রংপুর সংবাদ » ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি

২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ২৯, ২০২০, ৯:১২ পূর্বাহ্ন
২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি

রংপুর সংবাদ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের অর্থনীতির চমকপ্রদ সাফল্যের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সিইবিআরের রিপোর্টে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। সূত্র : বিবিসি।

ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২১’ নামের এ রিপোর্টটি গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। এতে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে তারই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এ রিপোর্ট অনুযায়ী আর মাত্র সাত বছর পরপরই চীন হবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ২০৩০ সালে ভারত হবে তৃতীয়। আর ২০৩৫ সাল নাগাদ ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বহু ধাপ ওপরে উঠে পৌঁছে যাবে ২৫ নম্বরে। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

সিইবিআর বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক ওলট-পালট ঘটে গেছে।

ইউরোপ-আমেরিকার বেশির ভাগ বড় অর্থনীতির দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে চীন খুব কৌশলে করোনাভাইরাস দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবিলার কারণে সামনের বছরগুলোয় পৌঁছে যাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। চীন যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে তাকে সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সিইবিআর বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হয়েছে। আগে যা ধারণা করা হয়েছিল তার থেকে পাঁচ বছর আগেই ২০২৮ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। চীনের মতো একইভাবে বাংলাদেশও যেহেতু করোনাভাইরাসের মধ্যেও কিছুটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে তাই সামনের বছরগুলোয় বাংলাদেশে ধারাবাহিক ও জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করছে সিইবিআর। সিইবিআর তাদের রিপোর্টে বলছে, কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগের বছরগুলোয় বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ ভালো। এবং এটা ঘটেছে দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও। গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে গড়ে ১ শতাংশ হারে। বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় কভিড-১৯ যেভাবে ছড়িয়েছে, সে তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ অনেক সীমিত রাখা গেছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছে ৭ হাজার ৫২ জন। প্রতি ১ লাখে মাত্র চারজন। যদিও এ মহামারীর কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ছিল সীমিত, তা সত্ত্বেও অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে এটি। কারণ মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে চাহিদা গিয়েছিল কমে, আর আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা এড়াতে পেরেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। সিইবিআরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে। তবে এর পরের ১০ বছরে এ হার কিছুটা কমে গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। সিইবিআর বলছে, ২০২০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি আছে ৪১ নম্বরে। ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তি। ২০২০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩৯ ডলার। এ হিসাব পিপিপি বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটিকে হিসাবে নিয়ে করা। বাংলাদেশকে এখন একটি নিম্নমধ্য আয়ের দেশ বলে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশের নাটকীয় উত্থান : সিইবিআরের সূচক অনুযায়ী বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো এক নম্বর শক্তি যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে চীন ও জাপান। প্রথম ১০টি দেশের তালিকায় এরপর ক্রমান্বয়ে আছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা ও কোরিয়া। ২০৩৫ সাল নাগাদ এ প্রথম ১০টি দেশের তালিকা থেকে ঝরে যাবে ইতালি, কানাডা ও কোরিয়া। তাদের স্থলে প্রথম ১০ দেশের তালিকায় ঢুকবে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও রাশিয়া। ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রথম ২৫ দেশের তালিকায় যুক্ত হবে তিনটি নতুন দেশ ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের অবস্থান হবে ১৯, ফিলিপাইনের ২২ আর বাংলাদেশের ২৫। এর মধ্যে বাংলাদেশের উত্থানকেই সবচেয়ে নাটকীয় বলতে হবে। বর্তমান র?্যাংকিং ৪১ থেকে বহু দেশকে টপকে বাংলাদেশ পৌঁছাবে ২৫ নম্বরে।

২৫টি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সূচক : যেসব অর্থনীতিকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাবে তার মধ্যে আছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা, ইসরায়েল, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নাইজেরিয়া, বেলজিয়াম, সুইডেন, ইরান ও তাইওয়ান। বর্তমান বিশ্ব সূচকে এ দেশগুলো বাংলাদেশের ওপরে, কারণ তাদের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে বড়।