1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
রংপুরের ৬ আসনে এমপিদের সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুন - রংপুর সংবাদ
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

রংপুরের ৬ আসনে এমপিদের সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৬৭ জন নিউজটি পড়েছেন

 

স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের ৬টি আসনেই গেলো পাঁচ বছরে সকল এমপিদের অর্থ এবং সম্পদ বেড়েছে বিপুল পরিমানে। কারও বেড়েছে নগদ অর্থ আবার কেউ বানিয়েছেন বহুতল অট্টালিকা, কেউ বাড়িয়েছেন বাণিজ্য, কেউ কেউ কিনেছেন জমি, কারও কারও স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদের পরিমান বেড়েছে কয়েকগুণ।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬ আসনের তিন জায়গায় মনোনীত হয়েছেন নতুন মুখ। রংপুর-১ আসনে মসিউর রহমান রাঙ্গা এবার জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। রংপুর- ৩ আসনে সাদ এরশাদের জায়গায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এছাড়া রংপুর -৫ আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হলফনামায় রংপুরের প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের গত পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুণ এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

রংপুর-১ আসনে দেখা যায়,

গেলো পাঁচ বছরে জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণের মত। নগদ অর্থের পাশাপাশি অন্যদিকে জমিসহ স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও বেড়েছে তার।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় পাওয়া তথ্য অনুসারে দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নগদ টাকা ছিল ২৭ লাখ ৮ হাজার ৫৪৬ টাকা। পাঁচ বছরে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার ৬২৮ টাকা। এগুলো ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর আগে টাকা জমা না থাকলেও এবার হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ টাকা।

২০১৮ সালের হলফ নামায় সঞ্চয়পত্রে তার বিনিয়োগ ছিল ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৪ টাকা আর এবারের হলফনামায় তা দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৪ হাজার ২১৫ টাকা।

গেলো পাঁচ বছরে বেড়েছে জমিসহ স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও। ২০১৮ সালের হলফে জমির পরিমাণ ১২ একর ৩৩ শতক দেখানো হয়েছিল। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ একর ৫৪ শতকে। অন্যদিকে পাঁচ বছর আগে কৃষি, অকৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, বাগান ও খামারের মূল্য ও আয় ছিল ৩ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার ২৭৫ টাকা। এবার দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩৬ টাকা।

২০১৮ সালে ব্যাংক ঋণ দেখানো হয় ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ টাকা। সবশেষ ২০২৩ সালের হলফ নামায় ব্যাংক ঋণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৭ টাকা।

আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন কৃষিখাত, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা, চাকরিসহ শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র।

রংপুর-২ আসনে দেখা যায়,

টানা ২ বার রংপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় তার নগদ টাকার পরিমাণ না বাড়লেও বেড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা বিভিন্ন অর্থের পরিমাণ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নগদ টাকা ছিল ৫ লাখ এবারও নগদ টাকার পরিমাণ তাই রয়েছে।

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থ জমা না থাকলেও এবার নিজ নামে নগদ ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬১ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ১১৩ টাকা জমা দেখিয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নামে পরিবহনের ব্যয় হিসেবে ৯০ লাখ টাকা দেখান যা একাদশ সংসদ নির্বাচনে ছিল ৭০ হাজার টাকা।

রংপুর-৩ আসনে দেখা যায়,

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালে মারা গেলে রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন এরশাদ পুত্র সাদ এরশাদ সাদ এরশাদ। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি থেকে সাদ এরশাদকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টির হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে। এর আগে তিনি লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জিএম কাদেরের জমা দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে তিনগুণের বেশি। একইসঙ্গে তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে জি এম কাদের নির্বাচিত হয়েছেন। সেই হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার নগদ ছিল ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৩ টাকা। পাঁচ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকায়। একই সঙ্গে শেরীফা কাদেরের নগদ ছিল ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭০১ টাকা, পাঁচ বছরে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা।

এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর আগে জমা ছিল ১৩ লাখ ২ হাজার ৪৩৫ টাকা। এবার হয়েছে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৩ টাকা। স্ত্রীর ছিল ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫৮২ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৯ হাজার ৩৫৯ টাকা।

জিএম কাদের আগে চড়তেন ৪০ লাখ টাকা দামের প্রাডো গাড়িতে, এখন চড়েন ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৫ টাকার জিপ গাড়িতে। পাঁচ বছর আগে স্ত্রী শেরীফা কাদের চড়তেন ১৫ লাখ টাকার গাড়িতে, এখন তিনি চড়েন ৮০ লাখ টাকার জিপে। নিজ ও স্ত্রীর নামে জমি, বাড়ি, স্বর্ণালংকার বাড়েনি।

রংপুর -৪ আসনে দেখা যায়,

এ আসনে তিনবারের এমপি টিপু মুনশির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নগদ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থসহ সবই দেখিয়েছেন তার স্ত্রীর নাম দিয়ে । তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নিজ নামে নগদ ২ কোটি ৯০ হাজার ২৩৬ টাকা, বন্ড, শেয়ার ও ঋণপত্রের ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকাসহ সব সম্পত্তি দেখিয়েছেন নিজের নামে, স্ত্রীর নামে দেখাননি কিছুই।

তার আসনে বিদ্যুতায়ন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে শতভাগ আর স্বাস্থ্য সেবা ও যোগাযোগ উন্নয়নে অর্জন ৯০ শতাংশ উল্লেখ করেছেন তার হলফনামায় ।

রংপুর-৫ আসনে দেখা যায়,

রংপুর ৫ আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান সরকারের টানা তিনবার সহ পাঁচ বারের সংসদ সদস্য । তবে এবার তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নেয়নি। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছেন তার ছেলে রাশেক রহমান। গত ৪ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নটি বৈধতা পেয়েছে।

রংপুর-৬ আসনে দেখা যায়,

রংপুরের ৬ আসনে টানা দুবার সংসদ সদস্য হন স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী।আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় তার নগদ টাকার পরিমাণ কমে গেলেও বেড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় দেখা যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৭৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭১১ টাকা আর এবারে জমা দেয়া হলফনামায় এর পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ২২ টাকা।

গত পাঁচ বছরে তার আসনে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, মহিলা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গেলো ৪ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে রংপুরের ৩৯ জন সংসদ সদস্যের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রত্যাহার, ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun