রংপুর সংবাদ » আমি হিমালয় দেখিনি,দেখেছি আমার বাবাকে

আমি হিমালয় দেখিনি,দেখেছি আমার বাবাকে


রংপুর সংবাদ জানুয়ারী ১৬, ২০২১, ৯:২৭ অপরাহ্ন
আমি হিমালয় দেখিনি,দেখেছি আমার বাবাকে

রাকিবুজ্জামান আহমেদ। আমি হিমালয় দেখিনি
শুনেছি সেখানে নাকি এভারেস্ট নামের
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ
দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে!
কিন্তু আমি দেখেছি আমার বাবাকে
যিনি তার অক্ষম সন্তানদের
বিশাল বটবৃক্ষের মত মাথা উঁচু করে
দাঁড়িয়ে থেকে ছায়া দেন অবিরাম।

জীবনে চলার পথে কখনো কখনো নিজেকে দুঃসাহসিক হবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা হয় আমার মধ্যে। ইচ্ছে হয় আমার সীমানা পেরিয়ে গিয়ে অনেক উচুঁতে উঠতে অথবা আমার থেকে অনেক বড় কিছু নিয়ে ভাবতে বা কথা বলতে। আমি ক্ষুদ্র, সাধারণ, অতি সাধারণ তাই বলে কি আমার বলতে নাই, মত প্রকাশ করতে নাই- অবশ্যই আছে। আমি জানি আমার জ্ঞানের পরিধি সীমিত। তারপরও আমি চেষ্টা করি নিরন্তর- নিজকে শানিত করতে। শুদ্ধ করতে। পরিশীলিত করতে। আমার এ প্রচেষ্টা আমৃত্যু আমি করব ইনশাআল্লাহ।

লেখার শুরুতেই দুঃসাহসিক হবার কথা বলছিলাম- তারই অংশ হিসেবে আজ আমি সাধারণ মানুষের থেকে উঠে আশা এবং গ্রামের শুদ্ধ মাটির ভেতর থেকে উঠে আসা এক অসাধারণ পূর্ণ মানুষের কথা বলব। যিনি তার জীবনের প্রায় র্অধ শতাব্দি শুধুমাত্র মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের সমস্ত প্রাপ্তি কিংবা দেওয়া-নেওয়ার হিসাবকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দল-মত, শ্রেণি ধর্ম, উঁচু নিচুর বিভেদকে অতিক্রম করে নিজকে সকল মানুষের সর্বোপরি সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠার যে পথ পরক্রিমা, তা নিতান্তই সংক্ষপ্তিভাবে তুলে ধরবার একটা প্রয়াস মাত্র। আমি জানি এ আমার দুঃসাহস কিন্তু মনের ভেতর থেকে যে লিখতে একটা তাগাদা বোধ করছি। সেটাকে কেন যেন ফাঁকি দিতে মন চাইছে না- তাই লেখাটা শুরু করলাম।

হ্যাঁ, আজ আমি আমার সম্মানীয় পিতা জনাব নুরুজ্জামান আহমেদ এর কথাই বলছি। যিনি তার নিরলস প্রচেষ্টার মধ্যদয়িে আজকের জায়গায় নিজেকে অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয় রূপে তৈরি করেছেন। যিনি তার চলার পথে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন অতিরঞ্জন। বাড়াবাড়ি কোন কিছু তার খাতায় নেই, নিটোল সুস্থ স্বাভাবিকতাই যার একমাত্র বাহন। ছোট থেকে রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও গ্রামের সরল স্বাভাবিক জীবন তাকে সকলের মতো হয় বন্ধু, শুভাকাঙ্খি সর্বোপরি আশ্রয়স্থল হিসাবে গড়ে তুলছে। আজ হয়ত সময়ের পরিক্রমায়, সততার পুরস্কার হিসাবে তিনি মন্ত্রী পদর্মযদায় আসীন তার চেয়ে অনেক বেশী তিনি উত্তরবঙ্গের সরল পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর প্রানান্ত ভালবাসার এক নিখাদ আশ্রয়স্থল।

যেখানে নেই কোন দল, নেই কোন ধর্ম, নেই কোন মত, সকল মানুষ অবলীলায় তাদের ভাল-লাগা, খারাপ লাগা বলতে দ্বিধা করেন না। জামান সাহেবের কাছে চলো সমাধান একটা বের হবে ইনশাআল্লাহ।

এটা একজন সফল রাজনৈতিক কর্মীর র্দীঘ পাঁচ দশক ধরে সুর্দীঘ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তৈরী। হ্যাঁ তিনি সততার সাথে কোন প্রতিদান প্রত্যাশা না করে নিখাদভাবে ভালোবাসেন তার এলাকার মানুষগুলোকে। আসলে ভালোবাসার মূল্য ভালোবাসা দিয়েই দিতে হয় এবং তেমনিভাবেই পাওয়া যায়। রাজনৈতিক ভাবে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষগুলোও তার কাছে আসেন- দ্বিধাহীন বিশ্বাসে। তারা সকলেই অকপটে স্বীকার করেন যে, জামান সাহেব যে কোন মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন কিন্তু ক্ষতি করেন না।

আমার বাবার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদারতা, দূরদর্শিতা ও ধার্মিকতা আমাদের সমাজটাকে সুন্দর এবং শান্তিময় করে রেখেছে। তার সঠিক ও কল্যাণমুখী নেতৃত্বে এতদঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো আজ প্রখর সূর্য নিয়ে দেশ গঠনের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। সহজ সারল্যে তার ব্যক্তিগত জীবন মেধা, মনন, সততা,নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য ও ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে তার জীবন ব্যক্তিত্ব।

পোশাকে আশাকে, আচরণে, ব্যক্তিত্বে ও কল্পনায় কোথাও কোনো প্রকার বিলাসিতা ও কৃত্রিমতার বিন্দুমাত্র ছাপ নেই।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও ধার্মিক। তিনি নিয়মিত ফজরের নামাজ পড়ে কোরআন তেলওয়াত করে বিভিন্ন আমল ও জিকিরের মাধ্যমে তার দিনের সূচনা ঘটান। সারাদিন তিনি বিভিন্ন কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন আমল করেন ও ওযু অবস্থায় থাকেন। তিনি পবিত্র হজ পালন করেছেন।

একজন ভালো মানুষ হিসেবে, সৎ মানুষ হিসেবে একজন সহজ সরল মানুষ হিসেবে, একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার অবদান ও গুরুত্ব দল, দলীয় প্রধান এবং জনগণের কাছে স্বীকৃত, নিখাঁদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মনোবল, মানসিকতা ও মানবিকগুনাবলি তাকে অসীন করেছে। তৃণমূল রাজনীতি ও মন্ত্রিত্বের আসনে তিনি লালমনিরহাটের মানুষের ঐক্যের প্রতীক এবং আশা ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিবিড় ছায়ায় রয়েছেন আমার বাবা। দেশ প্রধানের ভালোবাসার পেখমে জড়িয়ে আছেন তিনি।নেত্রীর প্রতি বাবার রয়েছে অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। নেত্রী হলেন আমার বাবার শেষ ভরসাস্থল। আস্থার ঠিকানা।

বাবার বন্ধু ও সমবয়সীদের কাছে থেকে জানা যায় যে, ছাত্র জীবন থেকে তিনি শান্ত এবং মৃদুভাষী প্রকৃতির কিন্তু আত্মিকভাবে ভীষণ দৃঢ়চেতা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার বিশ্বাসের সমান বড়। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুষভান্ডার আর এমপি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করে। উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজ, রংপুর এ স্নাতক ডিগ্রী র্অজন করেন। ছাত্র জীবনেই রাজনৈতিক হাতে খড়ি। পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন একজন গর্বিত বীর সেনানী হিসেবে। ছাত্র জীবনের বন্ধুরা বিভিন্ন দল-মত বা পথে বিভক্ত হলেও কখনো নোংরা হানাহানি স্পর্শ করেনি তাকে। ভিন্ন মতালম্বিদের প্রতি তিনি যে যুক্তিসংগত সম্মান প্রর্দশন করেন, তা তাদের সকলের ক্ষেত্রে তাকে সম্মানের আসনে অধিষ্টিত করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তার ভালো লাগার তিনটে জিনিস আমি তার খুব প্রিয় বলে জেনেছি –
১) এলাকার সাধারণ মানুষ, কর্মী-সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের উপকার করা , তাদের কল্যান করা , মঙ্গল কামনা করা , এবং এলাকার উন্নয়ন সাধনই হচ্ছে তার নেশা ।
২) একান্ত অবসরে নিজের মত করে থাকার সময় তিনি বই পড়েন। প্রচুর বই পড়ার আনন্দ আছে তার ; কবিতার প্রতি আছে প্রচন্ড আগ্রহ।
৩) ছোট্ট শিশুদের সাথে মজা করা এবং তাদের সাথে সময় কাটাতে ভীষণ পছন্দ তার।

এছাড়া ধর্মীয় আমল জিকির আসকারে সময় পার করেন বেশি।

একটি সত্য সর্বজনবিদিত সবার প্রিয় জামান সাহেব ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ রকমের ধর্মপরায়ন। জীবনে প্রতিটি পদে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন- ধর্মীয় অনুশাসন এবং আচার অনুষ্ঠান যথাযথ ভাবে পালন করতে। রাজনৈতিকভাবে যারা তার ভিন্ন মতালম্বী অথবা যারা তাকে পছন্দ করেন না, এমন মানুষটিও সরল মনে দৃঢ় ভাবে বলেন যে, জামান সাহেব কখনো নামাজ মিস করেন না, ওনি পরহেজগার মানুষ। এটা নিশ্চই একটি র্দীঘ প্রচেষ্টার ফসল। যা তিনি ধারণ করেন এবং মনের থেকে লালন করেন।

বাবা মানেই সীমাহীন এক বটবৃক্ষের ছায়া- সন্তানের কাছে এক পরম নির্ভরতার প্রতীক।
বাবা মানে মাথার উপর শীতল কোমল ছায়া। বাবা মানে ডালপালা মেলা এক বিশাল বটবৃক্ষ। ধুম বৃষ্টিতে বা তীব্র জ্বালাময় রোদে বাবা সন্তানের কাছে শান্তিদায়ক ছাতা। ঘুটঘুটে অন্ধকারে পথ দেখানো আলো।

পৃথিবীর সুন্দরতম শব্দগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর শব্দ বাবা। বাবা হলো অদ্বিতীয় আলো।যার আলোয় আলোকিত হয় আমাদের সারা জীবনের পথচলা। বাবা শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্ভরতা, রয়েছে এক বিশালতা। পাহাড় সমান বিষন্নতাকে শুষে নেয় নিমিষেই। মানুষের জীবন আকাশের রংয়ের মত। যে কোন মুহুর্তে জীবনের রং পাল্টে যেতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে জীবনের গতি। যাদের বাবা প্রয়াত তারাই শুধু অনুভব করতে পারবে বাবার স্নেহ কতটা শক্তিশালী। এই ভালোবাসা জগতের সকল কিছুর তুলনার উর্ধে।

অথচ এই আবেগের কথাগুলো কখনোই যেন বাবাকে বলা হয় না। কিন্তু রক্তের প্রতিটি কণিকায় ঠিকই এই মানুষটার জন্য ভালোবাসার ঝংকার তৈরি হয়। বলতে মন চায়, তুমি শুধুমাত্র আমার বাবা নও, বেহেশত থেকে পাঠানো এক ফেরেশতা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাবার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, ‘বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হন; আর বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘যখন কোনো সন্তান বাবা-মার প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকান; আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দৃষ্টি বিনিময়ে সন্তানের আমলনামায় আল্লাহ তাআলা একটি কবুল হজের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। এমনকি সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বনবি বলেন, কেউ যদি একশত বার তাকায়, তার বিনিময়ে একশত কবুল হজের সাওয়াব তার আমলনামায় যোগ হবে। (সুবহানাল্লাহ)

আপনাদের কাছে আমার বাবা হয়তো একজন সংসদ সদস্য, একজন মন্ত্রী। কিন্তু তিনি আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মানুষদের মধ্যে একজন। সারাটা জীবন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও পরিশ্রমের সাথে জীবন অতিবাহিত করছেন তিনি। খুব কষ্ট করে মানুষ করেছেন আমাদের। সেই প্রথম আমার অক্ষর দেখা। ভালো করে বুঝিও না অথচ কি এক আনন্দে, বিস্ময়ে আমি সেগুলি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি। এরকম আরো কত বিস্ময়, কত অজানাকে প্রথম জেনেছি বাবার হাত ধরে! তিনিই প্রথম শিখিয়েছেন, “বড়লোক না বড়মাপের মানুষ হওয়াটাই সত্যিকারের স্বার্থকতা জীবনে।”

আমার বাবা চিরকালই অপ্রকাশিত একজন মানুষ! মাঝে মাঝে মনে হয় ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা- এইসব অনুভূতিগুলো আমার বাবা খুব যেন যত্ন করেই চাপা দিয়ে রেখেছেন। প্রকাশিত হতে দেন নি! আর এতই স্বতঃস্ফুর্ত সেই অপ্রকাশ, সেটাকেই স্বতঃসিদ্ধ বলে জেনেছি। জীবনে যাই ঘটে, বাবাকে পাশে পাই সব সময়- দুঃখে-সুখে-বিপদে-আনন্দে। এই অনুভূতিটাই আমাকে একটা নিরাপত্তা আর নির্ভরতার বোধ দেয়। দেয় আত্মবিশ্বাস।

বাবা তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন রাজনীতিবিদ- একজন মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নিজ পিতা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা ছাত্রজীবনেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।

১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯০ সাল তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে দু’বার তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালের ১৯ জুন আমার বাবাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও একই বছরের ২১ জুন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার দেয়া হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে আমার বাবা মন্ত্রণালয়ে সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

আপনারা জানেন, সরকারের ৫২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ এরমধ্যে ২০১৯-২০২০ইং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

আমার বাবার নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের এ সফলতায় আমি গর্বিত। আনন্দিত। আপ্লুত।

এ সফলতা অর্জনের জন্য যারা রাতদিন কাজ করে চলেছেন সেজন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

পেশায় রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণে আমি দেখেছি, আমার বাবা তার আসনের মানুষের জন্য এবং দেশের মঙ্গলের জন্য কীভাবে কাজ করে চলেছেন। ব্যক্তি জীবনে কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে দেখিনি কখনো। তাই আপনাদের কাছে একান্ত নিবেদন, আমার বাবার জন্য প্রাণভরে দোয়া করবেন। সেইসঙ্গে আমি যেন তার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে পারি এবং তার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারি, সেজন্য আমাকেও দোয়া করবেন।

বাবার উদ্দেশ্যে আরেকটু কথা-

যখন আমার রোদ লেগেছে, ছাতা ধরেছ তুমি আমার মাথায়।
যখন কেউ আঘাত হেনেছে, ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছ তুমি আমার সামনে।
যখন আমি একা হয়ে গেছি, তুমিই আমার হাত ধরেছ।
মাঝ সমুদ্রে দক্ষ নাবিকের মতো আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছ তুমি।

আমার বলতে বাধা নেই, এমন একজন মানুষের সন্তান আমি। সৃষ্টির আনন্দ যার নিরন্তন। অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এতদাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানব কল্যানে সৃষ্ট বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। অধিকন্তু, বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয় এবং হচ্ছে তার নিরন্তন প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। আমি তাকে প্রায়ই বলতে শুনি আমি নই আমার কাজ আমায় বাঁচিয়ে রাখবে। তাই কষ্ট করি তাই এ আনন্দ পাই। তিনি বলনে- অনেক কষ্টের পর যখন নতুন কিছু সৃষ্টি হয়, মানুষের জন্য মানবতার জন্য, তার আনন্দ অনুভব করা যায়, বলা যায় না।

জানি এ লেখা লিখতে গেলে আরো অনেকটা সময় লেখা সম্ভব কিন্তু আজ আর লিখছি না। ভবিষ্যতে আবারো লিখবো এ প্রত্যাশা রেখে আজ শেষ করছি।

মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা’

বাবাকে নিয়ে কোন উপমা বা বর্ণনা পৃথিবীতে আজও সৃষ্টি হয়নি। তামাম দুনিয়ার যত শব্দ আছে তা সংযুক্ত করলেও বাবার গুণগান শেষ হবে না।

আমার বাবা শাসনে কঠোর, ভালোবাসায় কোমল, স্নেহে উদার, ত্যাগে অগ্রগামী।

বাবা তোমায় জানাই শতকোটি সালাম। দোয়া। ভালো থেকো বাবা।

পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি রইলো অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।