রংপুর সংবাদ » ভারতের নাগরিকত্ব আইন বৈষম্যমূলক: জাতিসংঘ

ভারতের নাগরিকত্ব আইন বৈষম্যমূলক: জাতিসংঘ


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯, ৩:৩৭ অপরাহ্ন
ভারতের নাগরিকত্ব আইন বৈষম্যমূলক: জাতিসংঘ

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে গত ১০ ডিসেম্বর ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন আইনকে মুসলমানদের জন্য ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে পুনর্বিবেচনার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর।

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহবান জানানো হয়।

বিবৃতিতে মানবাধিকার বিষয় মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স বলেন, ভারতের পাশ হওয়া নতুন নাগরিকত্ব আইনটি মৌলিক চরিত্রের দিক দিয়েই বৈষম্যমূলক এবং এ বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা জানি যে এই আইনের বৈধতা ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং আমাদের আশা মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনে ভারতের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে নাগরিকত্ব আইনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

জেরেমি লরেন্স তার বক্তব্যে আরো বলেন, আইনটিতে ছয়টি ধর্মের মানুষের কথা উল্লেখ থাকলেও মুসলমানদের কথা বলা নেই। এতে সংবিধানে বর্ণিত সবার জন্য সমতা নিশ্চিত হয়নি।

এর আগে ১০ ডিসেম্বর ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয় প্রস্তাবটি। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে গিয়ে ভারতে শরণার্থী হওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয় এই প্রস্তাবে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ১১ বছর ধরে যারা ভারতে থাকেন সেই সকল ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। সংশোধনে সময় কমিয়ে এটিকে পাঁচ বছর করা হয়। তবে আইনে বাইরে থেকে আসা মুসলিমদের কথা বলা হয়নি।

প্রস্তাবটি ভারতের নিম্ন আদালতে গৃহীত হওয়ার পর থেকে গত দুদিন ধরে সহিংস বিক্ষোভ চলছে ভারতের বিভিন্ন অংশে। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন দুইজন। শুক্রবার সংঘাত ছড়িয়েছে রাজধানী দিল্লিতেও।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বলছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেয়াই আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য। ওই তিন দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘিষ্ঠ নয়, ফলে তাদের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হতে হয় না।