রংপুর সংবাদ » ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. চন্দন কারাগারে

৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. চন্দন কারাগারে


রংপুর সংবাদ জানুয়ারী ২, ২০২০, ৫:১০ অপরাহ্ন
৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. চন্দন কারাগারে

রংপুর প্রতিনিধি।
রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল প্রয়োজন না থাকা সত্বে ও প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ব্যবহার অনুপযোগী ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের সাড়ে চার কোটি টাকা আত্বসাৎ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামী ডা, সরোয়াত হোসেন চন্দনের জামিন না মজ্ঞুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে বুধবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা, সরোয়াত হোসেন চন্দন রংপুর জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন শুনানী শেষে বিচারক তার জামিন না মজ্ঞুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী হারুনর রশীদ জামিন না মজ্ঞুর করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার বাদী দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপসহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান দায়ের করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, রংপুর মেডিকেল কলেজে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন না থাকা সত্তে¡ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্বানুমোদন ব্যতীত ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য অধ্যক্ষ ডা: মো: নুর ইসলাম কর্তৃক বিধিবহির্ভূত ভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়।তিনি যথাযথ চাহিদা ব্যতীত স্পেসিফিকেশন ছাড়াই দরপত্র আহবান করেন এবং পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি’ কে কার্যাদেশ প্রদান করেন। তিনি অসৎ উদ্দ্যেশে ২১/০৬/১৮ইং তারিখে দরপত্র মূল্যায়ন করে একই তারিখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড প্রদান করেন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ২৩/৬/২০১৮ ইং তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করেন। কার্যাদেশ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ প্রাপ্তির ৫ম দিনে অর্থাাৎ ২৭/০৬/১৮ ইং তারিখে কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত বিল একই তারিখে পাশ করেন ও প্রশাসনিক অনুমোদনসহ ব্যয় মঞ্জুরী প্রাপ্তির পূর্বেই বিল স্বাক্ষরপূর্বক জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে দাখিল করেন। এভাবে তিনি বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিক্যাল কোম্পানীর মালিক মো: জাহের উদ্দিন সরকারকে চার কোটি আট চল্লিশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার তিন শত টাকা আতœসাতে সহায়তা করেছেন। দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ও দরপ্রস্তাব দাখিলকারী বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিক্যাল কোং এর স্বত্বাধিকারী মো: জাহের উদ্দিন সরকার, মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী যথাক্রমে মোঃ আব্দুস সাত্তার সরকার (জাহের উদ্দিন সরকারের পিতা) ও আহসান হাবীব (জাহের উদ্দিন সরকারের ছেলে) এবং ইউনির্ভাসেল ট্রেড কর্পোরেশন এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আসাদুর রহমান (জাহের উদ্দিন সরকারের বোন জামাই)পরিচয় গোপন করে পরস্পর যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে সাজানো দরপত্র দাখিল করেন। অত:পর কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে সরকারের চার কোটি আট চল্লিশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার তিনশত টাকা উত্তোলন করে আত্বসাৎ করেছেন।
দুদক আইনজিবী হারুনর রশীদ জানান আসামী ডা, সরোয়াত হোসেন চন্দন প্রধান আসামী মেডিকেল কলেজের অধ্যাক্ষ নুর ইসলামের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। ডা, চন্দন ওই মালামাল ক্রয় কমিটি, দরপত্র কমিটি , বাজার দর যাচাই কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন দুর্নিতীর সাথে তিনিও সংপৃক্ত ছিলেন । ফলে মামলায় তাকেও আসামী করেছে দুদক। তিনি বিকেলে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তার বিরুদ্ধে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে অভিযোগ করে জামিনের আপত্তি প্রদান করার পর বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। উল্লেখ্য মামলার প্রধান আসামী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাক্ষ অধ্যাপক নুর ইসলাম কারাগারে এখনো আটক রয়েছেন তিনিও গত ২৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন না মজ্ঞুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।