রংপুর সংবাদ » একাত্তরের টর্চার সেল রংপুর টাউন হলকে ‘শহীদ স্মৃতি হল’ নামকরণের দাবি

একাত্তরের টর্চার সেল রংপুর টাউন হলকে ‘শহীদ স্মৃতি হল’ নামকরণের দাবি


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯, ৩:৪৫ অপরাহ্ন
একাত্তরের টর্চার সেল রংপুর টাউন হলকে  ‘শহীদ স্মৃতি হল’ নামকরণের দাবি

সাইফুল ইসলাম মুকুল,রংপুরঃ

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত রংপুর টাউন হলকে ‘শহীদ স্মৃতি হল’ নামকরণের দাবি জানিয়েছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

বিজয়ের মাসে টাউন হল চত্বরে ‘শহীদ স্মৃতি হল’ নামকরণে গণস্বাক্ষর কার্যক্রমের এ দাবি জানান তাঁরা।

রংপুর টাউন হলে ১৯৭১ সালের ৯ মাসজুড়ে চলে হানাদার বাহিনীর নারকীয় তান্ডব পাকিস্তানি হানাদাররা টাউন হলটিকে বানিয়েছিল কনসেনট্রেশন ক্যাম্প অর্থাৎ টর্চার ক্যাম্প।

মুক্তিকামী নিরপরাধ বাঙালিদের ধরে এনে এখানে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। বাঙালি রমণীদের ধরে এনে এখানে আটকে রেখে দিনের পর দিন করা হতো ধর্ষণ।

পরে একসময় তাঁদের হত্যা করা হতো। অসহায় নারী-পুরুষের আর্ত চিৎকারে ভারী হয়ে উঠত রংপুর টাউন হল এলাকা। নির্মম নির্যাতনের পর একসময় তাঁদের হত্যা করে বরইগাছের নিচে অথবা পাশের তৎকালীন উদ্ভিদ উদ্যান কেন্দ্রের আমবাগানে মাটিচাপা দেওয়া হতো।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রংপুর জেলা শাখার সভাপতি, ডাক্তার মফিজুল ইসলাম মন্টু, বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও সেখানে কতজনকে হত্যা করা হয়েছিল তা আজ কেউ বলতৈ পারে না।

আমাদের জোর দাবী সরকার মেনে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে টাউন হলকে শহীদ স্মৃতি হল নাম করণ করে দিবে।

মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মুকুল জানান, বর্তমান প্রজন্ম জানে না এই টাউণ হলে যুদ্ধ চলাকারীন সময়ে কী হয়েছেলো যদি শহিদের নামে নাম করণ করা হতো তাহলে বর্তমান প্রজন্মের অজানা থাকতো তাই জোর দাবী জানাই। টাউন হলের নাম পরির্বতন করে শহীদের নাম করণ করা হোক।

ছড়া সংসদ ও মৌচাকের সম্পাদক কবি সাহিত্যিক রেজাউল করিম জীবন বলেন, টাউন হলকে ‘শহীদ স্মৃতি হল’ হিসেবে নাম করণ করার জন্যে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবী জানায় আসছি ।

এটা দুঃখের বিষয় যে বিজয়ের মাস শেষ হতে চললো তবুও আমরা কোন আশ্বাস পেলাম না।

স্বাধীনতার এত বছর পরও সেখানে কতজনকে হত্যা করা হয়েছিল, কারা শহীদ হয়েছেন তাদের কোনো তালিকা তৈরি হয়নি।

রংপুর টাউন হল টর্চার কেন্দ্রে সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের কোনো নিদর্শন নেই। এমনকি স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ একটি সাইনবোর্ড লাগানোরও উদ্যোগ নেননি। সম্প্রতি একটি সংগঠন রংপুর টাউন হলকে ‘শহীদ স্মৃতি হল’ হিসেবে ঘোষণা দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।