বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মিথ্যাচার ইরানে এবার খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মিথ্যাচার ইরানে এবার খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ | রংপুর সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৯ অপরাহ্ন



বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মিথ্যাচার ইরানে এবার খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২০

রংপুর সংবাদ ডেস্কঃইরানে এবার খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরাকে কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির হত্যার পর ইরানিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিশোধের জন্য কণ্ঠ তুলেছিল। মূল্যস্ম্ফীতিসহ ভঙ্গুর অর্থনীতি, জ্বালানিসহ দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে দেশটিতে সরকারবিরোধী যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের দামামায় জনগণ আবার সরকারের পক্ষে রাস্তায় নেমেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আবেগের জোয়ারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল ইরানের সরকার। প্রতিশ্রæতি মতো ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে তেহরান।

তবে ওই দিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী একটি বিমান ভূপাতিত করে ইরানের সামরিক কমান্ড। নিহত হন ১৭৬ আরোহীর সবাই, যার মধ্যে শুধু ইরানেরই নাগরিক ৮২ জন। নিহত অন্যদের মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন কানাডার নাগরিক এবং ইউক্রেনের নাগরিক ছিলেন ১১ জন। যুক্তরাজ্যের ছিলেন চারজন নাগরিক।

শুরু থেকেই এ দুর্ঘটনার কথা জানলেও তা ধামাচাপা দিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি থেকে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি মিথ্যাচার শুরু করেন।

শেষ পর্যন্ত তারা স্বীকার করেছেন, ভুলবশত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে তা মানতে নারাজ দেশটির জনগণ। মিথ্যাচার করার দায়ে খামেনিসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জনসমর্থন বুমেরাং হয়ে ফিরেছে ইরানে। বিরাট এক ভুলে আটকে গেছে দেশটির সরকার।

যে প্রক্রিয়ায় বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চেয়েছিল ইরান, ঠিক তার মধ্য দিয়েই বেকায়দায় পড়ে গেছে তারা। খুব স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব এখন ইরানকে একেবারে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে। একই কাজে হাত লাগাবে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক প্রতিদ্ব›দ্বীরা। এত কিছু একসঙ্গে সামলানো ইরান সরকারের জন্য শুধু কঠিনই নয়, তা সরকার পতনেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা কিছুটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রæডোর বক্তব্য একে আর নিছক দুর্ঘটনায় আটকে রাখেনি। এ ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে ট্রæডো বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর পর পশ্চিমা দুনিয়ার মোড়লরা একে একে এতে সমর্থন জানাতে থাকেন।

অবশ্য শুরু থেকেই ইরান এ দাবি অস্বীকার করে আসছিল। তবে তা আর ধামাচাপা দিতে পারেননি ইরানি নেতারা।

সমস্যা হলো, নিজেরা সঠিকভাবে তদন্ত চালানোর আগে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা যথার্থ ছিল না। ইরান যেভাবে শুরু থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমান বিধ্বস্তের অভিযোগ নাকচ করে আসছিল, সে ক্ষেত্রে শনিবারের মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেশটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অনর্থক উস্কানি দিয়েছেন, তা কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তির পক্ষে অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর বিষয়টিও এভাবে বৈধ করতে চেয়েছিল ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধের পথে না হাঁটার নৈতিক অবস্থানও তিনি নিতে পেরেছিলেন।

বিবিসি জানিয়েছে, শীর্ষ নেতাদের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ইরানের জনগণ। প্র্রতিবাদকারীরা অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। তাদের সরাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এ বিক্ষোভে নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন না চালাতে তেহরানকে সতর্ক করেছেন। কারণ, গত মাসের বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাড়ে তিন শতাধিক মানুষকে হত্যা করে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে।

আবারও তেমন কিছু যেন না হয়, সে জন্য হুঁশিয়ার করেছেন ট্রাম্প। তবে নানামুখী এ সংকট থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটবে ইরানের, তা-ই এখন দেখার বিষয়। সূত্র :বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ