গাইবান্ধায় স্কুলের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
গাইবান্ধায় স্কুলের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ | রংপুর সংবাদ
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ন



গাইবান্ধায় স্কুলের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ১০

সুমন মন্ডল গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের পাঠানডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ, ফসলের জমি ভোগ দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজে কলমে বিদ্যালয়টি ৫৬ শতক হলেও বিদ্যালয়ের মুল অবকাঠামো রয়েছে ১৪ শতকের উপরে। বাকি ৪২ শতক প্রধান শিক্ষকসহ অপর দুই শিক্ষক নিয়ম বহির্ভূত ভাবে জায়গা দখল করে আছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারে ইউএনও ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে গত ২১ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলীসহ অপর দুই শিক্ষকের বেতন সাময়িক স্থগিত করা হয়।

১৯৮৭ সালে স্থানীয় কিছু ব্যাক্তির উদ্যোগে পাঠানডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি সরকারিকরনের জন্য বিদ্যালয়ের নামে ৫৬ শতক জমি দান করায় মোঃ শাহাদাত হোসেন সাদা, মোঃ শাহজাহান, মোঃ আল-আমিন রাজস্ব খাতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পায় । বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪ শতক জায়গার উপর দুটি ভবন রয়েছে। বাকি ৪২ শতক জায়গার মধ্যে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক শাহাদাত হোসেন ১৫ শতক, সহকারীশিক্ষক মোঃ আল আমিন ১৩ শতক জমি দখল করে আসছে। বিদ্যলয়টির বাকি ১৩ শতক জায়গায় প্রধান শিক্ষক নিজেই বাড়ি করে আছে। সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় জমিগুলোর খাজনা দেওয়ার লাগে না আর এই সুযোগে আবাদকৃত ফসলের টাকা বিদ্যালয় তহবিলে জমা না করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে তারা। এদিকে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো বিদ্যালয়টির নেই খেলার মাঠ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অপর দুই সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ের জায়গা ভোগ দখল করে আসছে। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাপটপ, অফিসের চেয়ারও নিজের বাড়িতে নিয়ে ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয়টির সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আংটু জানান, আমি প্রধান শিক্ষকের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায়, এটিওর কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। শাহাজাহান আলী ম্যানেজিং কমিটির সাথে মতবিনিময় না করেই একক সিদ্ধান্তে সব কিছু করেন। এবং নিজের খেয়াল খুশি মতো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পরিবর্তন করে।

বিদ্যালয়টির বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ ফরহাদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করা নিয়ে ইতিপুর্বে অনেক শালিস বৈঠক এমনকি মারাপিটের ঘটনাও ঘটেছে। সরকারের নজর দাবির অভাবে তারা এইভাবে সরকারি সম্পত্তি ভোগ দখল করে খাচ্ছে। আমরা ইউ এন ও এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের গত ২১ তারিখে লিখিত অভিযোগ করলে তারা প্রধান শিক্ষকের বেতন সাময়িক স্থগিত করেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সরকারি জায়গায় বাড়ি করিনি। যদি সরকার আমার কাছে জমি চায় তাহলে আমি অন্য জমি দিবো। এই জায়গায় তো বাড়ি নির্মাণ করা আছে তাই এই জায়গা ছেড়ে দেওয়া এখন সম্ভব নয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান আমরা ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রাথমিকভাবে তাদের বেতন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ