রংপুর সংবাদ » রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শালুর অনিয়ম ও কুকীর্তি ফাঁস

রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শালুর অনিয়ম ও কুকীর্তি ফাঁস


রংপুর সংবাদ জানুয়ারী ২৭, ২০২১, ৮:৪৫ অপরাহ্ন
রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শালুর অনিয়ম ও কুকীর্তি ফাঁস

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালুর
কুকীর্তিতে দুই সহযোগিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। আটককৃত ওই
দুইজন চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কুকীর্তি ফাঁস করে দেওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যেকর সৃষ্টি
হয়েছে। আটককৃতরা রৌমারী গ্রামের আলী দর্জির ছেলে নুরুন্নবী (৩৬) ও দক্ষিণ
বাউশমারী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এর ছেলে মো. হাফিজ (২৮)।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, গত ২২ জানুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদক দিয়ে নিরীহ
মানুষকে ফাঁসানো চক্রের নুরনবী নয়ন ও তার অন্যতম সহযোগী মো. হাফিজকে জনতা
আটক করে পুলিশে দেয়। পরে তাদের জবান বন্দিতে শহিদুল ইসলাম শালু চেয়ারম্যানের
কুকীর্তি ফাঁস করে দেয়। নুরনবী ও তার সহযোগী মো. হাফিজকে জনতা আটক করলে
তারা জানায়, রবিউল মেম্বারকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার এক সপ্তাহ
আগে চেয়ারম্যানের বাড়িতে বসে নুরুন্নবী ও শহিদুল ইসলাম শালু চেয়ারম্যান দ্বৈত
বৈঠকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রবিউল ইসলাম রানা মেম্বার, ১ নং
ওয়ার্ডের রবিউল করিম মেম্বার ও রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী
আফজাল হোসেন বিপ্লবসহ কয়েকজনকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে আইন প্রয়োগকারি
সংস্থার কাছে ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
প্রথমে রানা মেম্বার, রবিউল মেম্বার ও বিপ্লবকে ফাঁসানোর জন্য চুক্তি হয় ৫ লাখ টাকা।
প্রথম টার্গেট রানাকে না ফাঁসিয়ে রবিউলকে ফাঁসানো হলে ক্ষিপ্ত হয় শালু
চেয়ারম্যান। পরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা কম দেওয়ায় ঘটনাক্রমে বিষয়টি এক সময় ফাঁস
হয়ে যায়।
১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাদকে দ্বারা ফাঁসিয়ে যাওয়া মামলার ভুক্তভোগি রবিউল করিম
বলেন, আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান শালু একক আধিপত্য বিস্তার
করেন, লাভজনক বিষয়ে কোন রেজুলেশন না করে একাই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। ইউনিয়ন
পরিষদের আয় যেমন জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইন্সেস, ওয়ারিশ সনদ, বসতবাড়ির চকিদারি
টেক্স, ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় নির্মিত ঘর ভাড়া, উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ১% ও হাট
ইজারার ৫% টাকা তিনি একাই আত্মসাৎ করেন। এসবের হিসাব চাইলে তিনি আমাদের
উপর ক্ষিপ্ত হন। তার এহেন কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করি।
সেখানেও কোন প্রতিকার না পেয়ে আমরা ১০ জন সদস্য তার অনিয়ম দূর্নীতির চিত্র
তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবর অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করি। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চান। এখবরে চেয়ারম্যান প্রথমে
আমাকে লোভ দেখিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়। পরে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত
হইয়া মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেন। সত্যের পথে থাকতে গিয়ে মাদক মামলায়
হাজত খাটলাম, অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছি। প্রশাসনের
কাছে আমার দাবী সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার করা হোক।
কথা হয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রানার সাথে তিনি জানান, চেয়ারম্যান ২০১৬ সাল
থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ তহবিলের ২০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন
প্রকল্পের কাজ না করে কোটি টাকার উপরে আতœসাৎ করেন। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে
মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্ঠা করা হয়।
কথা হয় রৌমারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন
বিপ্লবের সাথে তিনি জানান, আমিও আওয়ামীলীগ করি তিনিও আওয়ামীলীগ করেন।
আমি দীর্ঘ দিন থেকে মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মিসহ জনগনের সেবা দিয়ে আসছি।
আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় আমার জনপ্রিয়তা দেখে
ঈর্ষানিত হয়ে আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়ঃ করার অপচেষ্টা করেন।এব্যাপারে রৌমারী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালুর সাথে কথা হলে তিনি
বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো মেম্বারকে আমি অসৎ প্রস্তাব দেইনি বরং তারাই
আমাকে দিয়েছে। আর মাদকের ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা নুরনবী ও হাফিজ অর্থ
অভাবি তাই মাঝেমধ্যে তাদের সহযোগিতা করতাম।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, রৌমারী সদর ইউনিয়নের
১নং ওয়ার্ড সদস্য রবিউল করিমকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর সন্দেহে স্থানীয় জনতা
তাদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে দুইজনকে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা
হয়েছে।