রংপুর সংবাদ » দেড় যুগেও চালু হয়নি রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র

দেড় যুগেও চালু হয়নি রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ৯, ২০১৯, ৫:৫৭ অপরাহ্ন
দেড় যুগেও চালু হয়নি রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র

রংপুর প্রতিনিধিঃ

৯ ডিসেম্বর ভারতীয় উপমহাদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস।

এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ও রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দসহ দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় তার নীতি ও আদর্শকে। মহীয়সী এই নারীর স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার। যেখানে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা আর অধিকার নিয়ে বাঁচবে।

ধর্মান্ধতার বেড়াজাল ভেদ করে রোকেয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে গেছেন।

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ এই দিবসটি পালন করা হলেও তার স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান পায়রাবন্দে অন্ধকারে পড়ে আছে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি। আঠারো বছরেও আলোর মুখ দেখেনি এটি।

আইনি জটিলতা কাটিয়েও সরকারি উদ্যোগের অভাবে এখনো কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে পায়রাবন্দবাসী নয় গোটা রংপুরের সুশীল সমাজের লোকদের মনে ক্ষোভে আগুন জ্বলছে।
অথচ নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়ার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে গবেষণা, তার গ্রন্থাবলীর অনুবাদ, প্রচার ও প্রকাশনা, সংস্কৃতি চর্চা এবং স্থানীয় যুবাদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ২০০১ সালে স্মৃতিকেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল।

কিন্তু বিভিন্ন প্রতিক‚লতার কারণে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং তিন একর ১৫ শতক জমির ওপর নির্মিত কেন্দ্রটি দেড় যুগ ধরে বন্ধ থাকায় আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন উপকরণ নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে এটি অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পরে ২০০১ সালে তিনি এ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রথমে কেন্দ্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও তিন বছর পর বাংলা একাডেমি স্মৃতিকেন্দ্রটির দায়িত্ব নেয়।

২০০৮ সালে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে বাংলা একাডেমির কাছ থেকে এটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলা একাডেমির অধীনে স্মৃতিকেন্দ্রটি হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করা হয়।

এতে স্মৃতিকেন্দ্রটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে আজ পর্যন্ত বন্ধ থাকা বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি চালুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের মূল ভবনের সামনেই রয়েছে পিতলের তৈরি রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য। স্মৃতিকেন্দ্রটিকে ঘিরে রয়েছে রেস্টহাউস, মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ, লাইব্রেরি, গবেষণাগার, সংগ্রহশালা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নামাজ ঘর ও স্টাফ কোয়ার্টার। বর্তমানে এতে কর্মরত আছেন একজন উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক ২ জন কর্মচারী রয়েছেন।
পায়রাবন্দ রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, যে কারণে এই রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য এখন তালা বন্দি।

এখানে অনেক কিছুই হবার কথা ছিল, কিন্তু উদ্যোগের কারণে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। স্মৃতিকেন্দ্রটি দ্রæত চালু করে বেগম রোকেয়ার জীবনের ওপর গবেষণা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আইনি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাংলা একাডেমিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রটি চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।