1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে’ হিমাংশুকে - রংপুর সংবাদ
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে’ হিমাংশুকে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২২

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ‘এক লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে’ হিমাংশু বর্মণকে (৩৫) ‘পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে’ বলে তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে। ফলে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেছে পরিবারটি। প্রায় একই দাবি করেছে এলাকার লোকজন। তবে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা (মালদহপাড়া) গ্রামের বাড়ি থেকে গত শুক্রবার সকালে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সবিতা রানীর (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর স্বামী হিমাংশু বর্মণ, মেয়ে পিংকি বর্মণ (১৩) ও ভাই খগেন রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় নেয়। ওই দিন বিকেলে হিমাংশুকে মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পিংকি ও খগেন রায়কে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই পুলিশ লুকোচুরি করে। সাংবাদিকরা ওই দিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাতীবান্ধা থানা ও হাসপাতালে অপেক্ষা করলেও পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ও ইউএনও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে রাজি হননি। তবে রাতে পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সবিতার মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি হিমাংশু, পিংকি ও খগেন রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক কক্ষে রেখে তাদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অফিসাররা তাদের সেখানেই রেখে খেতে গেলে বিকেলে হিমাংশু কক্ষে থাকা ব্রডব্যান্ডের তার গলায় পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।’

তবে হিমাংশু বর্মণের মেয়ে পিংকি বর্মণ  বলে, ‘বাবার সাথে আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশ বাবাকে আলাদা জায়গায় রেখেছিল; আমাদেরও রেখেছিল আলাদা জায়গায়। বিকেল ৪টায় কিভাবে বাবার মৃত্যু হয়েছে জানি না। তবে বাবা মারা যাওয়ার খবর আমি পেয়েছি রাত ১০টায়।’

হিমাংশুর বাবা বিশ্বেশ্বর বর্মণ বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হিমাংশুর সাথে থানায় দেখা হয় আমার। তখন সে আমাকে জানায়, পুলিশ তার (হিমাংশু) কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছে। এই টাকা দিলে বাবা-মেয়েকে ছেড়ে দেবে, নইলে দুজনকে জেলে পাঠিয়ে দেবে।’ আর কিছু বলতে পারেন না বিশ্বেশ্বর, কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশ্বেশ্বরের কাছেও পুলিশ টাকা দাবি করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে হিমাংশুর স্ত্রী সবিতা রানী নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন বলে জানতে পারে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হিমাংশুকে তাঁর স্ত্রীর মরদেহের পাশে দেখতে পায়। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলমসহ একদল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে লাশসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হিমাংশু ও তাঁর বড় মেয়ে পিংকিকে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যক্তিরা দাবি করেছে, হিমাংশু আত্মহত্যা করলে বাড়িতেই করতেন; থানায় গিয়ে জানালায় ঝুলে আত্মহত্যার সুযোগ নেই। হিমাংশুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ রায় ও সীতা রাম বলেন, ‘সুস্থ অবস্থায় হিমাংশুকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে পুলিশ। ইন্টারনেটের তার হাত দিয়ে ছিঁড়ে জানালায় ঝুলে আত্মহত্যার গল্প সাজানো হয়েছে।’ কাজলী রানী বলেন, ‘আমরা কোনো দিনই হিমাংশুর বাড়িতে অশান্তির খবর পাইনি। তাঁরা দুজনেই সাদামাটা মানুষ ছিলেন।’

হিমাংশু থানায় আত্মহত্যা করেছেন—আবারও এমন দাবি করে ওসি এরশাদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত হিমাংশু বা তাঁর বাবার কাছ থেকে কোনো টাকা দাবি করেনি পুলিশ।’

ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘এ’ সার্কেল) মারুফা জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসি আমিনুল ইসলাম ও কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, হিমাংশু বর্মণের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ পৌঁছলে একসঙ্গে দুজনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun