সমর্থন কমা নিয়ে চিন্তিত বিএনপি | রংপুর সংবাদ
  1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : Manik Ranpur
  4. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
সমর্থন কমা নিয়ে চিন্তিত বিএনপি | রংপুর সংবাদ
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন



সমর্থন কমা নিয়ে চিন্তিত বিএনপি

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

রংপুর সংবাদ ডেস্কঃ

বিএনপির সমর্থন কমে গেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আবার কারো কারো মতে, সমর্থন আগে থেকেই কম ছিল। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়। আর এমন পরিস্থিতি দলটিকে ভাবিয়ে তুলছে। ভেতরে ভেতরে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও মূল্যায়ন চলছে বলে জানা গেছে।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথায় পুরোপুরি একমত নন।  তিনি বলেন, ‘সুধীসমাজে বিএনপির সমর্থন কমে গেছে বলে আমি মনে করি না। বরং বেড়েছে।’ তাঁর মতে, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে সুধীসমাজের অনেকের মনে ভয়-ভীতি এবং ত্রাসের সঞ্চার হয়েছে। ফলে সত্যি কথা বলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’

‘বর্তমান আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে সুধীসমাজ তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বরং পরোক্ষভাবে তাদের সমর্থন করেছে যা করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি প্রথম থেকেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। অথচ জামায়াতকে ইস্যু বানিয়ে তারা (সুধীসমাজ) দেশের গণতন্ত্রের মূল সংকটকে পাশ কাটিয়ে গেছে’ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশের প্রভাবশালী একটি দৈনিকের সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের সংবাদ সম্মেলন নিয়েও সুধীসমাজের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে বিএনপির একটি অংশ মনে করে। যদিও রিজভী আহমেদের নিজের ইচ্ছায় নয়, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে এতে দলের ক্ষতি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তাই ওই ঘটনা বিএনপির সব নেতা সমর্থন করেননি বলে জানা যায়। ঘটনার পরের দিন দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একজন সদস্য এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দাবি তুললেও উপস্থিত অন্য নেতারা তা সমর্থন করেননি। আর এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ওঠেনি বলে জানা গেছে।

২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাসহ দলটির সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এমনকি প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদসহ বিএনপি সমর্থক সুধীসমাজের প্রতিনিধিরাও এ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। দেশের বেশির ভাগ গণমাধ্যমের অবস্থান এ কারণেও বিএনপির বিরুদ্ধে বলে কেউ কেউ মনে করেন।

আবার অনেকের মতে, প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরেও বিএনপির দর্শনগত বা আদর্শিক অবস্থান নির্ধারিত হয়নি। পাশাপাশি নেতৃত্বের দূরদর্শিতার অভাবে সুধীসমাজসহ পেশাজীবী বিভিন্ন শ্রেণির সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়নি, যার অভাব আজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডও এমন পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে কেউ কেউ মনে করেন।

ওই বছর নির্বাচন পরিচালনায় তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠিত ‘হাওয়া ভবনে’র ভূমিকা প্রথম দিকে প্রশংসিত হলেও পরে এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ২০০৫ সালে সুধীসমাজের ৩৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাওয়া ভবন বন্ধ করা উচিত বলে মত দেয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করলে খালেদা জিয়া ওই দিন ওই প্রতিনিধিদলটির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বলে জানা যায়।

সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেদিন এমনই রুষ্ট হয়েছিলেন যে, উপস্থিত বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ অপমানিত বোধ করেছেন। আর সেদিনের বৈঠকের কারণে হাওয়া ভবন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। সিএনএ (সেন্টার ফর ন্যাশনাল এজেন্ডা) ব্যানারে যাওয়া সুধীসমাজের ওই প্রতিনিধিদের অনেকে সেদিনের ঘটনার পর বিএনপির সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি বলে জানা যায়। ওই ঘটনার উদারণ দিয়ে সুধীসমাজের দু-একজন সদস্য  বলেন, ‘তাহলে বুদ্ধিজীবীরা বিএনপির সঙ্গে কেন থাকবে বলুন?’

প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান মিয়া, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ও সাদেক খান ছাড়াও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, তবারক হোসেন, সাংবাদিক নেতা রিয়াজউদ্দিন আহমেদ ৩৩ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

সুধীসমাজের সমর্থন পাওয়া থেকে বিএনপির পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী  বলেন, ‘সুধীসমাজের মধ্যে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগের প্রভাব আগেও বেশি ছিল; এখনো আছে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দিয়ে আওয়ামী লীগ সুধীসমাজকে ব্যবহার করতে জানে। কিন্তু বিএনপি সুধীসমাজকে ব্যবহার করতেও শেখেনি।’ তাঁর মতে, ‘বিএনপি ডেকে কারো সঙ্গে আলাপও করে না, কাউকে সম্মানও দেয় না। এটি তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সুধীসমাজে তাদের কোনো সমর্থনই থাকবে না।’

২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি মিলনায়তনে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজন দুর্বৃত্তের হাতে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নিয়েও সুধীসমাজের মধ্যে নানা আলোচনা আছে। কারণ ওই ঘটনার কিছুদিন আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তারেক রহমানের দর্শন নিয়ে তিনি বক্তৃতা দিয়েছেন। অনেকের সন্দেহ, ওই ঘটনার সঙ্গে হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এবং খালেদা জিয়া নিজেও বহুবার ওই ঘটনা সম্পর্কে মাহবুব উল্লাহর কাছে জানতে চাইলেও কৌশলগত কারণে তিনি সব সময়ই নীরব থেকেছেন। এ প্রশ্নে কালের কণ্ঠ’র কাছেও তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ অবশ্য মনে করেন, ‘রাজনীতিতে বিএনপি ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে পারেনি। তাঁর মতে, ‘রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে বার্তা পৌঁছানো যায় এবং সেই বার্তার শক্তি যে অনেক বেশি এবং সুদূরপ্রসারী সেটিও বিএনপি উপলব্ধি করেনি। তা ছাড়া একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটির দর্শন বা অঙ্গীকার কী সে সম্পর্কেও ধারণা বিএনপিতে অনেকটা অস্পষ্ট। নিজস্ব দর্শন সম্পর্কে দলটি উপলব্ধি করতে পারছে বলে মনে হয় না।’

‘ক্ষমতায় থাকতে একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক বিতরণেও বাণিজ্য হয়েছে’ এমন অভিযোগ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রে সরকারে থাকার সময় ক্ষমতাসীন দলকে সমাজের সঙ্গে কোয়ালিশন স্থাপন করতে হয়। এ জন্য বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিএনপির ঘাটতি আছে।’

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সুধীসমাজে বিএনপির সমর্থন কমার পেছনে সুবিধাভোগিতা কমে যাওয়া একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন।  তিনি বলেন, ‘বিএনপি বহুদিন ধরে ক্ষমতায় নেই। ফলে সে কাউকে সুবিধা দিতে পারছে না।’ আইডলজি আরেকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কারণে যাঁরা বিএনপিকে সমর্থন করেছেন তাঁরা এখনো আছেন। কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের কাছে টানতে হলে তাঁদের সম্মান করতে হয় দলের নেতাদের বা এক লেভেলে চিন্তা করতে হয়। কারণ এরা কিন্তু সাধারণত আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ হয়।’ আমি মনে করি, ‘ডেডিকেশন লয়ালিটি ও ভালোবাসার মূল্য বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে নেই। হয়তো যথাযথ সম্মান পাননি বলেই আস্তে আস্তে বুদ্ধিজীবীরা সরে এসেছেন’ বলেন বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, ‘আওয়ামী লীগকে সুধীসমাজের লোকেরা ঐতিহ্যগতভাবে সেক্যুলার ভাবে। তা ছাড়া সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এবং ভারত প্রশ্নে বিএনপি যে রাজনীতি করে সেটিও সুধীসমাজ গ্রহণ করে না। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে পছন্দ না করলেও বিএনপির তুলনায় তাঁরা কম অনিরাপদ ভাবেন।’ রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশ্নে বিএনপির পছন্দের জায়গাটিও সুধীসমাজের পছন্দের নয় এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-এলাহী এবং মসিউর রহমানের মতো লোকেরা শেখ হাসিনার উপদেষ্টা। অথচ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন হারিস চৌধুরী ও মোসাদ্দেক আলী ফালু। এ ঘটনা জনগণ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।’



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ





© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ