রংপুর সংবাদ » হারাগাছে লড়াই মর্যাদার

হারাগাছে লড়াই মর্যাদার


স্টাফ রির্পোটার ।। ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২১, ২:৫৫ অপরাহ্ন
হারাগাছে লড়াই মর্যাদার

দেশে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে রংপুরের হারাগাছে মেয়র পদে লড়াইয়ে নেমেছেন স্থানীয় তিন প্রভাবশালী। দলীয় পরিচয়ের বাইরেও তাই এখানে চলছে মর্যাদার লড়াই। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হাকিবুর রহমান মাস্টার। এ ছাড়া মেয়র পদে লড়ছেন বিএনপির মোনায়েম ফারুক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এরশাদুল হক।

আসন্ন ২৮ ফেব্র“য়ারি ভোট ঘিরে শহরজুড়ে জমজমাট প্রচার চালাচ্ছেন তারা। তিন জনই হ্যাভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় প্রচারের মাঠে কেউ কাউছে ছাড় দিয়ে কথা বলছেন না।

সাইফুল ইসলাম নামে এক ভোটার আমাদের প্রতিদিনকে জানান, তিন মেয়র প্রার্থীই হারাগাছের নেতৃস্থানীয় এবং প্রায় সমান প্রভাবশালী। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও তাই স্থানীয় ক্ষমতার দাপট প্রকট। এ কারণে যেভাবে হোক মাঠ দখলে রাখতে চাইছেন সবাই।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাকিবুর রহমান পেশায় শিক্ষক ছিলেন। অসংখ্য শিক্ষার্থী থাকায় সম্মানের ইস্যুতে পড়েছেন তিনি। বর্তমান মেয়রও তিনি। এখন দলীয় দলীয় প্রতীক পেয়েও নির্বাচিত হতে না পারাটা বড় লজ্জার। তাই মাঠ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তিনি।

হাকিবুর রহমানের বড় বাঁধা আওয়ামী লীগেই বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদুল। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির এ দাপুটে নেতাও নির্বাচনে লড়ছেন। শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে না পারলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় ধাক্কা লাগবে। তাই দল ও রাজনীতি রক্ষায় নির্ঘুম চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী ফারুকের শক্তি তার মামা প্রয়াত বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন ভরসা। প্রয়াত ওই বিএনপি নেতা হারাগাছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, এতিমখানা নির্মাণসহ সামাজিক নানা উন্নয়ন কাজে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেটিই সামনে আনছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাকিবুর রহমান আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি এই হারাগাছ এলাকার শিক্ষক ছিলাম। অনেক শিক্ষার্থী আমার। যে দুই জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তারাও আমার ছাত্র।

‘আমি মেয়রও ছিলাম। অনেক উন্নয়ন করেছি। কিছু কাজ বাকি আছে। সেই কাজ শেষ করতে চাই।’

বিএনপির প্রার্থী ফারুক বলেন, ‘সাবেক মেয়র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ করতে পারেননি। বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূর করতে পারেননি। মানুষ কেন তাকে ভোট দেবে?

‘আমরা নির্বাচিত না হয়েও হারাগাছের অনেক উন্নয়ন করেছি। মানুষ আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে ভোট দিবে।’

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদুল বলেন, ‘এই হারাগাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক উন্নয়ন করেছি, তা মানুষ জানে। এখানকার মানুষ আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। আমি তাদের ওপর ভরসা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’

বিড়ি শিল্পের জন্য বিখ্যাত রংপুরের এ পৌরসভায় ভোটারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৯০৭ জন। ৯ ওয়ার্ডের এ পৌরসভায় তিন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও কাউন্সিলর পদে ৪৮ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুমিয়ারা পারভীন জানান, ভোট যাতে সুষ্ঠু হয় সেজন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় কাজ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃংখলা হয়নি। আশা করছি সুষ্ঠু ভোট হবে।’