সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১১:০৯ অপরাহ্ন

আদিতমারী ইউএনওকে হত্যার হুমকী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

মাহির খান :
উপজেলা প্রশাসনের সিসি ক্যামেরার সংযোগ খুলে ফেলা এবং তাতে বাঁধা দেয়ায় আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হত্যার হুমকী দেয়ার অভিযোগে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের সরকারি নথিপত্র হারিয়ে যাওয়া এবং রাজস্ব তহবিলের উনিশটি চেক বহির পাতা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে আরও একটি সাধারন ডায়েরী হয়েছে। আদিতমারী থানায় পৃথক দু’টি ডায়েরী রবিবার রাতে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আদিতমারী থানায় ৫৫৮ নং ডায়েরীটি করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। জিডিতে বলা হয়েছে আদিতমারী উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজের অংশ দাবি করেন।এতে বিধি মোতাবেক তালিকা প্রস্তুত করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বলা হলে উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে বের হয়ে চলে আসেন। সভা কক্ষ থেকে বেরিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী হুমায়ুনকে ইউএনও অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। সিসিটিভি ক্যামেরার বিদ্যুৎ সংযোগ খোলার কারণ জানতে চাইলে ইউএনও মনসুর উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় বেশি কথা বললে ‘পিটিয়ে লাশ নরসিংদী পাঠিয়ে দেব। উপজেলা পরিষদ কি তোর বাবার সম্পত্তি, উপজেলা পরিষদ কি তুই চালাবি?

অন্যদিকে আদিতমারী থানায় ৫৫৯ নং ডায়েরীটি করেন উপজেলা পরিষদের মুদ্রক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর হাবিবুর রহমান। ডায়েরীতে বলা হয় ১২নভেম্বর অফিস শেষে বাড়িতে চলে যান। ১৫নভেম্বর অফিসে এসে ভিতরের পকেট গেট খোলা দেখতে পেয়ে অফিসের চার জন সহকর্মীকে নিয়ে গচ্ছিত কাগজপত্র যাচাই করি। এসময় উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভার নথি, উপস্থিত হাজিরা, কর্মচারীদের হাজিরা খাতা এবং উপজেলা পরিষদের বেশ কিছু সরকারি নথি খুজে পাওয়া যায়নি।

রবিবার সকাল দশটা বিশ মিনিটে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ আরো ৫জন সহকারীর উপস্থিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস চেক বইটি ১০০ পাতার দেখতে চেয়ে হাতে নেন। এ অবস্থায় উপজেলা রাজস্ব তহবিলের হিসাব নং-৩৩০০৪৯৬৪ সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আদিতমারী শাখার উনিশটি চেক যা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন ব্যয় পরিশোধের নিমিত্তে যৌথ স্বাক্ষরিত ছিল। সেগুলো তিনি তাদের উপস্থিতিতে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে চেয়ারম্যান তার নিজের নিকট সংরক্ষণ করেন।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম দু’টি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) হবার কথা স্বীকার করে বলেন, দু’টি জিডি তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস এর সাথে যোগাযো করা হলে তিনি বলেন, আমাকে ফাঁসাতেই নতুনভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সে কারনেই জিডি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। চেকগুলোতে তার (চেয়ারম্যান) কোন স্বাক্ষর ছিল না বলে দাবি করে তিনি আরো বলেন, এই অভিযোগ অন্যদের সাথে নিয়ে রবিবার (আজ) করেছেন।

এদিকে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উপজেলার ১৭ কর্মকর্তার দেয়া অভিযোগের তদন্ত রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। লালমনিরহাট স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মোঃ রফিকুল ইসলাম সকলের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই তদন্ত কার্যক্রম চলে। এসময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। কমিটি আগামী মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে বলে জানা গেছে

Print Friendly, PDF & Email
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST