1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
ধর্ষণের পর হত্যা! মিঠাপুকুরে ১মাসে শিশুসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার | রংপুর সংবাদ
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

ধর্ষণের পর হত্যা! মিঠাপুকুরে ১মাসে শিশুসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার

আমিরুল কবির সুজন(মিঠাপুকুর)রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামে শয়ন ঘরের মাটি খুঁড়ে রহিমা খাতুন (০৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৭মে বৃহস্পতিবার একই এলাকার রাজা মিয়ার বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় দোকানে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রহিমা। নিহত রহিমা একই এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় রহিমা তার মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে পটেটো চিপস কেনার জন্য দোকানে যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। সারারাত অনেক খোঁজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একই এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়ার (২০) ঘরের মাটি খোঁড়া দেখতে পায় বাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। একপর্যায়ে রহিমার বাড়ির লোকজনও ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর রহিমার পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটি সরাতেই একটি হাত দেখতে পায়। তারা নিশ্চিত করেন এ হাত রহিমার। পরে পুলিশকে খবর দিলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-ডি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে মেয়েটিকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করা হতে পারে। মেয়েটির চিৎকারে ধরা পড়ার ভয়ে হত্যার পর মরদেহ ঘরের খাটের নিচে পুঁতে রাখা হয়।

২০মে বৃহস্পতিবার প্রেমিকের সাথে বিয়ে না হওয়ায় আত্মহত্যা করে এক মাদরাসা ছাত্রী। নিহত ওই ছাত্রীর নাম মোসলেমা আক্তার মোহনা (১৮)। সে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের চেংমারী গ্রামের কৃষক মোন্নাফ হোসেনের মেয়ে। ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ফুলচৌকি গ্রামে ওই ছাত্রীর নানার বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। উপজেলার তিলকপাড়া গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে সাব্বির হোসেন আরমান (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে মোসলেমা আক্তার মোহনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমিক সাব্বির বিয়ে করতে অসম্মতি জানালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মোসলেমা আক্তার মোহনা। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে।

গত ২১মে শুক্রবার উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের তরফবাহাদি গ্রামে বাবার বাড়িতে শয়ন কক্ষে গলায় ওড়না পিচিয়ে আত্মহত্যা করে এক নারী। নিহত ওই নারীর নাম মিতু আক্তার (২০)। প্রায় দেড় বছর আগে পার্শ্ববর্তী তরফগঙ্গারামপুর গ্রামের বাবু মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান সুজার সাথে ভালোবেসে বিবাহ বন্ধনে আবধ হন মিতু। বিয়ের পর পারিবারিক নানা মানসিক চাপে মাদকাশক্ত হয়ে পড়েন মেহেদী হাসান সুজা। পরে তাকে রংপুরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। এরপর শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যান মিতু। স্বামীকে ছেড়ে একাকী জীবন-যাপন করতে থাকা মিতু নানা হতাশায় ভুগতে থাকেন। সেইসাথে শশুর বাড়ি থেকে কোন খোঁজ খবর না নেওয়ার কারনে হতাশায় ভুগতে থাকা মিতু অবশেষে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে।

২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মিঠাপুকুরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে না চাওয়ায় মোসলেমা খাতুনকে (১৫) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে তার প্রেমিক নাহিদ হাসান। নিহত মোসলেমা উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের বউরাকোট গ্রামের মোতালেব মিয়ার মেয়ে। নিহত মোসলেমার বাবা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক নাহিদ হাসানকে (২২) আটক করে পুলিশ। আটক নাহিদ মিঠাপুকুর উপজেলার দলসিংহপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। ঘাতক প্রেমিক গত (২৫ এপ্রিল) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

হঠাৎ পচা গন্ধ ভেসে আসার সূত্র ধরে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে গিয়ে মোসলেমার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ মোসলেমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘাতক প্রেমিক নাহিদ হাসানকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

আদালতে নাহিদ জানান, মোসলেমা খাতুন সম্পর্কে তার চাচাতো বোন। তাদের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একাধিকবার তাদেও মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। মোসলেমা নাহিদকে জানায় যে, সে গর্ভবতী। কিন্তু নাহিদ তা অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। এরপর নিহত মোসলেমার বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে গিয়ে তারা দেখা করেন। এ সময় মোসলেমা তার গর্ভের বাচ্চা রাখতে চেয়ে বিয়ের দাবি করেন। কিন্তু নাহিদ এতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে নাহিদ ভুট্টা ক্ষেতেই তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলেন। পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যে মোসলেমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়।

হত্যার সঙ্গে জড়িত নাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেছে পুলিশ ।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun