হাসি ফুঠে উঠেছে ভরা যৌবনা তিস্তায় | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
হাসি ফুঠে উঠেছে ভরা যৌবনা তিস্তায় | রংপুর সংবাদ
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন



হাসি ফুঠে উঠেছে ভরা যৌবনা তিস্তায়

গোলাম কিবরিয়া
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮১
হাসি ফুঠে উঠেছে ভরা যৌবনা তিস্তায়
হাসি ফুঠে উঠেছে ভরা যৌবনা তিস্তায়।

 

ভরা যৌবনা তিস্তা নদী এখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। বর্তমানে দেশের আবহাওয়ায় চৈত্রের খরতাপ চলছে। বৃষ্টির রেস  তেমন একটা দেখা নেই। বোরো খেত ফেটে চৌচির। পানির অভাবে যখন কৃষকের চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ। ঠিক সেই সময়ে বর্ষাকালের রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ। উজানের স্রোতধারায় পানি প্রবেশ করছে হু হু করে।

যা দ্রুত তিস্তা ব্যারাজ অতিক্রম করে চলে যাচ্ছে ভাটির দিকে। কয়েক দিন আগেও নদীর বুকে যে ধু-ধু বালুচর দেখা গিয়েছিল। তা যেন নিমিষেই নদীর পানিতে চাপা পড়ে গেছে। সেচ ক্যানেলগুলো পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়েছে। ভরা তিস্তায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বৈরালি মাছ। গত দুই বছর থেকে জেলেদের জালে বৈরালি মাছ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন তিস্তার পাড়ের জেলেরা। গত তিন দিন থেকে তিস্তার বুকে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় মাছেরও দেখা মিলছে বেশ। হাসি ফুটেছে অনাহারে অর্ধাহারে থাকা জেলে পল্লীতে।

চলতি বোরো আবাদে তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকার লালমনিরহাট,নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর জেলার ১২ উপজেলায় ৬৫ হাজার ৮০০ হেক্টরে সেচ চলমান আছে। তিস্তার সেচ ক্যানেলগুলো এখন পানিতে টইটম্বুর। সরেজমিনে দেখা যায়, উজান থেকে পানিপ্রবাহ নদীজুড়ে বয়ে চলছে। নদী যেন ফিরে পেয়েছে প্রাণ। তিস্তা ব্যারেজের পানি পরিমাপক অফিস বলছে,  তিন দিনে উজানের ঢলে তিস্তায় এখন প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকের মতো পানি প্রবাহ চলছে। এর আগে পানিপ্রবাহ ছিল মাত্র ১ হাজার ৪০০ কিউসেক। তিস্তাপাড়ের বাইশপুকুর চরের জেলে রমজান আলী জানান, নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিন দিন ধরে উজানের জোয়ারে নদী এখন পানিতে ভরে গেছে। মাছও পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর। সূত্র মতে, গতকাল তিস্তার পানিপ্রবাহ ছিল ৪৯ দশমিক ৭০ মিটার। আগের দিন ১০০ সেন্টিমিটার বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ৭০ মিটারে। তারও একদিন আগে  ৬৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পানি প্রবাহ দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৩৫ মিটারে। পাশাপাশি উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শুকিয়ে যাওয়া নদী। তিস্তা পাড়ের আবুল হোসেন জানান, তিস্তা নদীকে যখন দেখি শুকিয়ে যায়। তখন হারিয়ে যাওয়া জমি জিরাত বালুর চরে চোখে পড়ে।

পূর্ব  ছাতনাই গ্রামের শাহ আলী বলেন, হঠাৎ শুনতে পাই তিস্তা নদী থেকে স্রোতের শব্দ বাতাসে ভেসে আসছে। অবাক হয়ে ছুটে যাই নদীর পাড়ে। দেখতে পাই উজান থেকে তিস্তার পানি শো শো শব্দে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তিস্তা পাড়ের ভাষানীর চরের মাঝি মফিজার রহমান বলেন, ভারত হয় তো তাদের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় পানির জোয়ার বেড়ে গেছে। তিস্তা কমান্ড এলাকার সেচ সুবিধাভোগী কৃষক নজির উদ্দিন বলেন, ‘তিস্তা নদীতে উজানের পানির জোয়ার বিগত বছরের চেয়ে এবার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ  বলেন, তিস্তায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভালোর দিক বলে মনে করছি আমরা। তিনি আরও জানান, তিস্তা সেচ প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। প্রকল্পের কমান্ড এরিয়ার ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমির তৃণমূল পর্যায়ে সেচের পানি পৌঁছে দিতে ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেকেন্ডারি আর টারসিয়ারি সেচ ক্যানেল নির্মাণে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি একনেকে পাস হলেই সেকেন্ডারি সেচ ক্যানেলগুলোতে করা হবে সিসি লাইনিং আর টারসিয়ারি ক্যানেলগুলোতে দেওয়া হবে আরসিসি ঢালাই। এতে পানির অপচয় ছাড়াই দ্রুত পানি পৌঁছে যাবে জমিতে।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ