1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
নিষেধাজ্ঞা উঠার পরও প্রাথমিকে শিক্ষক বদলিতে ধোঁয়াশা - রংপুর সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

নিষেধাজ্ঞা উঠার পরও প্রাথমিকে শিক্ষক বদলিতে ধোঁয়াশা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২২ জুন, ২০২২

 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি কবে শুরু হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গত তিন বছর ধরে এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালকের শেষ কর্মদিবসে বদলির নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমান শিক্ষকরা এখন আশার আলো দেখলেও কবে থেকে তা কার্যকর করা হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার আগে বদলি শুরুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

ডিপিই থেকে জানা যায়, করোনা মহামারির সময় প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির এক আদেশে শিক্ষক বদলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলমের নির্দেশে গত ১৩ জুন এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে এ নিষেধাজ্ঞার ফলে আশার আলোর পাশাপাশি নতুন বির্তকেরও সৃষ্টি হয়েছে।

দেশে গত প্রায় ছয় মাস ধরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এতদিন বদলির এ নিষেধাজ্ঞা বাতিল না করে, মহাপরিচালকের শেষ কার্যদিবসে সেটি করায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাবেক মহাপরিচালক তার নিজস্ব ব্যক্তিদের বদলি করতেই এ কাজ করেছেন।

শিক্ষককের একাংশ বলছেন, মহাপরিচালক নিজ ক্ষমতাবলে স্থগিতাদেশ বাতিল করে নিজ বাড়ি চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলার শিক্ষকদের বদলি করেছেন।

তবে মঙ্গলবার (২১ জুন) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে অনিয়ম করে শিক্ষক বদলি করা হয়নি বলে ডিপিই থেকে দাবি করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. মহিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষক বদলির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আপাতত এ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। তবে এ সময় বদলির জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। সেটি শেষ হলে কয়েকটি উপজেলায় পাইলটিং কাজ শুরু করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে মার্চে শেষ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামছুদ্দিন মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক কাজ করছেন। চাকরিতে যোগদানের পর কারো বিয়ে, ডিভোর্স, অসুস্থ হওয়া কিংবা সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে বদলি হওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। সমস্যাগ্রস্ত অনেক শিক্ষক বদলির অপেক্ষায় রয়েছেন। নিয়মিত স্কুলে আসতে ও পাঠদানে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের।

তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে বদলি হতে না পেরে কেউ কেউ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। পুরুষ শিক্ষকরাও নানা সমস্যার কারণে বদলি হয়ে থাকেন। শিক্ষক বদলি বন্ধ থাকায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এই মুহুর্তে সেটি চালু করা প্রয়োজন। নতুবা চলমান শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে তাদের যোগদান করানো হলে, পুরোনো শিক্ষকদের বদলি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এর ফলে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হবে। এসব সমস্যা নিয়ে ক্লাসে শিক্ষকরা পাঠদানে মনোযোগী হতে পারবেন না।

বিগত সময়ে দেখা গেছে, সাধারণত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি বছরের শুরুতে জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত করা হয়। শিক্ষকরা তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়ে থাকেন। সেটি উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস থেকে ডিপিইতে আসে। এরপর শুন্যপদ থাকা বিদ্যালয়ে ডিপিই থেকে শিক্ষক বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়।

তবে বদলির ক্ষেত্রে থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অনিয়ম শুরু হয়। টাকা না পেলে কোনো ধাপেই ফাইল ছাড়া হয় না। এরপর বড় অনিয়ম হয় ডিপিইতে। শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে ঢাকায় ৮ থেকে ১০ লাখ আর জেলাভিত্তিক ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা লেনদেন করার অভিযোগ রয়েছে ডিপিইর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন শাখা থেকে শিক্ষক বদলির কাজ করা হয়। এ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি বছর জানুয়ারি মাস আসার অপেক্ষায় থাকেন। বদলির মৌসুম এলেই একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক বদলি করা হয়। যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হন, তাদের দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হয়।

এসব অনিয়মের কারণে বিগত দিনে বদলি শাখার পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে এ প্রক্রিয়াটি ডিজিটালাইজ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত তিন বছর ধরে এ কার্যক্রম চললেও এখনো তা শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক বদলির অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি কার্যকরী করে তোলা হচ্ছে। আগের নিয়মেই শিক্ষক বদলি করা হবে। তবে সেটি অফলাইনের পরিবর্তে ডিজিটালাইজ পদ্ধতিতে করা হবে। এটি ডিপিইর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।সুত্রঃ,জাগো নিউজ।

 

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun