1. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  2. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
রমেকে বেড়েই চলছে দুর্ভোগ! | রংপুর সংবাদ
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

রমেকে বেড়েই চলছে দুর্ভোগ!

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ১২

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে দিন দিন বেড়েই চলেছে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের দুর্ভোগ। হাসপাতালের বিকল যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে সচল না হওয়ায় এক ধরনের অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতাল বিমুখ হয়ে রোগীরা দারস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের। বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে গিয়ে বেড়ে গেছে প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসার ব্যয়ভার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের এনজিওগ্রাম, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সিটি স্ক্যান, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস মেশিন, অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণ মেশিনসহ বিভিন্ন মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অচল হয়ে পড়ে থাকা এসব যন্ত্রপাতি কবে নাগাদ সচল হবে তাও জানা নেই হাসপাতালের পরিচালক। তবে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে অচল যন্ত্রপাতি ভালো করতে দেরি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে করোনা ভীতির কারণে এখন চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। ঠিক মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে সেবিকাদের কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে তাদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হাসপাতালে আপাতত কোনো ব্যবস্থা নেই। অর্থাভাবে সরকারি হাসপাতালে আসা মানুষগুলোকে এখন বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। যার ব্যয়ভার বহন করা অনেকের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার কেউ কেউ সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

 

রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগটি ২৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কিডনি রোগে আক্রান্তরা তিন সপ্তাহেরও বেশি ডায়ালাইসিস করতে পারছেন না। ৮ এপ্রিল থেকে ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওয়ার্ডটি রোগী শূন্য হয়ে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত এই সেবা গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ১২-১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বেশির ভাগ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে পারেননি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, দুটি মেশিন নষ্ট হওয়ায় ডায়ালাইসিস করা যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে প্রকৌশলীরা মেশিন মেরামতের জন্য আসবেন, তারা দেখার পর বলা যাবে কবে নাগাদ কিডনি ওয়ার্ড চালু করা যাবে। তবে ডায়ালাইসিস করতে না পেরে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

কিডনি রোগে আক্রান্ত গাইবান্ধার বিমল চন্দ্র বর্মন ৯ দিন ধরে ডায়ালাইসিস করাতে পারছেন না। এই রোগী বলেন, হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে গত ২৩ এপ্রিল ভর্তি হয়েছি। ৯ দিন ধরে শুধু শুনছি, মেশিন দ্রুত ঠিক করা হবে। কিন্তু অচলাবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এভাবে ডায়লাইসিস করাতে না পারলে তো চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে হবে।

একই অবস্থা অন্য রোগীদেরও। ডায়ালাইসিসের পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট এবং বেশ কয়েকটি ডায়ালাইসিস মেশিন বিকল হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝেই এই ডায়ালাইসিস মেশিন দুটি বিকল হয়। এ ছাড়াও হাসপাতালের এনজিওগ্রাম, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সিটি স্ক্যান ও অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণ মেশিনগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে।

কিডনি ওয়ার্ডের ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান জানান, এই ওয়ার্ডে ডায়ালাইসিস মেশিন আগে ছিল ৩০টি, এখন ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাকিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। তারপরও রোগীদের সেবা দেওয়া চলছিল। কিন্তু দুটো মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিন সপ্তাহ ধরে ডায়ালাইসিস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জন রোগী মারা গেছেন। আবার অনেকে ফোন করে কয়েকজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।

নেফ্রোলজি বিভাগে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ হয় ৪০০ টাকা। কিন্তু বাইরে ডায়ালাইসিস করাতে গেলে ৩ হাজার টাকার বেশি লাগছে। প্রতি মাসে রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগ ৪ লাখ টাকারও বেশি আয় করে থাকে। মাত্র ৭ লাখ টাকা খরচ করে দুটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট বসালে সচল হবে অচল মেশিন দুটি। কিন্তু সেই উদ্যোগ নিতে অযুহাতের অন্ত নেই কারো।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ জন রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস করা হতো। একজক কিডনি রোগীকে চার ঘণ্টাব্যাপী ডায়ালাইসিস করতে হয়। রমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে ছয় মাসের প্যাকেজে মাত্র ২০ হাজার টাকা লাগে। প্রতিবার ডায়ালাইসিস করতে খরচ পড়ে ৪০০ টাকা। আর বাইরে করলে প্রতিবারে খরচ তিন হাজার টাকা।

ডায়ালাইসিসের অচলাবস্থার কথা স্বীকার করে মেশিন মেরামত করতে না পারার পেছনে লকডাউনকে দুষছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, হাসপাতালের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সিটি স্ক্যান মেশিন হ্যান্ডওভার করা হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে চালু করা হবে।

এ ছাড়া কিডনি বিভাগের দুটি মেশিন মেরামত করার জন্য ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ওয়ার্কশপকে জানিয়েছি। রোববার দুপুরে তারা এসে মেশিনের কি কি নষ্ট তা দেখেছেন। এখন আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। আশা করছি এই সংকট আর থাকবে না।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun