শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

আ‌দিতমারীতে তথ্য না দেয়ায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

 

 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:তথ্য অধিকার আইনে তথ্যের জন্য আবেদন করেও তথ্য না দেয়ায় প্রথমবারের মত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।

উপজেলার ভেলাবাড়ী কেরামতিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগটি দায়ের করেন মাহমুদুল হাসান।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ভেলাবাড়ী কেরাম‌তিয়া দা‌খিল মাদরাসার অফিস সহকারী ‌মো. এজাজুল ইসলাম তথ্য গোপন করে একাই দুই পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি মাদরাসায় অফিস সহকারীর পাশাপাশি আইন মন্ত্রনালয়ের বিচার শাখা-৭ এর আওতায় ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবেও ১৭/১৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এক ব্যাক্তি দুই পদে দায়িত্ব পালন দেখিয়ে সরকারী সুবিধা ও ভাতাদি উত্তোলন করে আত্নসাৎ করছেন। যা শিক্ষক কর্মচারী এম‌পিও নী‌তিমালা-২০১৮ এর ১১.১০ (ক), ১৭.৩, ১৮ (গ) (চ), এবং ১৮.২ নং শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দ্বৈত পেশার এ তথ্য গোপন রেখে উক্তি অফিস সহকারী ও নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. এজাজুল ইসলামের এমপিও ভুক্তিতে অবৈধ সুযোগ প্রদানের অভিযোগ উঠে ভেলাবাড়ী কেরামতিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আবু নোমান মোঃ নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

মাদরাসার অফিস সহকারী ‌মো. এজাজুল ইসলামের নিয়োগ ও এমপিও ভুক্তির বিষয়ে তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ফরমে সুপার বরাবরে একটি আবেদন করেন দুর্গাপুরের মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মাহমুদুল হাসান। উক্ত আবেদন ফরমটি সরাসরি সুপার আবু নোমান মোঃ নুরুজ্জামানের নিকট জমা দিলে তিনি তা গ্রহন করেন নি। বরং উল্টো তথ্য চেয়ে আবেদনকারী মাহমুদুল হাসানকে গালমন্দ ও দুর্ব্যবহার করেন। কর্তৃপক্ষ ছাড়া তিনি কাউকে তথ্য দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

অবশেষে, মাহমুদুল হাসান তথ্য ফরমে তথ্য চেয়ে এবং তথ্য গোপন করার দায়ে সুপারের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এটি ছিল তথ্য অধিকার আইনে তথ্য না পেয়ে এ উপজেলার প্রথম কোন ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

আবেদনকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবকের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ কেউ কেউ অবৈধ সুযোগ নিয়ে একাই দুই পদে সরকারী সুবিধা নিয়ে আত্নসাৎ করছেন। লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় প্রায় ৩০/৩৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার তথ্য গোপন করে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় বিভিন্ন পদে চাকুরী করছেন। এ ক্ষেত্রে সেবাগ্রহিতারা কাংঙ্খিত সেবা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন। তেমনি বেকারত্বও বাড়ছে। এ বিষয়ে তথ্য নিতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনটি গ্রহন করেননি ভেলাবাড়ী কেরামতিয়া মাদরাসার সুপার। উল্টো আমাকে গালমন্দ করেছেন।

ভেলাবাড়ী কেরামতিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আবু নোমান মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, সরকার আইন করেছে, তারা সরকারের কাছে তথ্য নিবেন। আমি কর্তৃপক্ষ ছাড়া কাউকে তথ্য দিতে বাধ্য নই। যিনি আবেদন করেছেন, তিনি আমার কর্তৃপক্ষ নন। সুতরাং আমি তাকে তথ্য দেইনি, দিবও না। তবে, তথ্য গোপন করে দ্বৈত পেশার বিষয়ে সুপার বলেন, আমি জানি আমার অফিস সহকারী এজাজুল নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তো কোন দিন তার এ তথ্য জানতে চায়নি। তাই দেয়া হয়নি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য না দেয়া ঠিক হয়নি। দ্বৈত পেশায় সরকারী সুবিধা গ্রহনও বিধি সম্মত নয়। অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST