু থেকেই এই অঞ্চলে ক্রমাগতই কাছাকাছি আসছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কমছে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও। এতে বাড়ছে আদ্রতার শতকরা হার। সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কাছাকাছি আসা এবং সন্ধ্যায় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের কারণে এবার দুই মাস আগেই এই অঞ্চলে শীত এসে গেছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই অঞ্চলে শীত শুরু হতে দেখা যায়। কিন্তু এবার কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই শীত এসেছে উত্তরাঞ্চলে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী আব্দুস সবুর জানান, গত ৬ নভেম্বর এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন ২০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা ছিল শতকরা সর্বোচ্চ ৯৬ সর্বনিম্ন ৫৬ শতাংশ; ৫ নভেম্বর ছিল সর্বোচ্চ ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন ২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা শতকরা সর্বোচ্চ ৯৪ সর্বনিম্ন ৫৪ শতাংশ; ৪ নভেম্বর ছিল সর্বোচ্চ ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা শতকরা সর্বোচ্চ ৯৫ সর্বনিম্ন ৫৪ শতাংশ; ২ অক্টোবর ছিল সর্বোচ্চ ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা শতকরা সর্বোচ্চ ৯৪ সর্বনিম্ন ৪৮ শতাংশ এবং ১ অক্টোবর ছিল সর্বোচ্চ ৩১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন ২২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা শতকরা সর্বোচ্চ ৯৬ সর্বনিম্ন ৫৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, এই সময়ে এই অঞ্চলে সন্ধ্যার আদ্রতা ছিল যথাক্রমে শতকরা ৭০, ৭৯, ৭৮, ৭২ এবং ৭৮ শতাংশ।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, এবার কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকেই রংপুর অঞ্চলের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কাছাকাছি আসা শুরু করেছে। ফলে শীত ও কুয়াশাও পড়া শুরু হয়েছে আগে থেকেই। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ক্রমাগত কমার কারণে শীত অনুভবের পাশাপাশি আগাম কুয়াশা পড়াও শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। আবহাওয়ার এই অবস্থার উন্নতি না হলে এবার তীব্র শীত পড়বে। যার পদধ্বনি ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই আবহাওয়াবিদ।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য মতে, এবার এই অঞ্চলে কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মাগরিবের নামাজের আগেই বিস্তৃণ জনপদে দেখা যায় কুয়াশার চাদর। ফলে এই অঞ্চলের নগর বন্দর, পাড়া মহল্লার আড্ডাস্থলগুলো এখন ক্রমেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। মানুষ শীতের গরম কাপড় পরে চলাফেরা শুরু করে দিয়েছেন। বাসাবাড়িতে লেপ, কাঁথা বের করা হয়েছে। ভোরবেলাতেও কুয়াশার কারণে অনেক পরিবহন হেড লাইট জ্বালিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখছে।

শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব : 
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এ অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে প্রকাশ, আগাম শীত আসায় এসব হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও জেলা ও উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি ক্লিনিক এবং লোকালয়ের হাতুড়ে ও পল্লী চিকিৎসকদের চেম্বারেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আক্রান্তদের ৭০ ভাগই নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং মাথা ব্যাথার রোগী। এদের মধ্যে আবার ৮০ ভাগই বৃদ্ধ ও শিশু।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সুলতানুল আলম জানান, শীত আগাম আসায় এই অঞ্চলে নিউমোনিয়া, জ্বর সর্দি কাশিসহ শীত জনিত রোগের মাত্রা বাড়া শুরু হয়েছে। এমন রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে।