রংপুর সংবাদ » বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহকর্মীর কন্যার জমি বেদখলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহকর্মীর কন্যার জমি বেদখলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯, ১১:০০ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহকর্মীর কন্যার জমি বেদখলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

রেজাউল করিম মানিক,নীলফামারী থেকে ফিরেঃ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর অবিভক্ত রংপুর জেলার পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা-কালিগঞ্জ আসনের ১৯৫৪ সালে নির্বাচিত যুক্তফ্রন্টের এমএলএ আবুল হোসেন আহমেদের কনিষ্ঠ কন্যা রেজিনা বেগমের ২ একর জমি অবৈধভাবে দখল করেছে প্রভাবশালীরা। আদালত সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা দিয়ে বুঝে দেয়ার পরও ওই জমি দখলে করেছে তারা। স্থানীয় পুলিশও দখলদারদের পক্ষে।

জমি উদ্ধারের দাবিতে ভুক্তভোগি এই বৃদ্ধা নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।

সরেজমিনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বন্দর খড়িবাড়ি (টুনিরহাট) গ্রামের নিজ বাড়িতে কথা হয় বয়োবৃদ্ধা রেজিনা বেগমের সাথে। তিনি জানান, আমার বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর। যুক্তফ্রন্টের সময় নির্বাচিত এমএলএ। ১৯৪৪ সালে আমার জন্ম।

আমার বয়স যখন এক বছর তখন আমার মা মারা যায়। ১৯৫৪ সালে বাবা যখন এমএলএ হন তখন থেকেই আমি ঢাকার আজিমপুরে এমপি হোস্টেলে বাবার সাথে থাকতাম।

সেই সময় থেকে আমি বাবার সাথে অসংখ্যবার বঙ্গবন্ধুকে রমনা রেস্ট হাউজে দেখেছি। সাংবাদিকরা ছবি তুলতেন। মাঝখানে থাকতেন একেএম ফজলুল হক, দুইপাশে থাকতেন অন্যান্যরা।

সময়ের পরিক্রমায় আজ তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় তখন আমি আমার নিজের জমি উদ্ধারের দাবিতে আইন আদালত করছি।

পুলিশের কাছে যাচ্ছি। সাংবাদিক সম্মেলনও করেছি। তবুও কোন সুফল পাচ্ছি না।
বয়োবৃদ্ধা রেজিনা বেগম বলেন, ১৯৮৫ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৯২ সালের ৯ জুলাই একমাত্র পুত্রও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ৫ মেয়েকে বিয়ে দেয়ায় তারা বাইরে থাকেন।

স্বামী ও পুত্রের মৃত্যুর পর আমার শাশুড়ীর কাছ থেকে পাওয়া ২ একর জমি আমার দেবর পুত্র ছামিউল গণি চন্দন বেদখল করে নেন। বিষয়টি নিয়ে আমি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করি। আদালত আমাকে বাটোয়ারার রায় দিয়ে কমিশনের মাধ্যমে ঢাকঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝে দিয়ে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেয়।

এরপর আমি আমার জমাজমির তত্ত¡াবধায়ক লুৎফর রহমানকে দিয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে ছামিউল গণি চন্দন ও তার লোকজন আমার তত্ত¡াবধায়ককে জমি থেকে বের করে দিয়ে পুনরায় জমিটি দখল করে নেয়। এরপর তারা সানি কেস দেয়। তাতে আদেশটি স্থগিত হয়।

বলা হয় কেউ নামতে পারবে না। কিন্তু তারা জমি দখল করে হাল চাষ করেছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় ওসি ও এসপিকে জানানোর পরও এখন পর্যন্ত আমি আমার আদালত থেকে বুঝে দেয়া জমির দখল পাচ্ছি না।

উল্টো ডিমলা থানার এসআই সোহেল এসে আমাকে শাসিয়ে গেছে। তিনি আমাকে বলেছেন, আদালত বুঝে দিয়েছে, তাতে কি হয়েছে। আগে যাদের দখলে ছিল, তারা জমিতে হাল দিতে পারে। এটা দোষের কিছু নয়। বিষয়টি আমি মোবাইলে ডিমলা থানার ওসিকে জানাই। তিনিও একই কথা বলেন। পুলিশের এধরনের কথায় আমি বিস্মিত হয়েছি।

বয়োবৃদ্ধা রেজিনা বেগম আরো বলেন, আমার ৫ মেয়ে এখন বাইরে থাকে। এখন ছামিউল গনি চন্দন, জুলফিকার মোহাম্মদ গনি ও জিন্নাহ গনি আমাকে এবং আমার জমাজমির তত্ত¡াবধায়ককে হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করারও হুমকি দিচ্ছে।

জমিতে নামলে তারা আমাদের জানে মেরে ফেলবে। তারা আমার সমস্ত জমি জমা দখল করার পাঁয়তারা করছে। শুধু তাই নয়, আমি জমিজমা বিক্রি করতে গেলেও তারা বাঁধা দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।

আমি অসুস্থ। একলা বাড়িতে থাকি। যেকোন সময় তারা আমার জীবনের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার বাবার একজন ঘনিষ্ট একনিষ্ঠ সহচরের মেয়ে হিসেবে আমার বেদখল হওয়া ২ একর জমি উদ্ধার এবং আমার বাকী জমিজমা বেদখল হওয়া থেকে রক্ষা করতে আবেদন জানাচ্ছি।

এদিকে জমি উদ্ধারের দাবিতে নিজ বাড়িতে সোমবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন রেজিনা বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেজিনা বেগমের আইনজীবি এ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম, বড় জামাই আলহাজ্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ছোট জামাই আলমগীর হোসেন রন্টু, বড় মেয়ে সুলতানা জাহান, জমাজমির তত্ত¡াবধায়ক লুফর রহমান, নবিরুল হোসেন প্রমুখ।