শুরু হলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মার্চ | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
শুরু হলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মার্চ | রংপুর সংবাদ
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন



শুরু হলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মার্চ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
  • ৩৬

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কবিতা-
শোনো একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ্য মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে উঠে রণি
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।

শুরু হলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মার্চ। ৫০ বছর আগে এমনই এক মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে পাকিস্তানের ২৩ বছরের জেল, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন, শোষণ ও নির্যাতনের ইতিহাস বর্ণনা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলন। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন: ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। তিনি বলেছিলেন: ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।’

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম নেয়া বাঙালীর ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তি সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে চৌকস নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ক্যারিশমেটিক লিডার ছিলেন বলেই তিনি পাকিস্তানি সামরিক চক্রের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

পাকিস্তানি শাসক চক্রের বিমাতাসুলভ মনোভাব বুঝতে পেরে তিনি ৪৭-এর দেশভাগের পর থেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। সেই স্বপ্ন সামনে রেখে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে অগ্রসর হন তিনি। ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন। এই ৬ দফাই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং বাঁচার দাবি। বাংলার মানুষ তাকে ভূষিত করেছিল বঙ্গবন্ধু উপাধিতে।

১৯৭০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু তৎকালীন সামরিক গোষ্ঠী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে দেয়। সেই অবস্থা দেখে বাঙালিরা নিজেদের জোটবদ্ধ করতে থাকে স্বাধীনতার জন্য। যার বদৌলতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পহেলা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিল করা হয়। এই ঘোষণায় পূর্ব বাংলায় বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ঢাকা পরিণত হয় বিক্ষোভের নগরীতে। বঙ্গবন্ধু ৫ দিন হরতাল এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সারা দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পাকিস্তান সামরিক সরকার কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলতে তৎপরতা চালায়। কিন্তু আপামর জনসাধারণের আন্দোলনের মুখে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মুখ থুবড়ে পড়ে এবং সকল অপকর্মের নিশানা ভণ্ডুল হয়ে যায়।

২ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বহুল ঘটনা আমাদের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে মানচিত্রখচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলিত হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকিস্তান সরকার ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে। কিন্তু গোপনে ষড়যন্ত্রের জাল বিছাতে থাকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো। ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয় পল্টন ময়দানে। ওই দিনই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় সমবেত কণ্ঠে।

একাত্তরের ৭ মার্চের বিকেলটা ছিল অন্যরকম। এক পাতাঝরা বসন্তের বিকেল ঘুরিয়ে দেয় ইতিহাসের মোড়। সেদিন বেলা তিনটা বিশ মিনিটে দেওয়া উনিশ মিনিটের সেই বক্তৃতায় পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাঙালিদের অবস্থা, অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমি ও বিস্তারিত কর্মসূচি, সারা বাংলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা, শত্রু মোকাবিলায় গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন ইত্যাদি তুলে ধরার পর তিনি ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’

এই অসাধারণ ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, ‘আর দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ প্রমাণ করে, দেশ জন্মের প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছে। তিনি বাঙালিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মধ্যেই পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যে ক্ষমতা ছাড়তে চায়নি সেটি আগেই বুঝে গিয়েছিলেন এই ক্যারিশমেটিক নেতা। তিনি বুঝেছিলেন, জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধ আসন্ন। আর সে যুদ্ধে তিনি উপস্থিত নাও থাকতে পারেন। আবার গ্রেফতার করা হতে পারে তাকে।

বোধ হয় সে কারণেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।… জয় বাংলা।’ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের এ ভাষণই ছিল বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। এই ভাষণের ভিতর দিয়ে ফুটে ওঠে এক অবিসংবাদিত ক্যারিশমেটিক নেতার পরিচয়।

তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘শহীদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে আরটিসিতে শেখ মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। অ্যাসেম্বলি কল করেছেন, আমার দাবি মানতে হবে প্রথম। সামরিক আইন মার্শাল ল উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। তারপরে বিবেচনা করে দেখব, আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব কি পারব না।’ বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে আরও বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই।’ সেই অধিকার তিনি এনে দিয়েছিলেন এদেশের মানুষকে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ইতোমধ্যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

মহান স্বাধীনতার ৫০ বছরে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিশ্বে অর্জন করে নিয়েছে নিজেদের শক্তিশালী সম্মানজনক স্থান। নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল সুবিধা পেয়েছে। ওয়াইফাই, অ্যান্ড্রয়েড গেজেট ও স্মার্টফোনে ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও হাতের মুঠোয় দেখা ও শোনার নতুন সহজ সুবিধা পেয়েছে। ভিডিও দেখার পর সত্যিই অবাক লাগে! একটি ভাষণ একটি জাতির মানসে কত গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কঠিন কাজ আগেই সাধিত হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর জাদুকরী নেতৃত্বে। আর কে না জানে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা গেলে যে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। যার প্রমাণ দেখা যায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত দিনগুলোতে।

নিউজউইক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ নিবন্ধ ‘দ্য পয়েট অব পলিটিক্স’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি ভাষণ নয়, একটি অনন্য কবিতা’। সত্যিই একটি অমর কবিতার সব গুণ রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে। কাব্যগুণসম্পন্ন বলেই আজও হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মুখস্থ বলতে পারে। এই ভাষণের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নেতৃত্বের সর্বোচ্চ দেশাত্মবোধ, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে স্থির এবং লক্ষ্য অর্জনে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। সময়ের পরিসীমায় গ-িবদ্ধ না থেকে তা হয় কালোত্তীর্ণ ও প্রেরণাদায়ী। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রেখেছে এ ভাষণ। এ ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করেছিলেন।’

স্বাধীন বাংলার এমন অপরাজেয় মহানায়ক ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মহামানব। মহামানবের মৃত্যু নেই। তারা বেঁচে থাকেন কর্মের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু ও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনগণের প্রতি ভালোবাসা আর একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। যতদিন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র পৃথিবীর বুকে পরিচিত থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পৃথিবীর বুকে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ক্রমেই হয়ে উঠছে দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতির অন্যতম পরাশক্তি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে যেন নতুন জীবন পেয়েছে লাল-সবুজের দেশটি। আজ কান পাতলেই শোনা যায় তার গুণগান।

বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশে বিচরণ করছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। স্বাধীনতা-পরবর্তী কল্পিত ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি’র দেশ বাংলাদেশ, এখন ১৮ কোটি মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করছে। উপরন্তু সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়মিত তিন বেলা খাওয়ানোর পরও খাদ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে আমাদের আবারো শপথ নিতে হবে নতুন আগামীর। স্বাধীনতার পঞ্চাশে শুরু হোক নতুন বাংলাদেশের যাত্রা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সব অর্জন আমাদের জন্য স্বপ্নময় প্রাপ্তি।

অন্নদা শংকর রায়ের কবিতা দিয়ে শেষ করছি-
যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরি যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ