রংপুর সংবাদ » নীলফামারীতে ইটভাটায় মাটি বহনের ট্রাক্টরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রশাসন নিরব?

নীলফামারীতে ইটভাটায় মাটি বহনের ট্রাক্টরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রশাসন নিরব?


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ৩১, ২০২০, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
নীলফামারীতে ইটভাটায় মাটি বহনের ট্রাক্টরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রশাসন নিরব?

 

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী ঃ

অবাধে বিক্রি হচ্ছে ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি। খননযন্ত্র ও শ্রমিক দিয়ে কেটে এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের দুহুলীতে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যাক্তির ইটভাটা। দীর্ঘদিন ধরে চলছে তাদের রমরমা ব্যবসা। এলাকার কেউ বাঁধা দিলে ভয়ভীতি ও লাঞ্ছিত করেন। তারা কিছু সংখ্য কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিজের ভাটায় সরবরাহ করছেন। এর ফলে সামনের বছরগুলোতে ফসল উৎপাদনে এর প্রভাব পড়বে বলে জানায় স্থানীরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের দুইজন কৃষিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
উপরিভাগের ছয় থেকে ১০ ইঞ্চির মধ্যে জমির খাদ্য ও জৈব উপাদান থাকে। এ অংশের মাটি কেটে ফেলা হলে খাদ্য ও জৈব উপাদান কমে গিয়ে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এছাড়াও এ আবাদি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে,ট্রাক্টর ফলে ট্রাক্টর গুলো নিয়ম নীতি না মেনে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক গুলো ব্যবহার করছে। ফলে সড়ক গুলো চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

এবং ট্রাক্টটরের চলাচলে এলাকা গুলো ধূলোর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এ ধূলো-বালুর কারণে কচুকাটা ইউনিয়নের সড়ক গুলো দিয়ে চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ধূলোর অত্যাচারে সড়কের ধারে বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। ওই এলাকাগুলোতে ঘরে ঘরে সর্দিকাশি ও স্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। হচ্ছে ধূলোজনিত নানান রোগ। কচুকাটা ইউনিয়নের সাজেদুল,মনিরুল,তাবেদুল সহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন এই ইট ভাটা কচুকাটা ইউনিয়নে গড়ে উঠায় এখানে ট্রাক্টর চালক ও মালিকদের একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। কেউ ট্রাক্টরের মালিক ও ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। ধূলোর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তারা খিয়ারজুম্মা থেকে দলবেঁধে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাধারণ জনগণ বা প্রতিবাদ কারীদের লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
কচুকাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ চৌধুরী বলেন, আবাদি জমির মাটি কেটে ভাটায় দেওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসীর একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। জমির উপরিভাগের আবাদি জমির মাটি কেটে নেয়া ও গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক গুলো ট্রাক্টর চালিয়ে ধূলোয় পরিনত করার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান আবাদি জমির উপরিভাগের মাটিতে জমির প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জৈব উপাদান থাকে। জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলা হলে খাদ্য ও জৈব উপাদান কমে গিয়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক অংশে হ্রাস পায়। এজন্য মাটি কেটে নেয়ার পরের সময়ে সেই জমিতে আশানুরুপ ফসল পাওয়ার সম্ভবনা থাকে না। তবে কয়েক বছর পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

এলাকাবাসী সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছে।