1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
হাতীবান্ধায় চায়না কমলা চাষে সাফল্য শিক্ষক দম্পতি - রংপুর সংবাদ
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

হাতীবান্ধায় চায়না কমলা চাষে সাফল্য শিক্ষক দম্পতি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৩৪ জন নিউজটি পড়েছেন

মাহির খান:
প্রতিটি গাছের ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ধরছে চায়না কমলা। এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে এক শিক্ষক দম্পতির বাড়িতে। শিক্ষকতার পাশাপাশি করেছে কমলা বাগান। পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুর জাতীয় কৃষি পুরস্কার। কমলা চাষের তাদের সফলতা গোটা জেলা পরিচিত লাভ করেছেন এই দম্পতি।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবী গ্রামের
এই শিক্ষক দম্পতি সমতল ভূমিতে চায়না,নাগপুরি ও দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করে সফল হয়েছেন শিক্ষক খলিলুর রহমান ও তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন মজুমদার।

বেশির ভাগ কমলা পেকে হলুদ হয়ে গেছে। আবার বেশ কিছু কমলা সবুজ রয়েছে। চায়না কমলার আকার ছোট হলেও সুস্বাদ ও মিষ্টি।

তাদের কমলা চাষে সাফল্য দেখতে প্রতিদিনই পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিনতে আসছেন বিভিন্ন জাতের কমলার চারা আবার কেউ নিচ্ছেন পরামর্শ।

খলিলুর রহমান  উপজেলার  মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন  উচ্চ  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পশ্চিম সারডুবি গ্রামের পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন মজুমদার।

এ দম্পতি  শিক্ষকতার পাশাপাশি নিবিড় মমতায় তিল তিল করে মেধা-মনন-শ্রম দিয়ে কমলা চাষে নিজেদের সাফল্যের নজীর স্থাপন করেছেন । যা এলাকার শতশত মানুষকে এ ফলটি উৎপাদনে প্রেরণা যোগাচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে এই দম্পতি শুরু করেন বিভিন্ন গাছের নার্সারী। এরপর ২০১১ সালে এক বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলা চারা ৮০ শতাংশ জমিতে বাগান করেন। ৪ বছর বয়সি ১০০ শত ৫২ টি গাছে ফল আসে। ২০১৫ সালে বাগানে ব্যাপকভাবে কমলা ধরে। কমলা গাছ ও কমলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। পাশাপাশি ছুটে আসেন জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা। ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন মজুমদার। এরপর থেকে ওই শিক্ষক দম্পতির আগ্রহ বেড়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় পরামর্শ নিয়ে বাড়ির আশেপাশে প্রায় এক একর জমিতে শুরু করে বিভিন্ন জাতের কমলা চাষ।

বর্তমানে তাদের বাগানে চায়না কমলার ১০০ শতটি গাছের প্রায় দুই বছরের মাথায় থোকায় থোকায় চায়না কমলা ধরছে। পাশাপাশি বিক্রি করছেন বিভিন্ন জাতের কমলার চারা সুপারি চারা। কমলার চাষ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কমলার চারা গাছের  একটি সমৃদ্ধ নার্সারি গড়ে তুলেছেন। সস্তা দামে বিক্রি করছেন চারা গাছ।

নার্সারি ও কমলার বাগানে প্রতিমাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করছেন এই শিক্ষক দম্পতি।শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৯৫ সালে আমরা প্রথম নার্সারি তৈরি করি। পাশাপাশি আমার স্ত্রী ফাতেমা মজুমদার ২০১১ সালে দার্জিলিং জাতের কমলা আমার বাড়িতে লাগায়। এরপর আমাদের কমলার বাগানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধুর জাতীয় কৃষি পুরস্কার পান আমার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন মজুমদার। এরপর থেকে আমার স্ত্রীর কমলা চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়। চায়না চাতের কম বাটি লাভজনক ও সুস্বাদু। ফাতেমা খাতুন মজুমদার নামে কমলা বাগানটি থেকে আমরা ব্যাপকভাবে পরিচিত লাভে পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি।

স্থানীয় আব্বাস আলী বলেন, সমতল জমিতে কমলা চাষ করেছেন শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন মজুমদার। দার্জিলিং জাতের কমলা আর চায়না কমলা তার বাগানে ব্যাপকভাবে ধরেছে। তাদের কমলা বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে।

ওই এলাকার আনোয়ার হোসেন বলেন,দেশের মাটিতে কমলা চাষ হচ্ছে এটা অবাক করা বিষয়। কমলা বাগানের প্রতিটি গাছে কমলা ধরেছে। দেখতে সুন্দর ও খেতেও মিষ্টি।

ফাতেমা খাতুন মজুমদার বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিতে জড়িয়ে পড়েছি। আমাদের কৃষি অনেক ভালো লাগে। ২০১১ সালে কমলা বাগানের পর কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছি। সে থেকে কমলা চাষের প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি মাছ চাষ,গাভী পালন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কৃষি কাজ করে সময় পার করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন মিয়া বলেন, হাতীবান্ধা উপজেলায় একটি কমলা বাগান রয়েছে। বাগানটি পরিদর্শনে যাবো। পাশাপাশি কমলা চাষীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার করা হবে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: হামিদুর রহমান বলেন, নিজ উদ্যাগে কমলা চাষ করছে জেলার অনেক কৃষক। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক সফল হয়েছে। তার মধ্যে ফাতেমা খাতুন মজুমদার কমলা চাষ করে সফল হয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। বর্তমানে কৃষি বিভাগ থেকে মাল্টা চাষ করার জন্য কৃষকদের বেশী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun