নীলফামারীর ডিমলায় ঘন কুয়াশা, হেটলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
নীলফামারীর ডিমলায় ঘন কুয়াশা, হেটলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি | রংপুর সংবাদ
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৩ অপরাহ্ন



নীলফামারীর ডিমলায় ঘন কুয়াশা, হেটলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

ডিমলায় ঘন কুয়াশা, হেটলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি
ডিমলায় ঘন কুয়াশায় হেটলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি। ছবি: যুগান্তর
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তাপমাত্রা নেমে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। তিস্তার পাড়ে সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশা থাকলেও রাতে কনকনে শীত অনুভূত হয়।

রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত হেটলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীসহ আশপাশের এলাকায় ডিসেম্বর মাসজুড়ে থাকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ভারতীয় হিমালয় পর্বতের কাছাকাছি হওয়ায় চারদিক থেকে ধেয়ে আসে শীত।

তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, আগুনের কুণ্ডলী জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে অসহায় পরিবারগুলো। শীতের সময় শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে অসহায় জনগোষ্ঠী।

বেশি বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শীতের সময় হাসপাতালে শীতজনিত রোগে বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া, হাঁপানি, ক্লোড ডাইরিয়া ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এ জেলায় শীতের প্রকোপ বেশি। শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দিন যতই যাচ্ছে শীতও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কার্তিকের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। ক্রমেই তা ভারী হচ্ছে।

গত ১০ দিন ধরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। কদিন থেকে সন্ধ্যার পরই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। দিনের শেষে বিকাল থেকেই শীতল হাওয়া আর সন্ধ্যার পর পরই কুয়াশা ঝরতে শুরু করেছে।

তিস্তা পাড়ের পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গেশ্বর এলাকার ময়েন উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৬টার পর তিস্তা এলাকায় কনকনে শীত পড়েছে।

ওই এলাকার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কিছামতের চরের বাসিন্দা আবদুল করিম জানান শীতের তীব্রতায় আগুনের কুণ্ডলী জ্বালাতে হচ্ছে।

জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের বেলাল হোসেন দোগাছী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, শীতের কারণে দুপুর ১২টার আগে কৃষিজমিতে কাজে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ কারণে স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ঘটছে।

অপরদিকে একই গ্রামের কৃষি শ্রমিক আবদুল মালেক বলেন, শীতের কারণে কাজ কমে গেছে। আর যেটুকু মিলছে তাতে মজুরি কম আসছে। পাশাপাশি শীতবস্ত্রের অভাবে পরিবারের দুই শিশুসন্তানসহ দুর্ভোগে আছি।

শীতের কারণে আগের তুলনায় লোক সমাগম কমেছে জেলা শহরে। ফলে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে ব্যবসাবাণিজ্যে।

জেলা শহরের ব্যবসায়ী আবুল কালাম (৪৫) বলেন, লোকসমাগম কমার কারণে দোকানে বিক্রি কমেছে।

ডিমলা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাহামুদুল ইসলাম বলেন, রোববার ডিমলার ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের খগাখড়িবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মজিদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, এবার যে শীত পইছে, গরিবের মরণ ছাড়া উপায় নাই বাহে। প্যাটোত ভাতে জুটেনা আর গরম কাপড় কোনটে পামো। মোর তো কাহো নাই একনা কম্বল কিনি দিবে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে সরকারিভাবে ৫০০ কম্বল দেয়া হয়েছে। তার ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কাতর হয়ে পড়েছে। সেখানে সরকারিভাবে শীতবস্ত্রের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডিমলায় পাঁচ হাজার ৬০০ কম্বল বিতরণের কথা নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমুন নাহার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএ হায়াত জানান, জেলায় এ পর্যন্ত তিন দফায় ৪২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ হাজার কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত তা পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ