রংপুর সংবাদ » ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্থবির রংপুর অঞ্চলের জনজীবন

ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্থবির রংপুর অঞ্চলের জনজীবন


রংপুর সংবাদ জানুয়ারী ১২, ২০২১, ৫:৩৪ অপরাহ্ন
ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্থবির রংপুর অঞ্চলের জনজীবন

 
স্টাফ রিপোর্টার। তীব্র শীতে হিমালয় নিকটবর্তী রংপুর অঞ্চলের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ২ দিন থেকে দেখা মিলছে না সুর্যের । এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম, ভোগান্তিতে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ। আবারও কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের কয়েক লাখ শীতার্ত মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। পরিবার গুলোতে শীতের পোশাক না থাকায় খড়কুটোর আগুনই ভরসা করে চলছে শীতার্ত দুস্থ মানুষ।
সোমবারের ন্যায় মঙ্গলবার সারাদিনেও সূর্যের দেখা না পাওয়ায় বেড়েছে ঠান্ডার তীব্রতা। এতে কাবু হয়ে পড়েছে তিস্তা-ধরলাপারের শিশু,বৃদ্ধ সকলেই। তিস্তা-ধরলা পারের মানুষ জন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে 9.3 ডিগ্রী সেলসিয়াস।। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের সহকারি আবহাওয়াবিদ  মোস্তাফিজার রহমান।।
পৌষের শেষ সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে সকাল ১০ টা ও সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন তারা। ঠান্ডার কারণে কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন খেটে-খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
একটু উষ্ণতা পাওয়ার আশায় গ্রামাঞ্চলের শীতবস্ত্রহীন মানুষ তাকিয়ে থাকছেন সূর্যের আলোর দিকে। সারাদিন ঠাণ্ডার তীব্রতার কারণে হাট-বাজারেও লোকসমাগম অনেকটাই কম।
তিস্তাপাড়ের রুদ্রেশ^র গ্রামের আফাজ আলী জানান, সকাল ৬ থেকে ৯ পর্যন্ত কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারনে ঘর থেকে বেড় হওয়া যায় না। তিস্তা পাড়ে প্রচুর শীত। এই এলাকায় বেশী ভাগ মানুষ দিনমজুর ও জেলে। ঠান্ডায় কাজ কর্ম না পেয়ে এই শীতের মৌসুমে তাদের কষ্ট বেড়ে যায়।
হাতীবান্ধার উপজেলার ফকিরপাড়ার রিক্সাচালক অনীল চন্দ্র বলেন, ঠাণ্ডা আর কুয়াশার জন্য সকাল থেকে রিক্সা বের করার সাহস পাইনি। শীতে যাত্রীও পাওয়া যায় না। বিকেল ৩টা এখন পর্যন্ত কোন ভাড়া পাইনি। ডাউয়াবাড়ি গ্রামের মনির মিয়া বলেন, ঠাণ্ডার কারণে কোনো কাজকর্ম করতে পারছি না। অনেক কষ্টে রাত কাটিয়েছি। গায়ে কাপড় নাই তাই বাহিরে বের হতে পারি নাই।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দিনমজুর সবুর আলী বলেন, এই ঠান্ডার মধ্যে কাজকাম করতে পাই না আমি গরিব মানুষ পরিষদে কম্বল আসে সবাই পায় আমি পাই না। শুধু হাতের উপর সংসার আমার।
চরবেষ্টিত আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা দুর্গম। এখানে প্রায় ১২টি চর রয়েছে। এসব চরে বসবাসকারী শীতার্ত মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র বলতে ৩২৫টি কম্ভল পেয়েছি । তিনি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, দহগ্রাম ইউনিয়নের পাশেই হিমালয় তাই এই এলাকায় প্রচুর শীত আর কনকনে ঠান্ডা। দুই দফায় ২৯০টি কম্বল আমার ইউনিয়নের জন্য সরকারিভাবে পেয়েছি। তিস্তার পাড়ের শীতার্তদের মাঝে তা বিতরন করেছি। লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা.নির্মলেন্দু রায় বলেন, হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। উপজেলা মেডিকেল টিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান,লালমনিরহাটের শীতার্তদের জন্য প্রায় ২৯ হাজার ৮ শত কম্বল ও ৩৭ লক্ষ টাকা ৫ উপজেলার জন্য শুকনা খাবার পেয়ে তা বিতরন করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান আছে।
এদিকে লালমনিরহাটের সির্ভিল সার্জন ডা: নির্মলেন্দু রায় জানান, গত দুই দিনে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সদর হাসপাতালসহ ৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সংখ্যা বেড়েছে । গত ২৪ ঘন্টায় ২৭৩ জন শীতজনিত রোগী চিকিৎসা নিয়েছে । ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন ।